বিছানাকান্দি

বিছানাকান্দি (Bichnakandi) মূলত একটি পাথর খনি। ভারতের খাসিয়া পর্বত থেকে পানির প্রবাহ এসে এখানে মিলিত হয়েছে এবং হ্রদের সৃষ্টি করেছে। এই হ্রদ পিয়াইন নদীর সাথে মিশেছে। পানির প্রবাহ সাথে বয়ে নিয়ে আসে প্রচুর পাথর। বিছানাকান্দির এখানে সেখানে ছড়িয়ে আছে পাথর আর পাথর। দেখে মনে হয় যেন এক পাথরের বিছানা। নদীর স্বচ্ছ পানি, পাথর, পাহাড় আর আকাশ মিলিয়ে এখানকার সৌন্দর্য অসাধারণ।

বিছানাকান্দি কোথায় অবস্থিত?
বিছানাকান্দি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তম ইউনিয়নে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার।

বিছানাকান্দি কিভাবে যাবেন?
বিছানাকান্দি যেতে হলে প্রথমেই আপনাকে আসতে হবে বাংলাদেশের সিলেট জেলায়। রাজধানী ঢাকা থেকে আপনি সড়ক, রেল এবং আকাশ পথে যেতে পারেন সিলেট শহর। হানিফ, শ্যামলী, গ্রিনলাইন ইত্যাদি পরিবহনের বাস প্রতিদিন সকাল ৬ থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত একটু পর পর সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং সিলেট থেকে ঢাকায় আসে। ভাড়া ৫০০/- থেকে ১০০০/- টাকা। এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বেশ কিছু ট্রেন সিলেট যায়। আপনি ঢাকা থেকে আকাশ পথেও যেতে পারেন। প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ফ্লাইট চলাচল করে। সময় নিবে প্রায় ৪৫ মিনিট। ভাড়া ৩০০০/- থেকে ৫০০০/- টাকা।

রাতারগুল

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট (Ratargul Swamp Forest) বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। সিলেটের স্থানীয় ভাষায় মুর্তা বা পাটি গাছ কে “রাতা গাছ” বলে। সেই রাতা গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম রাতারগুল। সারা বছর এই বন প্রায় ১০ ফুট পানির নিচে থাকে। বর্ষাকালে যার পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় ২০-৩০ ফুট। এখানে জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালার ভিতর দিয়ে ডিঙি নৌকায় ঘুরেবেড়াতে দারুন মজা। এটি পৃথিবীর বিখ্যাত কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি।

রাতারগুল কোথায় অবস্থিত?
রাতারগুল বাংলাদেশের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে গুয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার।এই বনের দক্ষিণ দিকে রয়েছে আরো দুটি হাওর: শিমুল বিল হাওর এবং নেওয়া বিল হাওর। এই বনের আয়তন প্রায় ৩,৩২৫.৬১ একর।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

কুয়াকাটা (Kuakata Sea Beach) বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত এক সুন্দর সমুদ্র সৈকত ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট একে অন্য সব সৈকত থেকে আলাদা করেছে। এর দৈর্ঘ প্রায় ১৮ কিলোমিটার। অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকরা একে বলে “সাগর কন্যা”।

কুয়াকাটা কোথায় অবস্থিত?
কুয়াকাটা বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নে অবস্থিত। ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার, পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার, এবং বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।

কুয়াকাটার ইতিহাস
কুয়াকাটা নামকরণে সাথে রাখাইনদের ইতিহাস জড়িত। ১৭৮৪ সালে বার্মিজ রাজা বোদ্রোপা আরকান রাজ্য জয় করে নেয়। তিনি রাখাইনদের ওপর অনেক অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করে দেন। তাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে রাজ্যের মেঘাবর্তী হতে ১৫০টি রাখাইন পরিবার বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানাধীন মৌডুবি এলাকায় চলে আসে। কথিত আছে তারা ৫০ টি নৌকা দিয়ে আসে এবং তাদের সময় লেগেছিলো তিন দিন তিন রাত। উক্ত অঞ্চলটি তখন বন জঙ্গলে ভর্তি ছিল। তার বনের হিংস্র জীব জন্তুর সঙ্গে যুদ্ধ করে, জঙ্গল কেটে পরিস্কার করে চাষাবাদ শুরু করেন।

জনসংখ্যা বাড়ার কারণে এক পর্যায়ে তারা চলে আসে কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের সাগর পাড়ে। সাগর পাড়ে এসে তাদের পানীয় জলে অভাব দেখা দেয়। মিঠা পানির জন্য তারা এখানে একটি কুয়া খনন করে। এখানে কুয়া কাটার জন্য এলাকাটির নাম আসতে আসতে হয়ে পরে কুয়াকাটা। সেই প্রাচীন কুয়াটি এখনো বিদ্যমন।

কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান
কুয়াকাটায় সমুদ্র সৈকত ছাড়াও আসে পাশে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। এই স্থানগুলোর বেশির ভাগই জিরো পয়েন্ট মানে প্রধান বিচ থেকে পশ্চিম এবং পূর্ব দিকে অবস্থিত। পশ্চিম দিকের স্থানগুলো হলো: শুঁটকি পল্লী, লেবুর চর, ঝিনুক বীচ, ফাতরার বন, ঝাউ বন, তিন নদীর মোহনা। পূর্ব দিকের স্থানগুলো হলো: কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির, ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী নৌকা, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, কুয়াকাটার কুয়া, কাউয়ার চর, চর গঙ্গামতী, লাল কাঁকড়ার চর, রূপালী দ্বীপ, রাখাইন পল্লী, বার্মিজ মার্কেট ইত্যাদি।

কুয়াকাটা যাবার উপায়
কুয়াকাটা সড়ক পথে বা নদী পথে যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে দ্রুতি পরিবহন, সাকুরা পরিবহন, সুরভী পরিবহনের বাস করে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। এসব বাসের জনপ্রতি ভাড়া ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ১০০০ টাকা। এছাড়াও প্রতিদিন সকাল ও রাতে কমলাপুর বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। বাসগুলো আপনাকে একদম বীচের কাছেই নামিয়ে দিবে। হেঁটেই বীচে চলে যেতে পারবেন।

এছাড়া প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বেশ কিছু লঞ্চ পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। লঞ্চ গুলো বিকাল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে যাত্রা শুরু করে। ভাড়া ৮০০ থেকে ১৮০০ টাকা। ডেকে গেলে আরো কম। যেকোনো একটায় চেপে চলে আসতে পারেন পটুয়াখালী। পরে সেখান থেকে বাস, মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কার নিয়ে চলে যাবেন কুয়াকাটা। পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটার দুরুত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। বাস বাড়া ১৩০-১৫০ টাকা।

এছাড়া বরিশাল পর্যন্ত লঞ্চ বা প্লেনে এসে সেখান থেকে সড়ক পথে আসতে পারেন কুয়াকাটা। বরিশাল থেকে কুয়াকাটার দুরুত্ব প্রায় ১০৮ কিলোমিটার। তবে সব কিছু বিবেচনা করে ঢাকা থেকে এসি বাসে গেলেই ভাল। ফেরিঘাটে অপেক্ষা করা লাগেনা। আর ঘুরাঘুরির জন্য সময় একটু বেশি পাওয়া যায়। কারণ বাসগুলো সন্ধ্যা সাত টার পর কুয়াকাটা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। যেখানে লঞ্চ ছাড়ে বিকালে।

কুয়াকাটায় কিভাবে ঘুরাঘুরি করবেন
কুয়াকাটার রাস্তা ঘাট তেমন উন্নতমানের না। সব সময়ই বীচ দিয়েই চলাফেরা করা লাগে। আর বালুময় এই বীচের সব থেকে ভালো বাহন হচ্ছে মোটর সাইকেল। ঢাকার পাঠাও বা উবারের মতো এখানে মোটর সাইকেল পাওয়া যায়। তবে বুকিং দিতে অ্যাপস লাগেনা। ড্রাইভাররাই রিকশার মতো আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। পিছনে ১-২ জন নিয়ে খুব সহজে আর দ্রুত বিভিন্ন পয়েন্টে চলে যায়। এতে খরচ ও সময় কম লাগে।

তবে এক সময় কেবল মোটর সাইকেলই একমাত্র বাহন ছিল। এখন ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা বা টেম্পু পাওয়া যায়। এগুলা দিয়ে বীচের বালুময় পথে খুব সহজে যাওয়া যায়। যারা ফ্যামিলি নিয়ে যাবেন তাদের জন্য মোটর সাইকেল সব সময় উপযুক্ত না। তাদের জন্য ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা বা টেম্পু সব থেকে ভালো। সব জায়গায়ই এগুলা নিয়ে যাওয়া যায়।

ড্রাইভাররা আপনারে ১২ স্পট, ১৪ স্পট বলে প্রিন্ট করা ছবি দেখিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। আপনি দরদাম করে ভাড়া ঠিক করে নিবেন। ওরা ছবিতে যেমন দেখাবে আসলে স্পট গুলো তেমন না। অনেক গুলোই আসা যাওয়ার মাঝেই পরে।

কুয়াকাটায় কোথায় থাকবেন
কুয়াকাটায় বিভিন্ন মানের হোটেল, কটেজ রয়েছে। এগুলার ভাড়া ৫০০ থেকে ১০০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। মোটামোটি মানের এক রুম ১০০০ থেকে ১৫০০ থাকায় পাওয়া যায়। আপনার বাজেট বিবেচনা করে যেকোন একটা বাছাই করে নিবেন। সিজন বা সরকারি ছুটির দিনে একটু প্রেসার থাকে। তাই সে সময় আগে থেকে বুকিং করে গেলে ভালো। তবে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।

কুয়াকাটা ট্যুর প্ল্যান
কুয়াকাটা ঘুরার জন্য তিন রাত দুই দিন যথেষ্ট। একটু টাইট হলেও দুই দিন পর দেখার মত আর কিছু থাকেনা। তবে আপনি চাইলে একরাত বেশি থাকতে পারেন। রাতের লঞ্চ বা বাসে রওনা দিলে সকালেই চলে আসবেন কুয়াকাটা।

প্রথম দিন:
সকালে এসেই হোটেলে চেকইন করে একটু রেস্ট নিয়ে চলে যাবেন সমুদ্রে। দুপুর পর্যন্ত বীচে কাটিয়ে চলে আসবেন হোটেলে। ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে চলে যাবেন পশ্চিম দিকে। ড্রাইভারকে বলবেন আপনি তিন নদীর মোহনা পর্যন্ত যাবেন, ফেরার পথে লেবু বাগানে সূর্যাস্ত দেখে ফিরবেন। মোটর সাইকেলে ভাড়া নিবে ৬০০-৮০০ টাকা। আর অটোতে ১০০০-১২০০ টাকা। যাবার পথে প্রথমেই পরবে শুঁটকি পল্লী। এখানে জেলেরা মাছ শুকিয়ে শুঁটকি বানায়। চাইলে কিনে নিতে পারেন। এর পর আসবে লেবু বাগান। জায়গায় অসাধারণ। এখান থেকেই সূর্যাস্ত দেখে বেশি ভালো লাগে। তাই না থেমে সামনে এগিয়ে যাবেন। একটু পর আসবে ঝিনুক বীচ। দেখার মতো কিছুই নাই। এখানে নাকি ঝিনুক একটু বেশি পাওয়া যায়। তবে আপনি নাও পেতে পারেন। এর পর চলে যাবেন ফাতরার বন। জায়গাটা দারুন। অপর পারে আছে সুন্দর বনের কিছু অংশ, যাকে লোকজন বলে ফাতরার বন। তবে এখান থেকে বনে যাওয়া যায়না। যেতে হলে কুয়াকাটা বীচ থেকে ট্রলারে যেতে হয়। কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে চলে যাবেন পাশের ঝাউ বনে। দারুন সুন্দর জায়গা। ছবি তুলে অনেক ভাল লাগবে। এর পর চলে যাবেন তিন নদীর মোহনায়। এখানে তিন নদী এসে মিশেছে। এখানকার ভিউ দারুন।

কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে ফেরার পথে থামবেন লেবু বনে। লেবু গাছ না থাকলেও জায়গাটা অসাধারণ। পাশেই বিভিন্ন রকমের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। বললে তারা ফ্রাই করে দিবে। মাছের ফ্রাই খেতে খেতে সূর্যাস্ত দেখেতে অন্নরকম লাগবে। সূর্যাস্ত দেখে ফিরে যাবেন হোটেলে। তবে কাল সূর্যোদয় দেখতে যেতে হলে রাতেই যানবাহন ঠিক করে রাখবেন। তাহলে সময়মতো তারা চলে আসবে। সূর্য উঠার ১ ঘন্টা আগে রওনা দিতে হয়।

দ্বিতীয় দিন
ভোর ৪:৩০ এর দিকে হোটেল থেকে রওনা দিবেন। গঙ্গামতির চর থেকে সূর্যোদয় দেখে ফেরার পথে লাল কাঁকড়ার চর, বৌদ্ধ মন্দির, ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী নৌকা, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, কুয়াকাটার কুয়া দেখে নিবেন। তবে সূর্যোদয় গঙ্গামতির চর থেকে কাউয়ার চর এ ভালো দেখা যায়।

সোনারগাঁও যাদুঘর

সোনারগাঁও এক ঐতিহাসিক প্রাচীন শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত সোনারগাঁও ছিল একসময় বাংলার রাজধানী। এখানেই রয়েছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর যা সোনারগাঁও যাদুঘর (Sonargaon Museum) নামে পরিচিত।

সোনারগাঁও যাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত। এটি ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেঘনা ব্রিজের কাছাকাছি মোগরাপাড়া বাস স্টেশন এর কাছে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা শহর থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ২৫ কিঃমিঃ।

সোনারগাঁও যাদুঘর কিভাবে যাবেন?
সোনারগাঁও যাদুঘর যেতে হলে আপনাকে ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়কের ধরে মেঘনা ব্রিজের কাছাকাছি মোগরাপাড়া বাস স্টেশনে আসতে হবে। সেখান থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরেই সোনারগাঁও যাদুঘর। সব থেকে ভালো হয় প্রাইভেট কার নিয়ে গেলে। তাহলে আশেপাশের সব কিছু ভালো করে দেখা যাবে। এছাড়া ঢাকা থেকে বাস দিয়েও যাওয়া যায়। এতে খরচ বেশ কম হয়। গুলিস্থান থেকে বেশ কিছু বাস ছাড়ে যেগুলা দিয়ে সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ড যাওয়া যায়। বাস ভাড়া সার্ভিসভেদে ২৫-৫০ টাকা। সময় নিবে এক থেকে দেড় ঘন্টা। মোগড়াপাড়া হতে রিক্সা/অটোরিক্সা যোগে পৌঁছে যাবেন সোনারগাঁও যাদুঘর। ভাড়া নিবে ১০-২০ টাকা।

প্রবেশ ফি
সোনারগাঁও যাদুঘরে প্রবেশ করতে হলে টিকেট কাটা লাগে। টিকেটের মূল্য জন প্রতি ২০ টাকা। বিদিশী পর্যটকদের জন্য ১০০ টাকা। সামনেই গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা আছে।

সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

পানাম নগর

পানাম নগর বা পানাম সিটি (Panam City) বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর। বাংলার বার ভূঁইয়াদের সর্দার ঈশা খাঁ ১৫ শতকে সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠে এই নগরী। প্রাচীন সোনারগাঁযের (বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর) তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিলো সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সুন্দর।

পানাম নগর কোথায় অবস্থিত?
পামান নগরী বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত। এটি ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেঘনা ব্রিজের কাছাকাছি মোগরাপাড়া বাস স্টেশন এর কাছে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা শহর থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ২৫ কিঃমিঃ। সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর থেকে উত্তর দিকে প্রায় এক কিঃমিঃ দূরেই পানাম নগর।

পানাম নগরীর নির্মাণশৈলী
পানাম নগরীর বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণশৈলীতে রয়েছে অপূর্ব কারুকার্য ও অভিজাত্যের ছোঁয়া। বাড়ি গুলোর স্থাপত্যে ঔপনিবেশিকতা ছাড়াও মোঘল, গ্রিক এবং গান্ধারা স্থাপত্যশৈলীর সাথে স্থানীয় কারিগরদের শিল্পকুশলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ লক্ষ করা যায়। নগরীর ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার দুই পাশে ৫২ টি বাড়ি এখনো টিকে আছে। রাস্তার উত্তর দিকে আছে ৩১ টি বাড়ি এবং দক্ষিণ দিকে আছে ২১ বাড়ি । এই বাড়ি গুলোর কোনটি এক তলা, কোনটি আবার দুই বা তিন তলা। নগরীর ভিতরে আবাসিক ভবন ছাড়াও আছে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মঠ, নাচঘর, গোসলখানা, চিত্রশালা, পান্থশালা, খাজাঞ্চিখানা, দরবার কক্ষ, গুপ্ত পথ, বিচারালয়, পুরনো জাদুঘর ইত্যাদি। এছাড়া আছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরোন টাঁকশাল বাড়ি।

পানাম নগরীর চার্ দিকে আছে পঙ্খীরাজ খাল। এই পঙ্খীরাজ খাল মেনিখালী নদ নামে মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। পানাম নগরীর পূর্ব দিকে রয়েছে মেঘনা নদী আর পশ্চিম দিকে শীতলক্ষ্যা। এই নদী পথেই একসময় মসলিন রপ্তানি হত।

পানাম নগরীর পরিকল্পনাও ছিল দারুন। নগরীতে পানি সরবাহের জন্য এর দুই পাশে রয়েছে ২টি খাল ও ৫টি পুকুর। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আছে কুয়া। বৃষ্টির পানি যাতে না জমে থাকে এর জন্য একে খালের দিকে একটু ঢালু রাখা হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি পরস্পর থেকে একটু দূরত্বে অবস্থান করছে। নগরীরতে চলাচল করার জন্য এর মাঝখান দিয়ে আছে রাস্তা। পানাম নগরীর প্রবেশ পথে আছে বিশাল গেট। সূর্যাস্থের সাথে সাথে এই গেট বন্ধ করে দেয়া হতো।

নির্মাণ সময়
ধারণা করা হয় ১৫ শতকে পানাম নগরী স্থাপিত হয়েছিল। এর পর থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ পানাম নগরীকে সম্মৃদ্ধ করেছে। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০ টি ঐতিহাসিক শহরের তালিকায় পানাম নগর এর নাম স্থান পায়।

পানাম নগরীতে আর কি কি দেখবেন
পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে সময় কাটানোর জন্য পানাম নগরী আদর্শ জায়গা। তার পরেও এর জন্য ১-২ ঘন্টা সময়ই যথেষ্ট। তাই আশেপাশের ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন আরো কিছু স্থাপনা গুলোতে ঘুরে আসতে পারেন। পানাম নগরী থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরেই আছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, যা সোনারগাঁ যাদুঘর নামে পরিচিত। সোনারগাঁ জাদুঘর থেকে পশ্চিম দিকে রয়েছে গোয়ালদী হোসেন শাহী মসজিদ। এ মসজিদটি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহীর শাসনামলে ১৫১৯ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। অটো বা রিকশা করে যেতে পারেন। ভাড়া নিবে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

আরো দেখতে পারেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নীলচাষের নীলকুঠি, যা পানাম পুলের কাছে দুলালপুর সড়কের পাশেই অবস্থিত। হাতে সময় থাকলে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে একটু দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন আরো কিছু ইমারত, বারো আউলিয়ার মাজার, হযরত শাহ ইব্রাহিম দানিশ মন্দা ও তাঁর বংশধরদের মাজার ইত্যাদি। দেখতে পারেন দমদমদুর্গ যা দমদম গ্রামে অবস্থিত। এছাড়াও পানাম নগরীর আশেপাশে আছে ঈসা খাঁ ও তাঁর ছেলে মুসা খাঁর প্রমোদ ভবন, সোনাকান্দা দুর্গ, পঞ্চপীরের মাজার, ফতেহ শাহের মসজিদ, কদম রসুল, চিলেকোঠাসহ বহু পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্ববহ স্থাপনা। সময় থাকলে সেগুলো দেখে যেতে পারেন।

পানাম নগর কিভাবে যাবেন?
পানাম নগর যেতে হলে আপনাকে ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়কের ধরে মেঘনা ব্রিজের কাছাকাছি মোগরাপাড়া বাস স্টেশনে আসতে হবে। সেখান থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দূরেই পানাম সিটি। সব থেকে ভালো হয় প্রাইভেট কার নিয়ে গেলে। তাহলে আশেপাশের সব কিছু ভালো করে দেখা যাবে। এছাড়া ঢাকা থেকে বাস দিয়েও যাওয়া যায়। এতে খরচ বেশ কম হয়। গুলিস্থান থেকে বেশ কিছু বাস ছাড়ে যেগুলা দিয়ে সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ড যাওয়া যায়। বাস ভাড়া সার্ভিসভেদে ২৫-৫০ টাকা। সময় নিবে এক থেকে দেড় ঘন্টা। মোগড়াপাড়া হতে রিক্সা/অটোরিক্সা যোগে পৌঁছে যাবেন পানাম নগর। ভাড়া নিবে ১০-২০ টাকা। তবে ইচ্ছা করলে প্রথমে পাশের সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর ঘুরে, পরে হেঁটেই চলে যেতে পারেন পানাম নগর।

প্রবেশ ফি
পানাম নগরে প্রবেশ করতে হলে টিকেট কাটা লাগে। টিকেটের মূল্য জন প্রতি ৩০ টাকা। সামনেই গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা আছে।

সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন।। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত (Patenga Sea Beach) বন্দরনগরী চট্রগ্রামের সব থেকে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। চট্রগ্রাম শহর থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে এই সৈকতটি ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে বর্তমানে সিমেন্ট দিয়ে উঁচু দেয়াল দেয়ায় এর নিরাপত্তা এবং সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

যা দেখবেন এখানে
শাহ আমানত (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটি -বিএনএস ঈশাঁ খা, চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি এইট তিনটি খুব কাছাকাছি হওয়ায় সৈকতে যাবার বা আসার পথে দেখে নিতে পারেন। সৈকতের কাছে আছে বার্মিজ মার্কেট। পছন্দের অনেক কিছুই কিনে নিতে পারেন। বীচে সন্ধ্যার সূর্যাস্তের দৃশ্য মনকে আরো বেশি পুলকিত করবে। সবচেয়ে ভালো লাগবে সন্ধ্যার পরিবেশ। তাই থাকতে পারেন সন্ধ্যা পর্যন্ত। ঘোড়ায় পিঠে চড়তে পারেন। স্পিডবোড কিংবা কাঠের তৈরি সাম্পান নৌকায় চড়ে সমুদ্রে ঘুরতে পারেন। তবে স্পিডবোড থেকে সাম্পান নৌকায় উঠলেই বেশি মজা পাবেন। সেই সাথে দেখতে পারেন জাহাজের চলাচল কিংবা মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া প্লেন। চেষ্টা করবেন মাঝিকে বলে একটু দূরে জাহাজের কাছাকাছি যেতে।

কক্সবাজারের মতো এখানে এতো ঢেউ নাই। আর পানি অনেকটা ঘোলাটে। তাই পানিতে নেমে মজা পাবেন না। তবে পা ভিজতে পারেন। উপরে সী ফুড পাওয়া যায়। খেতে পারেন।

সময় থাকলে যেতে পারেন এয়ারপোর্টের কাছে বাটার ফ্লাই পার্কে। বিভিন্ন ধরনের প্রজাপতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এখানে প্রায় ৭০ প্রজাতির ১০০০ এর বেশি প্রজাপতি রয়েছে। তবে প্রজাপতির দেখতে চাইলে সকাল সকাল যাওয়াই ভালো হবে। কেননা বিকেলের পর প্রজাপতিরা ঝোঁপের আড়ালে চলে যাবে।

পতেঙ্গা কিভাবে যাবেন?
পতেঙ্গা সী বীচ যেতে হলে প্রথমে আপনাকে আসতে হবে বন্দরনগরী চট্রগ্রামে। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন, প্লেন ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে চট্রগ্রাম আসা যায়। চট্রগ্রাম শহর থেকে সিএনজি চালিত স্কুটারে এক ঘন্টায় চলে যেতে পারেন পতেঙ্গা। ভাড়া নিবে ২৫০ টাকা। আর বাসে যেতে চাইলে সময় একটু বেশি লাগবে। চক বাজার মোড়, বদ্দার হাট, লালখান বাজার মোড়, জিইসি মোড়, নিউ মার্কেট থেকে পতেঙ্গা যাবার বাস পাবেন। বাসের গায়ে লেখা থাকবে “সী বীচ”।

মেরিন ড্রাইভ কক্সবাজার

বর্তমানে কক্সবাজার ভ্রমনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট হলো মেরিন ড্রাইভ রোড (Marine Drive)। এই রোডের এক পাশে সমুদ্র আর অন্যপাশে সবুজে ঢাকা ছোট বড় পাহাড়। কোথাও কোথাও পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে ঝর্ণা।

মেরিন ড্রাইভের নির্মাণ
মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৩ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মাঝে বেশ কয়েকবার সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। তিনটি ধাপে এই সড়ক নির্মাণ করা হয়। প্রথম ধাপে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফ সদর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার ও শেষ ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়। ২০১৭ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এতে মোট খরচ হয় প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এটির নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন।

মেরিন ড্রাইভ রোড কিভাবে যাবেন
মেরিন ড্রাইভ রোডে ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে প্রথমে আসতে হবে কক্সবাজার। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিভিন্ন উপায়ে আসা যায়। ঢাকা থেকে গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, সোহাগ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বাস প্রতিদিন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রত্যেক সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পর্যন্ত।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী ট্রেনে চট্রগ্রাম চলে আসতে পারেন। এরপর চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা অথবা ধামপাড়া বাস্ট স্ট্যান্ড থেকে হানিফ, এস আলম অথবা ইউনিক পরিবহনের বাসে কক্সবাজার আসতে পারবেন। বাস ভেদে ভাড়া ২৮০ থেকে ৫৫০ টাকা নিবে।

এছাড়া আকাশ পথেও কক্সবাজার আসা যায়। বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। আবার আকাশপথে প্রথমে চট্রগ্রাম এসেও সেখান থেকে সড়ক পথে কক্সবাজার যেতে পারবেন। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ভাড়া বিভিন্ন রকম। সাইটে দেখে নিতে পারেন।

কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ রোড কিভাবে যাবেন?
কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে মেরিন ড্রাইভ রোড যাবার জন্য খোলা জীপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটো ইত্যাদি পাওয়া যায়। পছন্দ মতো দরদাম করে ভাড়া করে নিবেন। সিএনজি কিংবা অটোরিক্সাতে করে মেরিন ড্রাইভ রোড ঘুরে আসতে অনেক বেশি সময় লাগবে। দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসার জন্য খোলা জীপ নিলে ভালো। সিজনের উপর গাড়ি ভাড়া নির্ভর করে। সাধারণত খোলা জীপ ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা নিবে।

সম্পূর্ন মেরিন ড্রাইভ ঘুরে আসতে প্রায় ৫ ঘন্টার মত সময় লাগবে। কোন পর্যন্ত যাবেন গাড়ি ঠিক করার সময় ড্রাইভারকে সেটা বলে নিবেন। তা না হলে হয়তো আশেপাশের একটু জায়গা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারে। এর আপনার হাতে যদি অল্প সময় থাকে তাহলে হিমছড়ি বা ইনানী বীচ পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে অটোরিক্সা/ইজিবাইক অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে নিতে পারেন। তবে মেরিন ড্রাইভে খোলা জীপে ঘুরেই আসল মজা। ইনানী পর্যন্ত খোলা জীপ ভাড়া নিবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ১০ ঠিক ১২ জন অনায়াসে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন
কক্সবাজারে এখন প্রচুর হোটেল, মোটেল, কটেজ আছে। এদের মধ্যে সায়মন বিচ রিসোর্ট, মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সী গাল, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ, সী প্যালেস, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন, ইউনি রিসোর্ট, উর্মি গেস্ট হাউজ, কোরাল রীফ, ইকরা বিচ রিসোর্ট, অভিসার, মিডিয়া ইন, কল্লোল, হানিমুন রিসোর্ট, নীলিমা রিসোর্ট উল্লেখ্য। বিভিন্ন হোটেলের ভাড়া বিভিন্ন রকম। আপনার প্রয়োজন অনুসারে বেছে নিন।

সাধারণত অফ সিজনে অগ্রিম হোটেল বুকিং না দিলেও চলে। কিন্তু সিজনে (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী) অগ্রিম বুকিং দিয়ে যাওয়াই ভালো। নাহলে ঝামেলায় পড়তে পারেন। অফসিজনে হোটেলের ভাড়া প্রায় অর্ধকে নেমে আসে। সুযোগ থাকলে কক্সবাজার নেমে কয়েকটি হোটেল দেখে একটু দরদাম করে নিতে পারেন। বীচ এবং মেইন রোড থেকে হোটেল যত দূরে হবে হোটেলের ভাড়া ততো কমতে থাকবে। হোটেল খোঁজার ক্ষেত্রে রিকশাওয়ালা বা সিএনজিওয়ালার পরামর্শ নিতে পারেন। তাদেরকে আপনার বাজেট আর চাহিদা বলে দিলে তারাই আপনাকে ওই ধরণের হোটেলেই নিয়ে যাবে। তবে সাধারণত এরা যেখানে কমিশন পাওয়া যাবে আপনাকে সেখানেই নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে হোটেলের ফেইসবুক পেইজ বা ওয়েবাসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিতে পারেন।

কোথায় খাবেন
এখন মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। চাইলে এসব রেস্টুরেন্টের যেকোনো একটাতে খেয়ে নিতে পারেন। আবার কক্সবাজার এসেও খেতে পারেন। এখানে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট আছে। তাদের মধ্যে পৌষি, ধানসিঁড়ি, রোদেলা, ঝাউবন, নিরিবিলি ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। সিজন অনুসারে একগুলার খাবারের দামও কম বেশি হতে পারে। আর কক্সবাজার এসে রূপচাঁদা মাছ খেতে ভুলবেন যেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে কক্সবাজার (Cox’s Bazar) বিভিন্ন উপায়ে আসা যায়। ঢাকা থেকে গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, সোহাগ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বাস প্রতিদিন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রত্যেক সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পর্যন্ত।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী ট্রেনে চট্রগ্রাম চলে আসতে পারেন। এরপর চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা অথবা ধামপাড়া বাস্ট স্ট্যান্ড থেকে হানিফ, এস আলম অথবা ইউনিক পরিবহনের বাসে কক্সবাজার আসতে পারবেন। বাস ভেদে ভাড়া ২৮০ থেকে ৫৫০ টাকা নিবে।

এছাড়া আকাশ পথেও কক্সবাজার আসা যায়। বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। আবার আকাশপথে প্রথমে চট্রগ্রাম এসেও সেখান থেকে সড়ক পথে কক্সবাজার যেতে পারবেন। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ভাড়া বিভিন্ন রকম। সাইটে দেখে নিতে পারেন।

কলকাতা

কলকাতা (ইংরেজি: Kolkata), আদি নাম কলিকাতা (Calcutta) ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। এটি ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী যা হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত। এই শহর এক সময় ভারতের শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল। অল্প খরচে বিদেশ ভ্রম, কেনাকাটা কিংবা চিকিৎসা সব কিছুর জন্যই কলকাতা এখন বাংলাদেশীদের প্রথম পছন্দ।

কলকাতা কিভাবে যাবেন?
ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়া এখন আগের থেকে অনেক সহজ। আপনে স্থল পথে কিংবা আকাশ পথে যেকোনো ভাবেই কলকাতা যেতে পারেন। তবে সবার আগে দরকার ইন্ডিয়ান ভিসার। যা আপনে ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) এ আবেদন করে সহজেই পেতে পারেন। ঢাকায় আগে বেশ কটি আইভ্যাক সেন্টার থাকলেও এখন সব গুলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বসুন্ধরার কাছে যমুনা ফিউচার পার্কে বিশাল আকারে নতুন আইভ্যাক সেন্টার খোলা হয়েছে। ওয়েব সাইট থেকে ফর্ম পূরণ করে, প্রিন্ট করে এখানে জমা দিতে হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে ৭ দিনের মাঝেই পেয়ে জাবেন ইন্ডিয়ান ভিসা।

সড়ক পথে কলকাতা ভ্রমণ
প্রতিদিন সকালে এবং রাতে ঢাকা থেকে অনেকগুলো বাস ছেড়ে যায় কলকাতার উদ্দেশ্যে। কিছু বাস সরাসরি ঢাকা থেকে কলকাতা যায় এবং কলকাতা থেকে ঢাকায় আসে। মাজখানে কোনো বাস বদলাতে হয়না। শ্যামলী, বিআরটিসি, সৌহার্দ্য এই বাস গুলি সরাসরি সার্ভিস প্রধান করে থাকে। এগুলা কেবল দিনের বেলায়, সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। এছাড়া শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সোহাগ, রয়েল, লন্ডন সার্ভিস এইতাদি বাসও ঢাকা থেকে কলকাতা রুটে চলাচল করে। এদের ঢাকা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত এক বাস আবার বর্ডার পার হয়ে পেট্রাপোল থেকে ওদেরই অন্য বাসে যাত্রী পরিবহন করে। এগুলা সাধারণত রাতের বেলার ছাড়ে। এদেরকে কাটা সার্ভিস বলে। এদের এসি এবং নন এসি দুই ধরণের বাসই রয়েছে। নন এসি বাসের ভাড়া ৭০০/৮০০ তার মধ্যে আর এসি বাসের ভাড়া ১৫০০ টাকার মতো।

এছাড়া আপনে বিসনেস ক্লাস নামে এক ধরণের বিলাসবহুল বাস রয়েছে সেগুলা ব্যবহার করতে পারেন। ভাড়া নিবে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। এগুলাতে গেলেই ভাল হয়। গাড়ির মান এবং সার্ভিস অনেক ভাল। এরা ভিআইপি সুবিধা পায় তাই রাস্তায় এবং ফেরিতে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। জ্যাম থাকলে উল্টা পথে চলে যায়, পুলিশ কিছু বলেনা। এদের জন্য আলাদা ফেরি রয়েছে। বর্ডারে ইমিগ্রেশনে এদের লোকজন সব কিছু করে দেয়। বাসগুলো নামাবে একেবারে কলকাতা নিউমার্কেট সংলগ্ন মারকুইস স্ট্রিটে। রাতে রওনা করলে দুপুরের মাঝেই চলে আসবেন কলকাতা। এর মাঝে দুই বর্ডারে ইমিগ্রেশন করতে ১-২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। আর কম খরচে যেতে চাইলে যেকোন বাসে বেনাপোল যেয়ে, ঐখান থেকে অটোতে বনগাঁ রেলস্টেশন, পরে ২০ রুপির টিকেট কেটে চলে যাবেন কলকাতা।

রেল পথে কলকাতা ভ্রমণ
যারা ট্রেন ভ্রমণ পছন্দ করেন তারা ঢাকা থেকে ট্রেনে করেও চলে আসতে পারেন কলকাতা। বাংলাদেশ-ভারত সরকারের উদ্যোগে চলা ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে ছাড়ে এবং কলকাতার কলকাতা স্টেশনে এসে থামে। আর কলকাতা স্টেশন থেকে ছেড়ে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে এসে থামে। মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের এখন আর সীমান্তে ইমিগ্রেশন আর কাস্টমস চেকিং করতে হয় না। যাত্রা শুরুর আগেই কলকাতার চিতপুর এবং ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময়েই পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষা করে ফেলা হয়। এতে সময় লাগে মাত্র ৮ ঘন্টা। ঢাকা-কলকাতা রুটে ট্রেন চলে মোট ৪ টি, ২ টি বাংলাদেশের আর ২ টি ভারতের। মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে সকালে ৮:১০ মিনিটে ছাড়ে, এবং কলকাতার কলকাতা স্টেশন থেকে সকাল ৭:১০ মিনিটে ছাড়ে। রবি বার দিন কলকাতা থেকে কোন ট্রেন ছাড়ে না। সব ট্রেন সব দিন চলেনা। তাই আপনার ভ্রমণ তারিখের সাথে ট্রেনের সময় দেখে নিবেন। ঢাকায় ট্রেনের টিকিট কেনা যায় একমাত্র কমলাপুর রেলস্টেশনে। আপনি চাইলে এখান থেকে রিটার্ন টিকিট ও কিনতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ থেকে কেবল ২০% রিটার্ন টিকেট কেনা যায়। বাকি ৮০% টিকেট কলকাতা কাউন্টারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন :

  • ঢাকা-কলকাতাঃ ৩১০৭ (শুক্রবার, রবিবার)
  • কলকাতা-ঢাকাঃ ৩১০৮ (শনিবার, সোমবার)

ভারত রেলওয়ের ট্রেন :

  • কলকাতা-ঢাকাঃ ৩১০৯ (শুক্রবার, মঙ্গলবার)
  • ঢাকা-কলকাতাঃ ৩১১০ (শনিবার, বুধবার)

আকাশ পথে কলকাতা ভ্রমণ
আপনার হাতে সময়ে কম থাকলে যেতে পারেন আকাশ পথে। বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট, ইউনাইটেড, জেট এয়ার ওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়ার প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচল করে। সময় লাগবে ৪৫ মিনিট। নামবেন নেতাজী সুভাষ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। ভাড়া নিবে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। বিমানে যাওয়াই ভালো সময় কম লাগে। টিকেট আগে থেকে কেটে রাখলে দাম অনেক কম পরে।

আশা করি লেখাটি আপনারা সবাই খুব উপভোগ করেছেন। লেখাটি আপনার কেমন লাগল জানালে ভালো হয়। কলকাতা ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী (Maheshkhali Island)। এটি কক্সবাজার জেলার একটি উপজেলা। বাংলাদেশে অনেকগুলো দীপ থাকলেও এখানেই আসলেই কেবল দেখা মিলবে উঁচু উঁচু কিছু পাহাড়ের। পাহাড়, সমুদ্র, নীল পানি, সবুজ অরণ্য এক কোথায় চমৎকার।

মহেশখালীর ইতিহাস
মহেশখালী একসময় মূল ভূখণ্ড কক্সবাজারের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। ১৫৬৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়। পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তর দক্ষিণমুখী পাহাড় এবং তার পাদদেশে প্রবাহিত চ্যানেল এই ধারণাকে আরো জোরালো করে।

কীভাবে যাবেন মহেশখালী?
মহেশখালী যাওয়ার দুটি পথ আছে। একটিতে আপনাকে আসতে হবে কক্সবাজার শহরে। ঢাকা থেকে বাস, প্লেন, ট্রেন ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়ে কক্সবাজার আসা যায়। কক্সবাজার শহর থেকে অটোতে ৬ নং জেটি বা কস্তুরা ঘাট। ভাড়া নিবে ৩০-৪০ টাকা। সেখান থেকে স্পিডবোট বা ট্রলারে মহেশখালী। স্পিডবোটে ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। সময় লাগবে ২০-২৫ মিনিট। লোকজন বেশি হলে রিজার্ভ করে নিতে পারেন। ভাড়া নিবে ৯০০-১০০০ টাকা। আর ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলারে ভাড়া ৭০-৮০ টাকা। সময় নিবে ১ ঘণ্টার মতো। হাতে সময় থাকে ট্রলারে যেতে পারেন। অনেক মজা পাবেন। তা না হলে যাবার সময় স্পিডবোটে আসার সময় ট্রলারে আসতে পারেন।

অন্য পথে চকরিয়া এসে বদরখালী হয়ে মহেশখালী আসতে পারেন। এই পথে এখন ব্রীজ হয়েছে। তাই গাড়ি নিয়ে আসা যায়। তবে মহেশখালী যাবার সব থেকে ভালো উপায় হলো প্রথমটি।

কি দেখবেন মহেশখালীতে
মহেশখালীর মূল আকর্ষণ কক্সবাজার থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যাবার পথে আশেপাশের সৌন্দর্য। স্বচ্ছ নীল পানি আর আকাশ, পানিতে ভাসমান জঙ্গল মিলে এক অন্যরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অন্য কোথাও গেলে এমন দৃশ্য হয়তো দেখতে পাবেন না। এখানে দুইটি জেটি রয়েছে। দুইটি জেটিই সুন্দর। তবে দ্বিতীয় জেটি অসাধারণ। পুরা সবুজ জঙ্গলের মাঝে লম্বা রাস্তা। এখানকার ভিউ অসাধারণ। আরো রয়েছে আদিনাথ মন্দির, দক্ষিণে বিস্তীর্ণ সাগর, পশ্চিমে বিশাল বিশাল পাহাড়, শুটকি পল্লী, লবন সংগ্রহের পুকুর, রাখাইন পাড়া, পানের বরজ, চিংড়ি ঘের, চরপাড়া সৈকত, সোনাদিয়া দ্বীপ ইত্যাদি। তবে সোনাদিয়া দ্বীপ যেতে হলে আপনাকে হাজার পনেরশ টাকা খরচ করে স্পিডবোট ভাড়া নিতে হবে।

কোথায় থাকবেন?
মহেশখালীতে থাকার তেমন ভালো কোনো ব্যবস্থা নাই। তাই ঘুরে কক্সবাজার চলে আসলেই ভালো। কক্সবাজারে বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে। দরদাম করে একটি বেছে নিবেন।