সিলেট বিভাগের দর্শনীয় স্থান

বারেক টিলা

Loading

বারেক টিলা ভ্রমণ গাইড
napittochara-trail-3
বারেক টিলা
Shadow

সবুজে মোড়া উঁচু বারেক টিলা (Barek Tila) এর একপাশে দিগন্তজোড়া পাহাড়, অন্যপাশে স্বচ্ছ জলের নদী যেন নীরবে বইছে। টিলার ওপরে দাঁড়ালে মেঘ আর পাহাড় মিলেমিশে এক অদ্ভুত টানে হাতছানি দেয়, ডেকে নেয় দূরের অজানা জগতে। টিলার বুকে আঁকাবাঁকা মেঠোপথ যেন রহস্যময় কোনো গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে প্রকৃতি তার সবটুকু সৌন্দর্য উজাড় করে পথিককে মোহিত করে রাখে।

বারেক টিলা কোথায় অবস্থিত

বারেক টিলা বা বারিক্কা টিলা বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের লাউড়েরগড় এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। এই টিলার এক পাশে বাংলাদেশ, অন্য পাশে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। টিলার উপর দাঁড়িয়ে মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড় দেখা যায়। টিলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুন্দর যাদুকাটা নদী। বারেকের টিলা থেকে যাদুকাটা নদী এবং খাসিয়া পাহাড়ের অসাধারণ প্যানারোমিক ভিউ পাওয়া যায়।

কি আছে বারেক টিলাতে

বারেক টিলা তে প্রায় ৩৬৫ একর জায়গাজুড়ে রয়েছে ছোট বড় নানা প্রজাতির গাছপালা। এই টিলাতে কড়ই গড়া এবং রাজাই নাম দুটি গ্রাম আছে। সেখানে বেশ কিছু উপজাতি বসবাস করে। টিলার উপরে ছোট প্রজাতির ঘোড়ার দেখা পাওয়া যায়। এগুলো ট্যুরিস্টদের জন্য মানুষ নিয়ে আসে। ৫০ টাকা দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে টিলা ঘুরে দেখা যায়।

জায়গাটি মূলত ছবি তোলার জন্য খুবই আদর্শ। চারপাশের ভিউ অসাধারণ। একটু উপরের দিকে উঠে গেলে সমতল একটা খেলার মাঠ দেখতে পাবেন। খালি পায়ে মাঠের সবুজ ঘাসে হাটাহাটি করে দারুন মজা। ভাগ্য ভালো হলে মাঠে ঘাস খাওয়া রত কিছু ঘোড়ার দেখা পেয়ে যেতে পারেন। যা অনেকটা আপনাকে বিদেশের পাহাড়ি এলাকার অনুভূতি দিবে।

বারেক টিলা কিভাবে যাবেন

বারেক টিলা যেতে হলে প্রথমেই আসতে হবে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে। প্রতিদিন ঢাকার গাবতলী, পান্থপথ, আরামবাগ, ফকিরাপুল, সায়দাবাদ থেকে শ্যামলী, হানিফ, এনা, মামুন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির এসি/নন এসি বাস সুনামগঞ্জ শহরে যায়। এসি বাসের ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। নন এসি বাসের ভাড়া ৮০০ টাকা। যেতে সময় নিবে প্রায় ৭ ঘন্টা। সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে অথবা অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে বাসের টিকেট কাটা যায়।

সুনামগঞ্জ শহর থেকে বাইক অথবা সিএনজি নিয়ে চলে যাবেন বারেক টিলা। অবশ্য টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরতে গেলে ওই একই প্যাকেজের মধ্যে ওরা এখানে নিয়ে আসে। নিচ থেকে কিছুটা উঁচু পথ ধরে পায়ে হেটে টিলার উপরে উঠতে হয়। পথ পিচ ঢালাই করা আছে। এখন অবশ্য বাইকে করেও উঠা যায়। তবে হেটে উঠা উত্তম।

কোথায় থাকবেন

বর্তমানে বারেক টিলায় রাত্রিযাপন করার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। টিলার কাছে বড়ছড়া বাজারে কিছু রেস্ট হাউজ আছে। সেখানে থাকতে পারেন। অথবা সুনামগঞ্জ শহরে এসে থাকতে পারেন। সুনামগঞ্জ শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। হোটেল ভাড়া ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা।

  • হোটেল প্যালেস -পুরাতন বাসস্ট্যান্ড
  • হোটেল নূরানী -পুরাতন বাসস্ট্যান্ড
  • হোটেল নূর -পূর্ব বাজার স্টেশন রোড
  • হোটেল মিজান -পূর্ব বাজার
  • হোটেল সার্পিনিয়া -জগন্নাথ বাড়ি রোড

কোথায় খাবেন

বারিক্কা টিলায় উঠার একটু আগে ছোট ছোট কিছু খাবারের হোটেল আছে। ইচ্ছে হলে এখানে খেতে পারেন। এছাড়া বড়ছড়া বাজার এবং টেকেরঘাট বাজারে মোটামোটি মানের কিছু রেস্টুরেন্ট আছে। তবে এখানে যেহেতু খুব বেশি সময় দিতে হয় না, তাই সুনামগঞ্জ শহরে এসে খেতে পারেন। শহরে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট আছে।

পরামর্শ

  • কিছু পথ হেটে উঠা লাগে। তাই আরামদায়ক জুতা এবং কাপড় পরিধান করুন।
  • নিচ থেকে বাইকে উঠেও যাওয়া যায়। হাটতে সমস্যা হলে বাইক ব্যবহার করুন।
  • ঘোড়ায় চড়ার পূর্বে দরদাম করে নিবেন।
  • ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
  • নদীর সাইড বেশ খাড়া এবং বিপদজনক। তাই সাবধানে পা ফেলুন।
3 2 ভোট
রেটিং

লেখক

আমি একজন পেশাদার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। প্রযুক্তিনির্ভর কাজে যুক্ত থাকলেও ভ্রমণের প্রতি রয়েছে আমার গভীর ভালোবাসা। অবসর পেলেই নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি, আর সেই ভ্রমণ অভিজ্ঞতাগুলো নিয়মিত শেয়ার করি এই ব্লগে।

0 মন্তব্য

''

0
আমরা আপনার অভিমত আশা করি, দয়াকরে মন্তব্য করুনx