বরিশাল বিভাগের দর্শনীয় স্থান

বেতুয়া পার্ক চরফ্যাশন

Loading

বেতুয়া পার্ক চরফ্যাশন
napittochara-trail-3
বেতুয়া পার্ক
Shadow

বেতুয়া পার্ক (Betua Park) মেঘনা নদীর উত্তাল ঢেউ, প্রকৃতির নির্মল বাতাস, সবুজ খোলা প্রান্তর এবং মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত—সব মিলিয়ে এটি একটি দারুণ উপভোগ্য স্থান। এটি বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক নামেও পরিচিত। প্রকৃতির মাঝে শান্ত সময় কাটাতে ভালোবাসেন এমন মানুষের কাছে এটি বর্তমানে বেশ আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র।

বেতুয়া পার্ক কোথায় অবস্থিত

নির্মল ও সুন্দর বেতুয়া পার্ক বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চরফ্যাশন লঞ্চঘাট-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। মেঘনার শাখা নদী বেতুয়া নদীর তীরে এর অবস্থান। চরফ্যাশন সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং ভোলা শহর থেকে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার।

গুগল ম্যাপ লোকেশন: ক্লিক করুন

বেতুয়া পার্ক কিভাবে যাবেন

বেতুয়া পার্কে যেতে হলে প্রথমে আপনাকে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় আসতে হবে। চরফ্যাশনে সড়ক ও নৌ—উভয় পথেই যাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলো লঞ্চ। প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট থেকে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চগুলো সাধারণত সন্ধ্যা ৮টার দিকে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন সকালে চরফ্যাশনে পৌঁছে।

এছাড়া সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে প্রথমে বরিশাল এবং সেখান থেকে লাহারহাট–ভেদুরিয়া ফেরি পার হয়ে ভোলা শহরে আসা যায়। ভোলা শহর থেকে চরফ্যাশন সদরের উদ্দেশ্যে নিয়মিত বাস চলাচল করে। ভোলা থেকে চরফ্যাশন পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে।

চরফ্যাশন সদর থেকে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল (বাইক) ভাড়া করে অল্প সময়েই বেতুয়া পার্কে পৌঁছে যেতে পারবেন।

কখন যাবেন

বেতুয়া পার্কে ইচ্ছা করলে বছরের যেকোনো সময়ই যেতে পারেন। তবে বিকেলে গেলে সব থেকে ভালো। এ সময় মেঘনা নদীর শীতল বাতাস, বিকেলের মনোরম আবহাওয়া এবং মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্তের দৃশ্য ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন, যাতে অন্ধকার হওয়ার আগেই সেখানে পৌঁছাতে পারেন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন।

কোথায় খাবেন

পার্কে ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, পিঠা, সফট ড্রিংকস, খাবার পানি, চা, বিস্কুটসহ নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া পাশেই বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি অনেকটা ভাসমান একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। রেস্টুরেন্টটির ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও লাইটিং খুবই সুন্দর। এখানে ফ্রাইড রাইস, নুডলস, চিকেন আইটেম, সি-ফুডসহ নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়।

বেতুয়া লঞ্চঘাটে বেশ কিছু মুদি দোকান ও ভাতের হোটেল রয়েছে। ইচ্ছা করলে সেখান থেকেও খাবার কিনে খেতে পারেন।

প্রবেশ মূল্য

বেতুয়া পার্কে প্রবেশ করতে কোনো ফি দিতে হয় না। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে স্পিডবোট বা নৌকায় চড়ে মেঘনা নদীতে ভেসে বেড়াতে চাইলে নির্ধারিত ভাড়া দিতে হবে। নৌকা বা স্পিডবোটে ওঠার আগে অবশ্যই ভাড়া দরদাম করে নেবেন।

বেতুয়া পার্কে কী করবেন

প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য বেতুয়া পার্ক একটি দারুণ জায়গা। এখানে বসে আপনি মেঘনা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে দুলতে থাকা জেলেদের নৌকা দেখতে পারবেন। নদীর তীরে ব্লক বসানো রয়েছে। ব্লকের ওপর বসে সুন্দর ছবি তুলতে পারবেন। নদীর তীরের সবুজ ঘাসের ওপর খালি পায়ে হেঁটে বেড়াতে পারেন। ইচ্ছা করলে নৌকা বা স্পিডবোটে চড়ে মেঘনা নদীতে ভেসে বেড়াতে পারেন। আর বিকেলের মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন।

পার্কটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে বেতুয়া মাছের আড়ত। এই আড়তে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ কেনাবেচা হয়। তবে এখানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ইলিশ মাছ। জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরে এই আড়তে এনে বিক্রি করেন। ভাগ্য ভালো থাকলে জীবন্ত ইলিশ মাছও দেখতে পারেন। তবে মাছগুলো খুব বেশি সময় জীবন্ত থাকে না।

সতর্কতা

  • নদীর পাড়ের ব্লকগুলো বেশ পিচ্ছিল, তাই সাবধানে চলাফেরা করবেন।
  • সাঁতার না জানলে নদীর তীরের কাছাকাছি যাবেন না।
  • নদীতে তীব্র স্রোত ও বড় ঢেউ থাকে, তাই পানিতে নামবেন না।
  • নৌকা বা স্পিডবোটে ঘুরতে চাইলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
  • ছোট বাচ্চাদের নৌকা বা স্পিডবোটে ওঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকবেন।

5 1 ভোট
রেটিং

লেখক

আমি একজন পেশাদার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। প্রযুক্তিনির্ভর কাজে যুক্ত থাকলেও ভ্রমণের প্রতি রয়েছে আমার গভীর ভালোবাসা। অবসর পেলেই নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি, আর সেই ভ্রমণ অভিজ্ঞতাগুলো নিয়মিত শেয়ার করি এই ব্লগে।

0 মন্তব্য

''

0
আমরা আপনার অভিমত আশা করি, দয়াকরে মন্তব্য করুনx