ভুটান ট্যুর প্ল্যান

ভুটান (Bhutan) দক্ষিণ এশিয়ার এক ক্ষুদ্র দেশ। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই সুন্দর এবং আকর্ষণীয়। সুবিশাল হিমালয়ের কল্যাণে উঁচু উঁচু পাহাড়, ঘন জঙ্গল, সবুজ ভ্যালি ভুটানকে করেছে অপরূপ। ফ্রেন্ডস ট্যুর, ফ্যামিলি ট্যুর, মধুচন্দ্রিমা, কাপল ট্যুর, সবকিছুর জন্যই ভুটান হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। কারণ যেকোনো ধরনের, যেকোনো বয়সের মানুষ এর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে বাধ্য।

ভুটান কিভাবে যাবেন?
যেকোনো ট্যুরেই একা থেকে দলবদ্ধ ভাবে গেলে অনেক বেশি মজা হয়, আর খরচ ও কমে যায়। দল বা টিমের সাইজ ৪ বা ৬ গুণিতক হলে ভাল। তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করা লাগেনা এবং হোটেল বুকিং, গাড়ি ভাড়া করতে সুবিধা হয়। ভুটান বাংলাদেশিদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রদান করে। মানে আপনে ভুটান গেলেই ওরা আপনাকে ভিসা দিবে। তাই আগে থেকে ভিসার জামেলা নাই। বাংলাদেশ থেকে ভুটানে আকাশ পথে মানে প্লেনে এবং সড়ক পথে দুই ভাবেই যাওয়া যায়। বাংলাদেশ থেকে খুব সহজেই সড়ক পথে ভুটান যাওয়া যায়। আর সড়ক পথে গেলেই বেশি মজা। কারণ ভুটান মানেই সড়ক পথে ভ্রমণ। উঁচু উঁচু পাহাড়ের কোল গেষে, আঁকাবাঁকা পথ ধরে, কখনো সবুজের, কখনো মেঘের, কখনো বরফের ভিতর দিয়ে, বিশাল বিশাল ঝর্ণা থেকে সৃষ্ট পাহাড়ি নদীর স্বচ্ছ কালারফু পানির পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই ভুটান ভ্রমণ। বাংলাদেশের সাথে ভুটানের সরাসরি কোনো বর্ডার নাই, তাই ভারত হয়েই ভুটান যেতে হবে। ঢাকা থেকে বুড়িমারী/চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়া ভারতে প্রবেশ করে ওইখান থেকে বাস বা ট্যাক্সি করে ভুটান বর্ডার জয়গাঁ/ফুন্টশোলিং দিয়ে ভুটানে প্রবেশ করা যায়। (চ্যাংড়াবান্ধা, জয়গাঁ – ভারতে)

ভুটান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
আগস্ট থেকে অক্টোবর এই তিন মাস ভুটানে বেড়ানোর সব থেকে ভাল সময়। কারণ এই সময় আবহাওয়া খুব ভালো থাকে। এই সময়ে ভুটানে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। শীতকালে ভুটানে মারাত্বক ঠান্ডা পরে এবং বরফ জমে অনেক রাস্তা ঘাট বন্ধ হয়ে যায়। তাই শীতকাল ভুটানে বেড়ানোর ভাল সময় নয়। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে এ সময়টাও ভুটানে বেড়ানো কঠিন।

ভুটান ভ্রমণে কেমন সময় লাগে?
ভুটানে মোট ২০ টা ডিস্ট্রিক্ট রয়েছে। সব গুলাতেই রয়েছে বেশ কিছু ছোট বড় শহর আর দর্শনীয় স্থান, যার সবগুলাই অসম্ভব সুন্দর। সব ভ্রমণ করতে মোটামোটি এক মাস লেগে যাবে। যাদের প্রচুর টাকা পয়সা রয়েছে এবং হাতে আছে যথেষ্ট সময় তারাই কেবল এমন অভিযানে নামতে পারে। তবে থিম্পু, পারো, ফুন্টসলিং, পুনাখা, বুমথং এবং হা ভ্যালি এই শহর গুলি ঘুরলেই মোটামোটি ভুটান ভ্রমণ হয়ে যাবে। আর এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭-৮ দিন।

ভুটান ভ্রমণের খরচ
একজন মানুষ মাত্র ১৫০০০ টাকায় ভুটান ঘুরে আসতে পারে। তবে অনেকের খরচ একটু কম বেশি হতে পারে। কারণ বিভিন্ন দামের হোটেল, খাবার রয়েছে। আপনে কোথায় থাকবেন কি খাবেন তা নিতানন্তই আপনার ব্যপার। শ্যামলির শিলিগুড়ি-ঢাকা আসা-যাওয়া টিকেট ৩০০০ টাকা, ঢাকা-বুড়িমারী ৮০০-১০০০ টাকা (অন্য বাসে), ইন্ডিয়ান ভিসা প্রসেসিং ফি ৮০০ টাকা, ডলার এন্ড্রোসমেন্ট ফি ১৩০-৫০০ টাকা (ব্যাংক ভেদে), ট্র্যাভেল ট্যাক্স (বাংলাদেশ সরকার) ৫০০ টাকা, বর্ডারে বকশিস ১০০/২০০ করে ৩০০/৪০০ টাকা (আসা-যাওয়া)। ট্র্যাভেল ট্যাক্স সোনালী ব্যাংক থেকে কেটে নিতে পারেন যাবার আগে। অথবা বর্ডার থেকেও করতে পারেন। ওরা ৫০-১০০ টাকা চার্জ নিবে। বাকি টাকা ভুটানে গাড়ি ভাড়া, হোটেল খরচ এবং খাবার খেতে খরচ হয়।

ভুটান ভ্রমণের জন্য কি কি দরকার
ভুটান ভ্রমনের জন্য আপনার নিচের জিনিস গুলো দরকার হবে:
বাংলাদেশী পাসপোর্ট
বাসের টিকেট (ঢাকা-বুড়িমারী অথবা ঢাকা-শিলিগুঁড়ি)
পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় ডলার এন্ড্রোসমেন্ট (আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড থাকলে তার এন্ড্রোসমেন্ট)
আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ( যদি থাকে সব থেকে ভালো হয় )
ইন্ডিয়ান ট্রানসিট ভিসা
নুন্নতম ১৫ হাজার টাকা ( শপিং ছাড়া )
চাকরিজীবী হলে অফিস থেকে NOC (বর্ডারে দেখতে হবে)
পাসপোর্টের প্রধান পেইজের ৩-৪ সেট ফটোকপি
ট্রানসিট ভিসার ১ সেট ফটোকপি
৩-৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
প্রয়োজনীয় জামাকাপড় (শীত কালে গেলে মোটা জ্যাকেট, কান টুপি, হাত মুজা ইত্যাদি)
প্রয়োজনীয় ঔষধ পত্র (প্যারাসিটামল, গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধ, ঠান্ডা কাশির সিরাপ ইত্যাদি)
লেখার জন্য কলম (জরুরি না, তবে বিভিন্ন ফর্ম পূরণ করতে গেলে লাগবে)
ভুটানে কোথায় কোথায় ঘুরবেন তার ম্যাপ, স্মার্ট ফোন থাকলে গুগল ম্যাপে অফলাইন ম্যাপ লোড করে নিবেন
পরিশ্রম করার মতো সুস্থ শরীর
হিন্দি বা ইংরেজী তে কথা বলার অভিজ্ঞতা (ভুটানিরা হিন্দি ভাল জানে)
ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা, স্মার্ট ফোন

কিভাবে পাবেন ইন্ডিয়ান ভিসা?
সড়ক পথে ভুটান ভ্রমণের জন্য প্রথমেই আপনার প্রয়োজন ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার, যা কিনা ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্ক (এখন অন্যান্য শাখাতেও পাওয়া যায়, যেমন চট্টগ্রাম) শাখা থেকে নেয়া যায়। বাসের টিকেট কাটতে হবে। বাসের টিকেট ট্রানজিট ভিসার কাগজ পত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। শ্যামলী পরিবহন ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যায়। আপনি চাইলে অন্য বাসের টিকিট ও কাটতে পারেন।

ভুটান ভ্রমণের প্ল্যানিং
ভুটানে আপনে কোথায় কোথায় ঘুরবেন, কখন কোথায় থাকবেন তার একটা খসড়া ঢাকা থেকেই করে নিবেন। মোটামোটি সাত দিনে ভুটান ভ্রমণের প্ল্যান অনেকটা এইরকম:

প্রথম দিন:
রাতের বাসে ঢাকা থেকে বুড়িমারী/চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডারের উদ্দেশ্যে যাত্রা।

দ্বিতীয় দিন:
সকালে বুড়িমারী নেমে চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার দিয়ে ভারতে প্রবেশ। ওইখান থেকে বাস বা ট্যাক্সি করে ভারত/ভুটান বর্ডার জয়গাঁ/ফুন্টশোলিং দিয়ে ভুটানে প্রবেশ। বিকালে ফুন্টশোলিং থেকে বাস বা ট্যাক্সি দিয়ে থিম্পুতে গমন এবং রাত্রি যাপন।

তৃতীয় দিন:
থিম্পু শহর ভ্রমণ এবং পুনাখা যাবার পারমিশন সংগ্রহ করা।

চতুর্থ দিন:
থিম্পু থেকে পুনাখার উদ্দেশ্যে যাত্রা। যাবার পথে দোচুলা পাস দেখা। পুনাখা শহর ভ্রমণ এবং পুনাখা সাসপেনশন ব্রিজ দেখা। রাতে থিম্পুতে ফিরে আসা।

পঞ্চম দিন :
থিম্পু থেকে পারো শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা। চেলে লা পাস দেখা, পারো শহরে ঘুরাঘুরি এবং টাইগার নেস্ট দেখা বা উঠা। পারোতে রাত্রি যাপন।

ষষ্ঠ দিন:
সকালে পারো থেকে ফুন্টশোলিং/জয়গাঁ হয়ে ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডারের উদ্দেশ্যে যাত্রা। সন্ধ্যার আগে বর্ডার পার হয়ে বুড়িমারী তে প্রবেশ।

সপ্তম দিন:
বুড়িমারী থেকে রাতের বাসে যাত্রা করে সকালে ঢাকায় পৌঁছানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *