জম্মু ও কাশ্মীর হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত ভারতের একটি রাজ্য। এই রাজ্যের উত্তরে ও পূর্বে চীন এবং পশ্চিমে পাকিস্তান অবস্থিত। শ্রীনগর এই রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন এবং জম্মু শীতকালীন রাজধানী। জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা ও লাদাখ – এই তিন অঞ্চল নিয়ে রাজ্যটি গঠিত। শ্রীনগর সবুজ কাশ্মীর, আর লাদাখ সাদা কাশ্মীর নামে পরিচিত। চলুন জেনে নেই পৃথিবীর স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণের আদ্যপান্ত।

কাশ্মীর হলো দুনিয়ার বেহেশত। যার নাম শুনলেই সবুজ প্রকৃতির দিকে মন চলে যায়। আহ্, কি সুন্দর করে সাজিয়েছেন এ প্রকৃতি। কাশ্মীরের সৌন্দর্য নিয়ে কত কবি কত কবিতা লিখেছেন, কত গল্পকার কত গল্প লিখেছে। সবাই সাজিয়ে তুলেছেন মনের মাধুরী মিশিয়ে। ভ্রমণপিপাসু সবাই চায় জীবনে একবার হলেও কাশ্মীর ঘুরে আসতে। ছোটবেলা থেকেই কাশ্মীরে বিভিন্ন হিন্দি মুভির শুটিং দেখে আমিও কাশ্মীরের প্রেমে পরে যাই এবং জীবনে একবার হলেও কাশ্মীর যাব ঠিক করি।

তবে আমির খানের থ্রি ইডিয়টস মুভি দেখার পরে লাদাখের প্রতিও মানুষের চাহিদা বেড়ে যায়। আমিও ঠিক করি একবার লাদাখ যাব, পরে আরেকবার সবুজ কাশ্মীর যাব। সাধারণত সবাই এমনই প্ল্যান করে। কিন্তু সময় সল্পতার কারণে আমি একসাথে লাদাখ এবং কাশ্মীর ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেই। খুব কম লোকই এক সাথে দুই জায়গার যায়।

Magnetic Hill ladak
লাদাখের ম্যাগনেটিক হিল এ আমরা: ফাহিম, খাদেম, মেহেদী, রাশেদ, রিয়াজ, আজিজুর

লাদাখ এবং কাশ্মীর কিভাবে যাবেন?
যেকোনো ট্যুরেই একা থেকে দলবদ্ধ ভাবে গেলে অনেক বেশি মজা হয়, আর খরচ ও কমে যায়। দল বা টিমের সাইজ ৪ বা ৬ গুণিতক হলে ভাল। তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করা লাগেনা এবং হোটেল বুকিং, গাড়ি ভাড়া করতে সুবিধা হয়। আমিও টিম খুঁজতে থাকি এবং ভুটান ট্যুরের মতো এবারও আমার অফিসের ৬ জন কে পেয়ে যাই। যেই কথা সেই কাজ, আমার অফিসের ছয় কলিগ মিলে লাদাখ-কাশ্মীর ভ্রমণের প্লানিং শুরু করে দেই। লাদাখ বা কাশ্মীর যেতে হলে প্রথমেই আপনার থাকতে হবে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা। কিভাবে ভারতের ভিসা নিবেন তা আমার অন্য এক পোস্টে বিস্তারিত লেখা আছে। ভারতের ভিসা থাকলে আপনি বিভিন্ন ভাবে ঢাকা থেকে কাশ্মীর যেতে পারেন।

রুট ০১:
ঢাকা থেকে প্লেনে দিল্লি। সেখান থেকে কাশ্মীর যেতে চাইলে ডমেস্টিক প্লেনে শ্রীনগর, লাদাখ যেতে চাইলে লেহ। এতে খরচ একটু বেশি পরে। তবে সময় অনেক কম লাগে। ঢাকা থেকে কাশ্মীর/লাদাখের সরাসরি কোনো ফ্লাইট আপাদত নাই।

রুট ০২:
ঢাকা থেকে সড়ক পথে বাস/ট্রেন এ কলকাতা বা আগরতলা। সেখান থেকে ডমেষ্টিক প্লেনে দিল্লি। পরে দিল্লি থেকে শ্রীনগর/লেহ। এতে খরচ একটু কম হয়। তবে কলকাতার পরিবর্তে আগরতলা হয়ে গেলে ভাল। এতে সময় কম লাগে। কলকাতা থেকে দিল্লি প্লেনে যে ভাড়া আগরতলা থেকে একই ভাড়া। ঢাকা থেকে আগরতলা যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘন্টা, যেখানে কলকাতা যেতে লাগে প্রায় ১২ ঘন্টা।

রুট ০৩:
ঢাকা থেকে সড়ক পথে বাস/ট্রেন এ কলকাতা। সেখান থেকে ট্রেনে দিল্লি। দিল্লি থেকে শিমলা মানালি হয়ে লেহ। এতে খরচ অনেক কম পরে। তবে আপনার হাতে যদি যথেষ্ট সময় থাকে ও একটু অ্যাডভাঞ্চারাস হন তাহলেই কেবল এ রুটে যাবেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে অন্তত ৪৮০ কি. মি. জার্নি করার মত মানসিক ও শারীরিক শক্তি থাকতে হবে। তবে, এই গ্যারান্টি দিতে পারি যে এটাই হবে আপনার জীবনের সব থেকে সেরা ভ্রমণ। এতে আপনাকে বেশ কয়েকটা ১৫,০০০+ ফিট উঁচু পাস্ পার হয়ে যেতে হবে। তবে এই রুট বছরে মাত্র ছয় মাস খোলা থাকে, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত।

আপনার সময় এবং বাজেটের উপর নির্ভর করে আপনি আপনার জন্য উপযুক্ত রুট চয়েজ করবেন। তবে প্রত্যেক রুটেই আলাদা মজা। আর প্লেনে যেতে চাইলে সম্ভব হলে কমপক্ষে ৬০ দিন আগে টিকেট কেটে নিবেন। তাহলে অনেক সস্তায় টিকেট পেতে পারেন। বিভিন্ন টিকেট বুকিং সাইট অথবা বিভিন্ন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স এর ওয়েব সাইট থেকে সহজেই টিকেট কাটা যায়। আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেইমেন্ট করে দিবেন। তবে টিকেট কাটার আগে বেশ কয়েকটা এয়ারলাইন্স এ অবশ্যই দাম কম্পেয়ার করে নিবেন। টিকিটের মূল্য একেক এয়ারলাইন্স এ একেক সময় একেক রকম থাকে। আমরা ঢাকা থেকে সড়ক পথে আগরতলা হয়ে দিল্লি যাই। দিল্লি থেকে প্লেনে লাদাখের লেহ শহরে পৌঁছাই। ভ্রমণের ৪৫ দিন আগে টিকেট কাটায় আমরা মাত্র ৭০০০ রুপিতে আগরতলা-দিল্লি আসা যাওয়ার প্লেনের টিকেট পেয়ে যাই।

লাদাখ ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
লাদাখ খুবই দুর্গম এবং মারাত্মক ঠান্ডা এলাকা। শীতকালে এই ঠান্ডার পরিমান অনেক বেড়ে যায়। মে থেকে অক্টোবর এই ছয় মাস লাদাখে বেড়ানোর সব থেকে ভাল সময়। কারণ এসময় ঠান্ডা একটু কম থাকে এবং আবহাওয়া খুব ভালো থাকে। এই সময়ে লাদাখে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। শীতকালে (নভেম্বর – এপ্রিল) লাদাখে মারাত্বক ঠান্ডা পরে এবং বরফ জমে অনেক রাস্তা ঘাট বন্ধ হয়ে যায়। তখণ গেলে ঠান্ডা মোকাবেলা করতে করতে জীবন শেষ হয়ে যাবে, তেমন কিছু দেখা যাবে না। তাছাড়া এসময়ে প্রায় ৯০% হোটেল বন্ধ থাকে। ফলে থাকা ও খাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে। তাই শীতকাল লাদাখে বেড়ানোর ভাল সময় নয়।

কাশ্মীর ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
কাশ্মীর মূলত একটি অল ওয়েদার ট্যুরিস্ট এরিয়া। আবহাওয়া ও ভৌগোলিক দিক থেকে কাশ্মীরে মৌসুম রয়েছে চারটি। গ্রীষ্ম (জুন, জুলাই, আগস্ট), শরৎ (সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর), শীত (ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি) এবং বসন্ত (মার্চ, এপ্রিল, মে)। একেক মৌসুমে কাশ্মীরের একেক রূপ। আপনে যেকোনো সময়েই কাশ্মীর যেতে পারেন। কাশ্মীরে বেড়ানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময় এপ্রিল-অক্টোবর। তবে কাশ্মীরের পরিপূর্ণ রূপ উপভোগ করতে হলে, আপনাকে কমপক্ষে তিনবার যেতে হবে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, যখন বর্ষার শেষে চারিদিকে থাকবে সবুজের সমারোহ, গাছে গাছে ধরবে আপেল। ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি, যখন বরফে ছেয়ে যাবে সব কিছু। আর এপ্রিল, যখন কাশ্মীরের বিখ্যাত টিউলিপ গার্ডেনে ধরবে ফুল, সাথে থাকবে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি, রৌদ্রোজ্জ্বল দিন। আর সব বিবেচনা করে, আপনি যদি একবারের জন্য কাশ্মীর যেতে চান, তাহলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ হবে আপনার জন্য সেরা সময়।

তবে শীতে কাশ্মীর ভ্রমণ করতে হলে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হবে। গরম কাপড়, গ্লাভস, বুট অবশ্যই সাথে রাখতে হবে। এসময় তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে যায়। বরফ জমে, তুষারপাতে জনজীবন অচল হয়ে পরে। জরুরি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে কেউ বের হয় না। রাজধানী এ সময় চলে আসে জম্মুতে। যারা স্থলপথে যেতে চান, নভেম্বর-এপ্রিল এই ছয় মাস এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ তখন বরফ পরে অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমার মতে শরৎ কালই সব থেকে বেস্ট। বরফে ঢাকা কাশ্মীর থেকে সবুজ কাশ্মীরই বেশি সুন্দর। আর কাশ্মীরে কম আর বেশি সব সময়ই ঠান্ডা, বরফ থাকে।

কাশ্মীর ভ্রমণে কেমন সময় লাগে?
কাশ্মীর এবং লাদাখ অসম্ভব সুন্দর। দুই জায়গায়ই রয়েছে প্রচুর সুন্দর সুন্দর স্থান। যার সবগুলোয় ভ্রমণ করতে মোটামোটি এক মাস লেগে যাবে। যাদের প্রচুর টাকা পয়সা রয়েছে এবং হাতে আছে যথেষ্ট সময় তারাই কেবল এমন অভিযানে নামতে পারে। তবে মোটামোটি ভাবে একসাথে লাদাক এবং কাশ্মীর ভ্রমণ করতে হলে ৮-১০ দিন সময়ের প্রয়োজন। তবে আপনার ট্যুর প্ল্যান হিসাবে ২-১ দিন কম বেশি লাগতে পারে।

কাশ্মীর ভ্রমণের খরচ
কাশ্মীর অনেক বড় আর দুর্গম। তাই এখানে খরচ একটু বেশি। একজন মানুষের মোটামোটি ভাবে কাশ্মীর ঘুরে আসতে ৫০-৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন। শপিং করলে আরো বেশি যাবে। তবে আপনে চাইলে এটাকে কমিয়ে নিয়ে আসতে পারেন। কারণ বিভিন্ন দামের হোটেল, খাবার রয়েছে। আপনে কোথায় থাকবেন কি খাবেন তা নিতানন্তই আপনার ব্যপার। সঠিক প্ল্যান থাকলেই কেবল এটা সম্ভব। আমরা ছয়জন আগরতলা থেকে প্লেনে প্রথমে লাদাখ যাই। পরে সেখান থেকে কাশ্মীর ঘুরে আবার আগরতলা হয়ে ঢাকায় ফেরত আসি। আমরা ৯ দিন ছিলাম এবং মোটামোটি ভালো মানের হোটেলে থাকি। আমাদের একেক জনের শপিং ছাড়া ৩৯,০০০ টাকার মতো খরচ হয়।

লাদাখ ভ্রমণের প্রস্তুতি
লাদাখ বা কাশ্মীর ভ্রমণ করতে হলে বেশ টাকাপয়সা আর সময় লাগে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া ভালো। মোটামোটি ছয় মাস আগে থেকেই প্ল্যান করে ফেলুন। সার্ভিস হোল্ডার হলে যে বছর যাবেন সে বছরকার ছুটি হুদাই শেষ না করে এ সময়ের জন্য বাঁচিয়ে রাখুন। আগে থেকে বলে ছুটির ব্যবস্থা করে ফেলুন। প্রতিমাসে অল্প অল্প করে কিছু টাকা সেইভ করার চেষ্টা করুন। কম পক্ষে ২-৩ মাস আগে প্লেনের টিকেট কেটে ফেলুন। তার পরের মাসে শীতের জন্য জামাকাপড়, জুতা ইত্যাদি দরকারি জিনিসপত্র কিনে ফেলুন। তাহলে একবারে খুব বেশি প্রেসার পড়বেনা। এটা ফলো করলে আপনে মাত্র ২০,০০০ হাজার টাকায় লাদাখ বা কাশ্মীর ঘুরে আসতে পারবেন। অবাক হলেন? দাঁড়ান একটু ক্লিয়ার করি। আমি প্রায় দুই মাস আগে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ১৮,০০০ টাকায় আসা যাওয়ার টিকেট কেটে ফেলি। এই বিল পরিশোধ করে পরের মাসে শীতের জামাকাপড় কিনে ফেলি। ফাইনালি যাবার সময়ে মাত্র ২০,০০০ টাকা সাথে নিয়ে যাই। লাদাখে চলাফেরা করার জন্য শারীরিক ভাবে একটু ফিট থাকা লাগে। তাই যাবার ২-৩ মাস আগে থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ মিনিট ব্যায়াম করে নিজেকে শারীরিক ভাবে উপযুক্ত করে তোলার চেষ্টা করুন।

লাদাখ ভ্রমণের সতর্কতা
লাদাখের গড় উচ্চতা সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১৫০০ ফিট। অনেক জায়গার উচ্চতা আরো বেশি। এখানে সবসময়ই মারাত্মক ঠান্ডা থাকে। লাদাখ মূলত একটি মরুভুমি, যেখানে গাছপালা এবং বৃষ্টিপাতের পরিমান অনেক কম। বাতাসে অক্সিজেন লেভেল খুবই কম। অতি উচ্চতা, অতিরিক্ত ঠান্ডা, আর অক্সিজেন কম থাকার কারণে বাংলাদেশিদের মতো লো ল্যান্ডের মানুষদের AMS – একিউট মাউন্টেইন সিকনেস দেখা দিতে পারে। AMS এর লক্ষণ গুলো হলো: মাথা ঘুরানো, দুর্বল লাগা, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। কিন্তু ঘাবরানোর কিছু নাই। যাবার আগে কিছু প্রস্তুতি আর যাবার পর কিছু নিয়ম মেনে চললে AMS থেকে রক্ষা পাওয়ায় যায়। লেহ শহরে পৌঁছে হোটেলে কমপক্ষে ১/২ দিন ফুল রেস্টে থাকতে হবে। ঘন ঘন পানি খেতে হবে। পানি দেহে অক্সিজেনের লেভেল বাড়ায়। লেহ এর সব ফার্মেসিতে অক্সিজেনের মিনি ক্যান পাওয়া যায়। কেউ সমস্যা মনে করলে ২-১ টা কিনে নিবেন। দাম ১২০০ রুপির মতো। এর পরেও কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সাথে সাথে হাসপাতালে যেতে হবে। এছাড়াও একধরণে ট্যাবলেট পাওয়া যায় যা দেহে অক্সিজেন লেভেল বাড়ায়। ডাক্তারের পরামর্শে যাবার ২-১ দিনে আগে থেকে গ্রহণ করতে পারেন।

লাদাখ খুবই উঁচু এবং দুর্গম এলাকা। এখানে বছরে ছয় মাস ঠান্ডার কারণে প্রায় সব কিছু বন্ধ থাকে। যাবার আগে অবশ্যই সঠিক সময় জেনে নিবেন। এখানে চলাফেরা করার জন্য শারীরিক ভাবে বেশ ফিট থাকতে হবে। হাঁপানি, শাসকস্ট থাকলে না যাওয়াই উত্তম। আমি যাবার ২-৩ মাস আগে থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ মিনিট ব্যায়াম করে নিজেকে শারীরিক ভাবে উপযুক্ত করে তোলার চেষ্টা করি। আপনারাও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

লাদাখ একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। তাই এখানে নিরাপত্তা একটু বেশি। একটু পর পর আর্মি ক্যাম্প আর সবসময় রাস্তায় আর্মিদের ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। তাই সবসময় পাসপোর্ট, যে হোটেলে ওঠেছেন তার ফোন নাম্বার, ঠিকানা সাথে রাখবেন। লাদাখে সরকারি BSNL এর লাইন ছাড়া অন্য মোবাইল অপারেটরদের লাইন কাজ করেনা। দেশে যোগাযোগ করার একমাত্র মাধ্যম ইন্টারনেট। যদিও তার স্পিড খুবই কম। তাই হোটেলে উঠার আগে অবশ্যই ওয়াইফাই আছেকিনা জেনে নিবেন।

হোটেলে রুম ভাড়া নেবার আগে অবশ্যই দেখে নিবেন এবং দরদাম করে নিবেন। সম্ভব হলে লেহ তে পুরাতন টাউন এর দিকে থাকার চেষ্টা করবেন। তাহলে শাসকষ্ট একটু কম হবে। এখানে কোনো হোটেলেই A/C কিংবা ফ্যান নাই। আর দরকার ও নাই। তবে গরম পানির ব্যাবস্থা আছে কিনা দেখে নিবেন। না হলে শেষ। ট্যাক্সি ভাড়া করার আগে দামাদামি করে নিবেন।

ট্যুর প্ল্যান
লাদাখ-কাশ্মীরে আপনে কোন রুটে যাবেন, কোন রুটে ফেরত আসবেন, কবে কোথায় ঘুরবেন, কখন কোথায় থাকবেন ইত্যাদি সব কিছুর একটা খসড়া ঢাকা থেকেই করে নিবেন। আপনে দিল্লী থেকে প্রথমে কাশ্মীর ঘুরে সড়ক পথে লাদাখ চলে আসতে পারেন। পরে লাদাখ ঘুরে দিল্লী। আবার চাইলে দিল্লী থেকে প্রথমে লাদাখ হয়ে সড়ক পথে কাশ্মীর যেতে পাবেন। আমরা দিল্লী থেকে প্রথমে লাদাখ, সেখান থেকে কাশ্মীর যাই। সংক্ষেপে আমাদের ট্যুর প্ল্যান:

প্রথম দিন:
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকালের ট্রেনে আখাউড়া। সময় নিবে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। সেখান থেকে আখাউড়া ল্যান্ড বর্ডার হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা। ২-৩ ঘন্টা আগরতলা শহরে ঘুরাঘুরি করে বিকালের ফ্লাইটে দিল্লি। দিল্লি এয়ারপোর্টে রাত্রি যাপন।

দ্বিতীয় দিন:
দিল্লি থেকে সকাল ৭ টার ফ্লাইটে লাদাখের লেহ শহর। সময় নিবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। পুরা দিন হোটেলে বিশ্রাম।

তৃতীয় দিন:
লেহ শহরের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ

চতুর্থ দিন :
সকালে লেহ থেকে সড়ক পথে কাশ্মীরের উদ্দেশে যাত্রা করে কার্গিল শহরে রাত্রি যাপন। পথে বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণ। এটাই ট্যুরের সব থেকে রোমাঞ্চকর ইভেন্ট।

পঞ্চম দিন:
সকালে কার্গিল থেকে কাশ্মীরের সোনমার্গ। পথে ভয়ঙ্কর জোজিলা পাস্ অতিক্রম। থাজিওয়াস গ্লেসিয়ার এর সৌন্দর্য উপভোগ। বিকালে পেহেলগাম এর উদ্দ্যেশে যাত্রা এবং লিডার নদীর পারে কোনো এক কর্টেজে রাত্রি যাপন।

ষষ্ঠ দিন:
সারাদিন পেহেলগামের বিভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ। বিকালে রাজধানী শ্রীনগর এর উদ্দেশে যাত্রা। পথে আপেল গার্ডেন, ক্রিকেট ব্যাট ফ্যাক্টরি পরিদর্শন। রাতে বিখ্যাত ডাল লেকের পারে ভাসমান হোটেলে রাত্রি যাপন।

সপ্তম দিন:
ডাল লেকে শিকারা ভ্রমণ, শ্রীনগর শহরে ঘুরাঘুরি। শ্রীনগর থেকে বিভিন্ন কাশ্মীরি ড্রাইফুড, মসলা, জাফরান, কাশ্মীরি শাল, ড্রেস ইত্যাদি কেনাকাটা এবং হোটেলে রাত্রি যাপন।

অষ্টম দিন:
সকাল ৭ টার ফ্লাইটে দিল্লি। সময় নিবে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট। এয়ারপোর্টের কাছাকাছি কোনো হোটেলে চেকইন করে মালামাল রেখে সারাদিন দিল্লির বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন। রাতে শপিং, ঘুরাঘুরি, আড্ডা। হোটেলে রাত্রি যাপন।

নবম দিন:
দিল্লি থেকে সকাল ৭ টার ফ্লাইটে আগরতলার উদ্দেশ্যে যাত্রা। বর্ডার পার হয়ে সন্ধ্যার ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা।

Kamalapur railway station
কমলাপুর রেলস্টেশন, সেপ্টেম্বর ১৫: সকাল ০৭:৩০

এবার মূল ভ্রমণে আসি
আমরা ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকাল ৭:৪৫ এর ট্রেনে আখাউড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। ১০:৩০ এর দিকে আমরা আখাউড়া স্টেশনে পৌঁছাই। সেখান থেকে দুটি অটো ভাড়া করে আখাউড়া ল্যান্ড বর্ডার চলে আসি। ভাড়া নিল একেক অটো ১৫০ টাকা। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অফিসে এসে মাথা পুরাই নষ্ট। জরাজীর্ণ অফিস কক্ষ, মনে হল যে কোনো সময়ে ধসে পরবে। ফ্যান গুলাও কাজ করছে না। পক্ষান্তরে ভারতের ইমিগ্রেশন অফিস বেশ চকচকা, পরিষ্কার, সুন্দর। আমাদের এক টিম মেম্বারের পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকায় এবং ভারতের ইমিগ্রেশন অফিসে ইন্টারনেট লাইন ডাউন থাকায় দুই দেশের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এর কাজ শেষ করতে দুপর দেড়টা বেজে যায়। তবে দুই দেশের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এর লোকেরাই বেশ আন্তরিক।

Akhaura Land Port
আখাউড়া ল্যান্ড বর্ডার, সেপ্টেম্বর ১৫: দুপুর ১২:০০
ভারত-বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বর ১৫: দুপুর ১২:০৯

আগরতলা শহর
আমাদের এক মেম্বার ফাহিম, যার বাড়ি আখাউড়ায়। তার এক চাচা থাকে আগরতলা। উনি আমাদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে রাখে। ভারতের ইমিগ্রেশন অফিস থেকে বের হয়ে সেই গাড়িতেই আমরা চলে আসি আগরতলা শহরে। সময় নিল ১০-১৫ মিনিটের মতো। সেখানে এক রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে নেই। খাবার থেকে এর পরিবেশনটাই বেশি ইন্টারেষ্টিং ছিল। আগরতলা শহরের লোকজন দেখতে আমাদের মতোই এবং বাংলায় কথা বলে। খাবার শেষে আমরা শহরে ঘুরাঘুরি করি। শহরটি বেশি বড় না। তবে প্রচুর গাছ পালা আর ছোট ছোট পাহাড়ের মতো টিলা রয়েছে। টিলার উপর বিভিন্ন সরকারি অফিস আর কর্মকর্তাদের বাস ভবন গুলো বেশ সুন্দর। রাস্তা গুলাও বেশ উঁচুনিচু, গাড়ি দিয়ে ঘুরতে বেশ ভালোই লাগলো।

agortola city
আগরতলা শহর, সেপ্টেম্বর ১৫: দুপুর ০৩

আগরতলা থেকে দিল্লি
আমাদের ফ্লাইট বিকাল ৫:৪০ এ। তাই চলে আসি এয়ারপোর্টে। ল্যান্ড বর্ডার থেকে এখানে প্রাইভেট কার ভাড়া নেয় ১০০০ রুপি, সময় লাগে ২৫-৩০ মিনিট। এয়ারপোর্ট খুব বেশি বড় না হলেও এর নাম কিন্তু বেশ বড় “মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর বিমানবন্দর”। আগরতলা থেকে দিল্লির কোনো সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় আমাদের কলকাতা হয়ে দিল্লি যেতে হবে। সময়মতোই প্লেন ছেড়ে দিল। আমাদের মেম্বারদের অনেকেরই এটা প্রথম প্লেনে উঠা। তাই তারা খুব এক্সসাইটেড ছিল। আমরা কাউন্টারে বলে ৬ সিট একই সারিতে নিয়ে নেই। আমাদের এয়ারলাইন্স ছিল ইন্ডিগো। ভারতে এরাই সব থেকে সস্তায় মানুষ পরিবহন করে। আর এদের সেবার মান ও বেশ ভালো। ৩/৩ সিটের এয়ারবাসগুলো বেশ সুন্দর আর বড়। তবে এরা প্লেনে একমাত্র পানি ছাড়া ফ্রিতে আর কোনো খাবার দেয়না, তাও গ্লাসে করে দেয়। যেখানে আমাদের দেশের সব এয়ারলাইন্সই ফ্রীতে খাবার পরিবেশন করে। ব্যাপারটা একটু অন্যরকম লাগলো। তবে আপনি চাইলে পয়সা দিয়ে কিনে খেতে পারবেন।

agortola airport
ফ্লাইট ছাড়ার পূর্বে আগরতলা এয়ারপোর্ট, সেপ্টেম্বর ১৫: বিকাল ০৫:১৫

প্রায় ৪০ মিনিট পর আমাদের ফ্লাইট কলকাতা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে। এখানে ৩ ঘন্টা ট্রানসিট তাই এয়ারপোর্টের ভিতরেই থাকি। আমি কেএফসি থেকে রাতের খাবার খেয়ে নেই। দাম পড়লো ২৩০ রুপির মতো। আপনে চাইলে আরো কমে খেতে পারেন। রাত ১০:৩০ এর ফ্লাইটে আমরা আবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট পর আমরা দিল্লি চলে আসি।

দিল্লি থেকে আমাদের ফ্লাইট সকাল ৭ টায় লাদাখের লেহ শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। তাই হাতে প্রায় ৫ ঘন্টার মতো সময় আছে। রাত ১:৩০ এর দিকে আমরা এয়ারপোর্টের বাহিরে চলে আসি। উদেশ্যে একটু ঘুরাঘুরি আর নাস্তা করা। কিন্তু অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় দুরে কোথাও গেলাম না। এয়ারপোর্টের পাশেই এক স্ট্রিট ফুডের দোকানে ডিম-ব্রেড খেলাম। এই মাঝ রাতে একটি দেশের রাজধানীতে ফুটপাতে বসে ব্রেড খেতে সেই লাগল। পাশের এক মুদি দোকান থেকে আমরা কিছু চকলেট, চিপস কিনে নিলাম লাদাখে ভ্রমনের সময় খাওয়ার জন্য। কেননা লাদাখে সব সময় এগুলা পাওয়া যাবেনা, আর দামও একটু বেশি। যেহেতু সেখানে লম্বা লম্বা জার্নি করব তাই সাথে কিছু খাবার থাকা উচিৎ।

দিল্লিতে রাতে বেশ ঠান্ডা পরে। তাই তাড়াতাড়ি এপারপোর্টে ঢুকে গরম কাপড় পরে নিলাম। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী এয়ারপোর্ট অনেক বড়। কত বড় তার একটা উদাহরণ দেই। আমরা টার্মিনাল ১ তে প্রবেশ করি। টিকেট দেখে গার্ড বললো, আপনাদের ফ্লাইট টার্মিনাল ৩ থেকে ছাড়বে। লিফ্ট দিয়ে নিচে নেমে যান, ঐখানে দেখবেন বেশ কিছু লোক দাঁড়িয়ে আছে, একটু পর পর বাস আসবে, উঠে টার্মিনাল ৩ তে চলে যান। ভাবলাম কাছেই হবে, আবার বাস কেন হেঁটেই তো যেতে পারতাম। যাই হোক নেমে দাঁড়িয়ে থাকি, একটু পর বাস আসল। সুন্দর A/C করা বেশ ভালো মানের বাস। বাসের লোক বললো ২৫ রুপি ভাড়া দেন। একটু অবাক হলাম এতো ভাড়া কেন। কলকাতায় তো ২৫ রুপি দিয়েই ২৫ কিলোমিটার যাওয়া যায়। বাস যেতেই থাকল। প্রায় ২০-২৫ মিনিট পর আমরা টার্মিনাল ৩ তে আসলাম। এতক্ষন আমরা এপারপোর্ট এরিয়াতেই ছিলাম।

টিকেট দেখিয়ে সিকিউরিটি চেকিং কমপ্লিট করে ভিতরে ঢুকে অপেক্ষা করতে থাকি। এয়ারপোর্ট বিশাল বড় আর একদম পরিষ্কার, মনে হয় ৫ ষ্টার মানের হোটেল। কিভাবে এরা ম্যানেজ করে ভেবে একটু অবাক হলাম। আর আমাদের দেশে 🙁 আমরা শুয়ে, বসে, ঘুমিয়ে বাকিটা সময় পার করে দেই। ও ভালো কথা এখানে কিন্তু ঘুমানোর জন্য আলাদা বড় চেয়ার আছে, যেখানে শুয়ে ঘুমানো যায়।

leh airport leh city
আকাশ থেকে লেহ, সেপ্টেম্বর ১৬: সকাল ০৮:১০

দিল্লি থেকে লেহ
নির্ধারিত সময়ে আমাদের ফ্লাইট লেহ শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এবারকার এয়ারলাইন্স ভিস্তারা। ভিস্তারা খুবই সুন্দর, ৩/৩ সিট। এরা ফ্রি খাবার পরিবেশ করল। প্রায় ২০,০০০ ফিট উপরে বসে খেতে দারুন লাগলো। একটু পরেই সাদা সাদা বিশাল পাহাড় প্লেনের জানালা দিয়ে দেখতে পেলাম। প্রায় ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট পরে আমরা লেহ তে চলে আসি। পাইলট ঐখানকার বর্তমান তাপমাত্রা আর ওয়েদার কেমন জানিয়ে দিল। AMS এর ব্যাপারেও ধারণা দিয়ে দিল। সাথে তিনি এও জানালো যে পার্কিং না পাওয়ায় আমাদের ফ্লাইট নামতে দেরি হবে।

লেহ শহর কে নিচে রেখে বিশাল বিশাল পাহাড়ের মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে আমাদের ফ্লাইট চক্কর দিতে থাকে। সিনেমায় নায়ক যেভাবে অন্য গাড়িগুলাকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত এগিয়ে যায়, আমাদের পাইলট ও সেভাবে পাহাড় গুলাকে পাশ কাটিয়ে ফ্লাইট কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। পাহাড়গুলো এতো কাছে ছিল যে মনে হচ্ছে এই বুঝি লেগে গেল। কিছু পাহাড় বরফে ঢাকা, কিছু আবার ঝুরঝুরে পাথরের। অনেক দূরের রাস্তা, পাহাড়ি নদী সব সরু লাইনের মতো মনে হতে লাগলো। একপর্যায়ে মাথা ঘুরতে লাগলো, তাই বাহিরে তাকানো বন্ধ করে দেই। দেহের অক্সিজেন লেভেল ঠিক রাখার জন্য আমরা একটু পর পর পানি পান করতে থাকি। এভাবে প্রায় ২০ মিনিট চক্কর কাটার পর আমাদের ফ্লাইট ল্যান্ড করে।

ফ্লাইট থেকে নামার পরেই বুঝতে পারি এখানে অক্সিজেন কম, হালকা একটু খারাপ লাগতে লাগলো। তবে কারোরই তেমন কোনো সমস্যা হয় নাই। দ্রুত ব্যাগ নিয়ে, এয়ারপোর্টের বাহিরে চলে আসি। এসেই দেখি আমাদের জন্য গাড়ি নিয়ে একজন অপেক্ষা করছে। আমরা ঢাকা থেকেই তাকে ঠিক করে আসি। এয়ারপোর্ট থেকে লেহ শহরে যেকোনো হোটেলে পিকাপ/ড্রপ ৫০০ রুপি। ১৫-২০ মিনিটের মাঝেই আমরা হোটেলে চলে আসি। এসে নাস্তা করে রুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুম দিয়ে দেই। আজ খুব ক্লান্ত তাই বাকি টুরের গল্প অন্য পর্বে বলব।

কাশ্মীর ভীষণ সুন্দর এলাকা। তাই যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা বা পানির বোতল ফেলে একে ময়লা করার কোনো মানে নাই। কাশ্মীরের লোকজন খুব ধর্মভীরু। তাই তাদের ধর্ম বা রাজনীতি নিয়ে কোনো সমালোচনা করবেন না। আপনে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তা তাদের সাথে শেয়ার করবেন। বাংলাদেশীদের এরা খুব সম্মান করে এবং ভালো জানে। চেষ্টা করবেন তা ধরে রাখতে। ক্রিকেট এদের জানপ্রাণ। সাকিব, মাশরাফি তাদের প্রিয় খেলোয়াড়।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। লাদাখ এবং কাশ্মীর ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

Published by রাশেদুল আলম

আমি পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। টেকনোলজি নিয়ে কাজ এবং লেখালেখি করলেও ঘুরে বেড়াতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। তাই যখনই সময় পাই বেড়িয়ে পরি। সবুজ প্রকৃতি আমায় সব সময়ই কাছে টানে। আমি অনেককেই দেখেছি কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছাড়াই ঘুরতে বেড়িয়ে পরে। আর নানা ধরণের ঝামেলায় পরে। অথচ ইন্টারনেট ঘেটে একটু ধারণা নিয়ে আসলেই তাদের ট্যুর টা অনেক ভাল হতে পারতো। তাই নিজের অভিজ্ঞতা গুলোকে এখানে শেয়ার করার চেষ্টা করি, যাতে অন্যরা উপকৃত হতে পারে।

Join the Conversation

16 Comments

  1. আমরা জানুয়ারি তে কাশ্মীর যাব। তখন কি লাদাখ যেতে পারব? আর তখন যাওয়া টা কি ঠিক হবে?

    1. না তখন লাদাখ না যাওয়ায় ভালো। সব কিছু বরফে ঢেকে যায়। অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কিছুই দেখতে পারবেন না। আর শ্রীনগর থেকে সড়ক পথে একদমই যেতে পারবেন না। তবে কাশ্মীর যেতে পারেন।

  2. দারুন হয়েছে লেখাটা। বাকি পর্বগুলো কবে দিবেন??

  3. জি ভাই। হালারা বহুত কিপটা। প্লেনে পানি ছাড়া আর কিছু দেয়না। বরিশাল গেলেও তো আমাদের প্লেনে নাস্তা দেয়। পানির বোতল তো আমাদের দেশের বাসেই আনলিমিটে।

  4. দুবাই থেকে লাদাখ যেতে চাইলে কোথায় নামলে ভাল হয়। আমার ইন্ডিয়ান ভিসার মেয়াদ শেষ। নতুন ভিসা কই থেকে পাব?

  5. সেই ভাই। লেখা পরেই যেতে ইচ্ছা করছে। যাব একদিন। তার আগে টাকা পয়সা ম্যানেজ করে নেই 🙂

  6. MP হলেপারকি কি ফিরি ফিরি যাইবার পারুম ??

  7. ভাই লাদখে খাওয়া দাওয়া কেমন? ভাত পাওয়া যায়??

  8. বউ বাচ্চা নিয়া যাওয়া কি সম্ভব?? গেলে প্লেনে যাব। লাদাখ আমার খুব প্রিয় একটি জায়গা।

  9. অনেক বড় লেখা। পরতে পরতে শেষ:( যাই হোক ভাল লাগছে। ধন্যবাদ।

  10. হ্যা ভাই সব কিছু ই পাওয়া যায়। তবে বাঙালি দের মত ভাত ডাল আলু ভাজা পাওয়া যায় না। মাছ খাওয়ার আশা না করাই ভাল 🙂

  11. আপনার প্লান টা খুবি ভাল লেগেছে, আপনার সাথে যোগাযোগ করার একটা মাধ্যম পেতে পারি, আমাদের যাওয়ার একটা প্লান রয়েছে

    1. আমাদের ফেইসবুক পেইজে নক করলেই পাবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *