মেরিন ড্রাইভ কক্সবাজার

বর্তমানে কক্সবাজার ভ্রমনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট হলো মেরিন ড্রাইভ রোড (Marine Drive)। এই রোডের এক পাশে সমুদ্র আর অন্যপাশে সবুজে ঢাকা ছোট বড় পাহাড়। কোথাও কোথাও পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে ঝর্ণা।

মেরিন ড্রাইভের নির্মাণ
মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয় ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৩ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মাঝে বেশ কয়েকবার সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। তিনটি ধাপে এই সড়ক নির্মাণ করা হয়। প্রথম ধাপে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফ সদর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার ও শেষ ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়। ২০১৭ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এতে মোট খরচ হয় প্রায় ৪৫৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এটির নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন।

মেরিন ড্রাইভ রোড কিভাবে যাবেন
মেরিন ড্রাইভ রোডে ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে প্রথমে আসতে হবে কক্সবাজার। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিভিন্ন উপায়ে আসা যায়। ঢাকা থেকে গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, সোহাগ পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বাস প্রতিদিন কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রত্যেক সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পর্যন্ত।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী ট্রেনে চট্রগ্রাম চলে আসতে পারেন। এরপর চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকা অথবা ধামপাড়া বাস্ট স্ট্যান্ড থেকে হানিফ, এস আলম অথবা ইউনিক পরিবহনের বাসে কক্সবাজার আসতে পারবেন। বাস ভেদে ভাড়া ২৮০ থেকে ৫৫০ টাকা নিবে।

এছাড়া আকাশ পথেও কক্সবাজার আসা যায়। বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। আবার আকাশপথে প্রথমে চট্রগ্রাম এসেও সেখান থেকে সড়ক পথে কক্সবাজার যেতে পারবেন। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ভাড়া বিভিন্ন রকম। সাইটে দেখে নিতে পারেন।

কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ রোড কিভাবে যাবেন?
কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে মেরিন ড্রাইভ রোড যাবার জন্য খোলা জীপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটো ইত্যাদি পাওয়া যায়। পছন্দ মতো দরদাম করে ভাড়া করে নিবেন। সিএনজি কিংবা অটোরিক্সাতে করে মেরিন ড্রাইভ রোড ঘুরে আসতে অনেক বেশি সময় লাগবে। দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসার জন্য খোলা জীপ নিলে ভালো। সিজনের উপর গাড়ি ভাড়া নির্ভর করে। সাধারণত খোলা জীপ ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা নিবে।

সম্পূর্ন মেরিন ড্রাইভ ঘুরে আসতে প্রায় ৫ ঘন্টার মত সময় লাগবে। কোন পর্যন্ত যাবেন গাড়ি ঠিক করার সময় ড্রাইভারকে সেটা বলে নিবেন। তা না হলে হয়তো আশেপাশের একটু জায়গা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারে। এর আপনার হাতে যদি অল্প সময় থাকে তাহলে হিমছড়ি বা ইনানী বীচ পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে অটোরিক্সা/ইজিবাইক অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে নিতে পারেন। তবে মেরিন ড্রাইভে খোলা জীপে ঘুরেই আসল মজা। ইনানী পর্যন্ত খোলা জীপ ভাড়া নিবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ১০ ঠিক ১২ জন অনায়াসে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন
কক্সবাজারে এখন প্রচুর হোটেল, মোটেল, কটেজ আছে। এদের মধ্যে সায়মন বিচ রিসোর্ট, মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সী গাল, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ, সী প্যালেস, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন, ইউনি রিসোর্ট, উর্মি গেস্ট হাউজ, কোরাল রীফ, ইকরা বিচ রিসোর্ট, অভিসার, মিডিয়া ইন, কল্লোল, হানিমুন রিসোর্ট, নীলিমা রিসোর্ট উল্লেখ্য। বিভিন্ন হোটেলের ভাড়া বিভিন্ন রকম। আপনার প্রয়োজন অনুসারে বেছে নিন।

সাধারণত অফ সিজনে অগ্রিম হোটেল বুকিং না দিলেও চলে। কিন্তু সিজনে (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী) অগ্রিম বুকিং দিয়ে যাওয়াই ভালো। নাহলে ঝামেলায় পড়তে পারেন। অফসিজনে হোটেলের ভাড়া প্রায় অর্ধকে নেমে আসে। সুযোগ থাকলে কক্সবাজার নেমে কয়েকটি হোটেল দেখে একটু দরদাম করে নিতে পারেন। বীচ এবং মেইন রোড থেকে হোটেল যত দূরে হবে হোটেলের ভাড়া ততো কমতে থাকবে। হোটেল খোঁজার ক্ষেত্রে রিকশাওয়ালা বা সিএনজিওয়ালার পরামর্শ নিতে পারেন। তাদেরকে আপনার বাজেট আর চাহিদা বলে দিলে তারাই আপনাকে ওই ধরণের হোটেলেই নিয়ে যাবে। তবে সাধারণত এরা যেখানে কমিশন পাওয়া যাবে আপনাকে সেখানেই নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে হোটেলের ফেইসবুক পেইজ বা ওয়েবাসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিতে পারেন।

কোথায় খাবেন
এখন মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। চাইলে এসব রেস্টুরেন্টের যেকোনো একটাতে খেয়ে নিতে পারেন। আবার কক্সবাজার এসেও খেতে পারেন। এখানে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট আছে। তাদের মধ্যে পৌষি, ধানসিঁড়ি, রোদেলা, ঝাউবন, নিরিবিলি ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। সিজন অনুসারে একগুলার খাবারের দামও কম বেশি হতে পারে। আর কক্সবাজার এসে রূপচাঁদা মাছ খেতে ভুলবেন যেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *