![]()
মায়া ব্রিজ (Maya Bridge) মায়া নদীর উপর নির্মিত খুব সাধারণ একটি সেতু হলেও, এর উপর দাঁড়ালেই চোখে পড়ে এক অন্যরকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ব্রিজটির দুই পাশে বিস্তৃত মায়া নদীর শান্ত জলরাশি, খোলা নীল আকাশ আর সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ মিলিয়ে তৈরি করে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এই ব্রিজটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছেও বেশ আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান।
মায়া ব্রিজ কোথায় অবস্থিত
দৃষ্টিনন্দন মায়া নদী ব্রিজ বা মায়া ব্রিজ বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মায়া এলাকায় অবস্থিত। এটি ভোলা জেলার বৃহত্তম সড়ক সেতু। এই সেতু চর কলমী ও নজরুল নগর ইউনিয়নকে সংযুক্ত করেছে। চরফ্যাশন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার, ভোলা শহর থেকে প্রায় ৮৪ কিলোমিটার। ৩৭৮.৪ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে উদ্বোধন করা হয়। এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য বানানো এই সেতু এখন অত্র এলাকার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
গুগল ম্যাপ লোকেশন:মায়া ব্রিজ
মায়া ব্রিজ কিভাবে যাবেন
মায়া ব্রীজ দেখার জন্য আপনাকে আসতে হবে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায়। চরফ্যাশন আসার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো লঞ্চ। প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট থেকে ভোলা শহর এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায়। তবে আরামদায়ক এবং সহজে পৌঁছাতে চরফ্যাশনের লঞ্চ ব্যবহার করা উত্তম।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু লঞ্চ ছেড়ে যায়। তাদের মধ্যে কর্ণফুলী, ফারহান, তাশরিফ, টিপু উল্লেখযোগ্য। লঞ্চ থেকে নেমে বাইক বা অটো রিকশা নিয়ে চলে আসতে হবে চরফ্যাশন বাজার। চরফ্যাশন বাজার থেকে অটো রিকশা নিয়ে মায়া ব্রিজ যাওয়া যায়। এতে সময় লাগবে প্রায় এক থেকে দেড় ঘন্টা। বাইকে গেলে সময় আরও কম লাগে।
ইচ্ছা করলে ঘোষের হাটের লঞ্চও ব্যবহার করতে পারেন। লঞ্চ থেকে নেমে সরাসরি মায়া ব্রিজে চলে যাওয়া যায়, এতে সময় কম লাগবে। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বরিশাল–ভোলা শহর হয়ে প্রথমে চরফ্যাশনে এসে মায়া ব্রিজে আসা সম্ভব।
ভ্রমণের সেরা সময়
মায়া ব্রিজে আপনি যেকোনো সময় যেতে পারেন। তবে বিকেলে গেলে সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা হবে। কারণ, ব্রিজ থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। তবে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো থাকা অবস্থায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। এতে সূর্যাস্ত উপভোগ করার পাশাপাশি সুন্দর কিছু ছবিও তুলতে পারবেন। বৃষ্টির দিনে যাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
সতর্কতা
- নদীতে জোয়ার-ভাটা থাকে। তাই সাঁতার না জানলে নদীতে না নামাই উত্তম।
- ব্রিজের ওপর দিয়ে বাইক ও অটোরিকশা চলাচল করে। ছবি তোলার সময় সতর্ক থাকবেন।
- ব্রিজের ওপর বিভিন্ন ধরনের খাবার পাওয়া যায়। কেনার আগে মান যাচাই করে নেবেন।
লেখক
আমি একজন পেশাদার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। প্রযুক্তিনির্ভর কাজে যুক্ত থাকলেও ভ্রমণের প্রতি রয়েছে আমার গভীর ভালোবাসা। অবসর পেলেই নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি, আর সেই ভ্রমণ অভিজ্ঞতাগুলো নিয়মিত শেয়ার করি এই ব্লগে।








