চট্টগ্রাম

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল
নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা
কুপিটাখুম ঝর্ণা
বাঘবিয়ানি ঝর্ণা
বান্দরখুম ঝর্ণা
Shadow
Slider

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল দেশীয় ট্রেইল গুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই ট্রেইল পথে বেশ কিছু সাব পথ, ছোট ছোট সুন্দর সুন্দর ক্যাসকেড, কয়েকটা ঝর্ণা মিলে এই ট্রেইল কে করেছে অপূর্ব। তাই এটি বর্তমানে এডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এক স্থান।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল কোথায় অবস্থিত

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারী বাজারের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশেই এর অবস্থান।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল কখন যাবেন

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এর ঝর্ণা গুলোতে সব সময়ই কম বেশি পানির প্রবাহ থাকে। সব থেকে বেশি থাকে বর্ষাকালে। তাই এখানে বর্ষাকালে যাওয়াই উত্তম। তবে বর্ষাকালে কিছু বিপদ থাকে। তাই সব থেকে ভালো হয় মাঝ বর্ষায় না গিয়ে বর্ষার আগে আগে বা পর পর যাওয়া। অক্টোবর, নভেম্বর মাসে গেলে সুন্দর ভিউ পাবেন। তখন আশেপাশের পরিবেশ মিলিয়ে একটু বেশি সুন্দর মনে হয় এই ট্রেইল কে।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল কিভাবে যাবেন

দেশের যেকোন জায়গায় থেকে বাস বা ট্রেন আসতে পারেন ফেনী। ঢাকা থেকে ফেনী বাস ভাড়া ২৮০ টাকা। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম গামী লোকাল বাসে উঠে যাবেন। মিরসরাই এর নয়দুয়ারী বাজারে। ভাড়া ৩০/৪০ টাকা।

অথবা চট্টগ্রাম গামী যেকোন বাসে উঠে, মিরসরাই এর নয়দুয়ারী বাজারে নেমে যাবেন। তবে এর জন্য আগে থেকে অবশ্যই সুপারভাইজার কে বলে রাখবেন, আপনি নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা যাবেন। ভাড়া নন এসি ৪৮০ টাকা, এসি ৮০০/১১০০ টাকা।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল গাইড

নয়দুয়ারী বাজার থেকে পুরা ট্রেইল ঘুরে দেখার জন্য স্থানীয় একজন গাইড নিয়ে নিবেন। গাইড ভাড়া দরদাম করে নিবেন। ২০০/৩০০ টাকার মতো নিতে পারে। তবে ট্রেইল সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে গাইড না নিলেও চলে। স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞেস করলেই পথ দেখিয়ে দিবে। যদি একেবারেই ধারণা না থাকে, আর পুরা ট্রেইল কভার করতে চান তাহলে একজন গাইড নিয়ে নেয়া উত্তম।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এ কেমন সময় লাগে

পুরা নাপিত্তাছড়া ট্রেইল কভার করতে ৪/৫ ঘন্টা সময় লাগবে। তবে টিমের সবার হাঁটার শক্তির উপর নির্ভর করে সময় একটু কম বেশি লাগতে পারে।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

নয়দুয়ারি বাজার এর পূর্ব পাশে পাহাড়ের দিকে একটা রাস্তা চলে গেছে। ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটা শুরু করবেন। কিছুক্ষন হাঁটলে রেললাইন পাওয়া যাবে। রেললাইন ক্রস করে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই নাপিত্তাছড়া পাড়া পাওয়া যাবে। এখান থেকেই ঝিরি এবং পাহাড়ি পথে ট্রেকিং শুরু হবে।

ট্রেইল শুরুর স্থানে বেশ কিছু খাবারের হোটেল আছে। ট্রেকিং শুরুর পূর্বে এখানে দুপুরের খাবারের অর্ডার করে গেলে তারা ফ্রিতে ব্যাগ রাখতে দেয়। আর অর্ডার না করেও প্রতি ব্যাগ ২০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে রাখতে পারবেন। মোবাইল, ক্যামেরা, টাকা পয়সা সাথে নিয়ে বাকি সব কিছুই এখানে রেখে যেতে পারেন। তাহলে হাটতে সুবিধা হবে।

হোটেলের কাছে বাসের লাঠি ভাড়া পাওয়া যায়। ২০ টাকা নিবে। ফেরত দিলে ১০ টাকা রিটার্ন দিবে। ভালো দেখে একটা অবশ্যই নিয়ে নিবেন। লাঠি হাঁটার সময় বেশ কাজে দেয়।

নাপিত্তাছড়া, কুপিটাখুম, বাঘবিয়ানি, বান্দরখুম ঝর্ণা

২০ মিনিট হাঁটলে একটা ঝর্ণা পাবেন। এর নাম নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা। এর বাম পাশ দিয়ে একটা রাস্তা আছে। ওটা দিয়ে দিয়ে উপরে উঠে পুড়ুন। দেখবেন আরেকটি ঝর্ণা। এটাকে কুপিটাখুম ঝর্ণা বলে। এটি বেশ গভীর। একেবারে ঝর্ণার সামনে যেতে গেলে সাঁতার কেটে যেতে হবে। তবে সামনে না যাওয়াই ভালো। এখানে ইতিমধ্যে কয়েকজন মারা গেছে। তাই অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এগুলোকে একেক জন একেক নামে চিনে।

কুপিটাখুম এর ডান পাশে পাহাড়ে উঠার একটা রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি খুবই ঢালু এবং একেবারে খাড়া। উপরে উঠতে বেশ কষ্ট হয়। তবে উপরে উঠেই বাঁশের তৈরী মাচা পাবেন। বসে কিছুক্ষন বিশ্রাম করে নিবেন। উপর থেকে নিচের উপত্যকার ভিউ অসাধারণ।

বিশ্রাম শেষে আবার সামনে এগিয়ে যাবেন। আবার ঝিরিপথ পাবেন। ঝিরিপথ দিয়ে কিছুদূর সামনে এগিয়ে গেলে দেখবেন ঝিরিপথ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। হাতের বাম পাশে ৩৫/৪০ মিনিট এগিয়ে গেলে বাঘবিয়ানি ঝর্ণা পাবেন। ডান পাশে ২৫/৩০ মিনিট এগিয়ে গেলে বান্দরখুম ঝর্ণা পাবেন। মাঝামাঝি তাকালে দেখবেন পাহাড়ের উপর উঠে গেছে আরেকটি রাস্তা। ওইটা দিয়ে যাবার কোন দরকার নেই।

প্রথমে বাম পাশে ঝিরি পথ দিয়ে এগিয়ে চলুন। কিছুদূর আগানোর পরে দেখবেন বড় বড় পাথর এবং গাছ পরে আছে। এগুলোর ফাঁক দিয়ে সামনে এগিয়ে চলুন। তাহলে বাঘবিয়ানি ঝর্ণার দেখা পাবেন। বাঘবিয়ানি ঝর্ণা দেখে আবার পিছনে ফেরত আসুন।

পিছনে এসে আবার ডান পাশে ঝিরি পথ ধরে সামনে এগিয়ে চলুন। কিছু সুন্দর সুন্দর ক্যাসকেড এর দেখা পাবেন। আর ঝিরির শেষ মাথায় পাবেন বান্দরখুম ঝর্ণা। বান্দরখুম ঝর্ণাই এই ট্রেলের সব থেকে সুন্দর ঝর্ণা। এই ঝর্ণায় গোসল করতে পারেন। ঝর্ণা দেখে আবার আগের পথ ধরে ফিরে আসুন নয়দুয়ারি বাজারে।

কোথায় খাবেন

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা যাবার পথে বেশ কিছু খাবারের হোটেল পাবেন। সেখানে খেতে পারেন। এখানে খাবার বেশ সস্তা। আনলিমিটেড ভাত, ডাল সহ বিভিন্ন তরকারির প্যাকেজ আছে। ভাতের সাথে দেশি মুরগি ১৩০ টাকা, ফার্মের মুরগি ১০০ টাকা। সাথে আলুভর্তা, সালাদ নিলে ১৪০ টাকা।

তবে মনে রাখবেন বিকাল ৫ টার পর সব হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। আর এখানে না খেতে চাইলে মিরসরাই ফিরে খেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

ঝর্ণার কাছে থাকার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নাই। তাই মিরসরাই এসে থাকতে হবে। অথবা সীতাকুন্ড এসেও থাকতে পারেন। এখানে মোটামোটি মানের বেশ কিছু হোটেল আছে। তার মধ্যে সাইমুন, সৌদিয়া অন্যতম। এছাড়া চট্টগ্রাম এসেও থাকতে পারেন।

সতর্কতা এবং টিপস

  • অতিরিক্ত খাবার, খাবারের প্যাকেট, চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না।
  • আবহাওয়া খারাপ হলে অনেক সময় আটকে পড়া লাগে। তাই অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন।
  • উপরে বৃষ্টি হলে অনেক সময় আটকে পড়তে হয়। তাই সকাল সকাল এখানে আসার চেষ্টা করুন।
  • ভালো মানের গ্রিপের জুতা পরে যাবেন।
  • ঝর্ণায় যাওয়ার রাস্তা বেশ দুর্গম এবং পিচ্ছিল। তাই সতর্ক হয়ে পথ চলবেন।
  • পানিতে জোঁক থাকতে পারে। তাই জোঁক ছাড়ানোর জন্য সাথে লবন বা গুল রাখুন।
  • জোক থেকে বাঁচতে ঘাস এড়িয়ে চলুন।
  • সাথে পাওয়ার ব্যাংক, টর্চ লাইট রাখুন।
  • এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক সব সময় কাজ করেনা।
4.3 3 ভোট
রেটিং

লেখক

রাশেদুল আলম

আমি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ট্রাভেল ফটোগ্রাফার। তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করলেও ঘুরে বেড়াতে ভীষণ ভালোবাসি। নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান কে এই ওয়েব সাইটে নিয়মিত শেয়ার করার চেষ্টা করি।

4 মন্তব্য
Inline Feedbacks
সব মন্তব্য দেখুন
''
4
0
আমরা আপনার অভিমত আশা করি, দয়াকরে মন্তব্য করুনx
()
x