চট্টগ্রাম

নীলগিরি

নীলগিরি
নীলগিরি
নীলগিরি
Shadow
Slider

নীলগিরি (Nilgiri) পাহাড় এবং পর্যটন কেন্দ্র প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এক মেঘের রাজ্য। এটি দেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র গুলোর একটি। সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরিতে এর অসাধারণ সৌন্দর্য যে কাওকেই বিমোহিত করবে। মেঘ ছোঁয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে চাইলে অবশ্যই ঘুরে আসুন নীলগিরি।

নীলগিরি কোথায় অবস্থিত

নীলগিরি বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় বান্দরবান-থানচি সড়কে অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র এক পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত। এখান থেকে কেওক্রাডং, বগালেক, বঙ্গোপসাগর এবং সাগরে জাহাজ চলাচলের দৃশ্য দেখা যায়।

নীলগিরি কিভাবে যাবেন

নীলগিরি যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে বান্দরবান জেলায়। রাজধানী ঢাকার কলাবাগান, আরামবাগ থেকে শ্যামলী, হানিফ, সেন্টমার্টিন, দেশ ইত্যাদি পরিবহন কোম্পনীর এসি, নন-এসি, হুন্দাই বাস প্রতিদিন বান্দরবান শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং ঢাকায় ফিরে আসে। জনপ্রতি বাস ভাড়া নন-এসি ৫৫০-৭৫০, এসি ১২০০-১৫০০ টাকা। রাতের বাসে রওনা দিলে সকাল ৭ টার মধ্যে চলে আসবেন বান্দরবান।

এছাড়া ট্রেন বা প্লেনে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এসে, চট্টগ্রাম থেকে বাস, প্রাইভেট কার নিয়ে বান্দরবান আসতে পারেন। বদ্দারহাট, ধামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস পাওয়া যায়। ভাড়া ২২০ টাকা। মাইক্রোবাস ভাড়া ৩০০০-৩৫০০ টাকা।

বান্দরবান থেকে নীলগিরি

বান্দরবান থেকে নীলগিরি জীপ/চান্দের গাড়ি//সিএনজি/লোকাল বাস দিয়ে যাওয়া যায়। বান্দরবান শহরের থানচি বাস স্ট্যান্ড থেকে এক ঘন্টা পর পর বাস ছাড়ে। জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা, সময় নিবে ৩ ঘন্টা। জীপ/চান্দের গাড়ির ভাড়া ৩০০০/৫০০০ টাকা, সময় নিবে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা।

টিম বড় হলে চান্দের গাড়ির নিয়ে যাওয়াই ভালো। এক গাড়িতে ১০-১২ জন বসা যায়। যাবার পথে মিলনছড়ি, শৈল প্রপাত ঝর্ণা, সাইরু হিল রিসোর্ট, চিম্বুক পাহাড় ছাড়াও চারপাশের অপূর্ব সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ দেখতে পারবেন, দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারবেন।

আর নীলগিরিতে যদি মেঘের দেখতে চান, তাহলে খুব ভোরে রওনা দিতে হবে। সকাল ৭/৮ টার দিকে নীলগিরিতে মেঘ দেখা যায়। সবচেয়ে ভালো হয় সকালে সরাসরি নীলগিরি চলে গেলে। পরে ফিরার পথে বিভিন্ন স্পট দেখে নিবেন।

নীলগিরিতে টিকের মূল্য

নীলগিরিতে জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা। গাড়ির জন্য পার্কিং ফি ৩০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

নীলগিরিতে বাংলাদেশ সেনবাহিনী নিয়ন্ত্রিত কর্টেজ আছে। ছয়টি কটেজে থাকার জন্যে রুম প্রতি ভাড়া পরবে ৪০০০/১০,০০০টাকা। এখানে থাকতে চাইলে আগে থেকেই বুকিং দিতে হবে। বুকিং দিতে সেনাবাহিনীর অফিসার পর্যায়ে একজন কর্মকর্তার রেফারেন্স লাগবে। রেফারেন্স ছাড়া বুকিং দেয়া যায় না। আর অবশ্যই বুকিং ১ মাস আগে দিতে হবে। তবে টিকেট কেটে ভিতরে ঘুরাঘুরি করা যায়।

বেশিরভাগ পর্যটক বান্দরবান শহরে এসে থাকে। বান্দরবান শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ আছে। বান্দরবান শহরের আশেপাশেই তাদের অবস্থান। বান্দরবান শহরে কিছু পরিচিত হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ :

  • হোটেল হিল ভিউ: রুম ভাড়া ১২০০ থেকে ২৮০০ টাকা। শহরের মূল বাস স্ট্যান্ডের পাশে।
  • রিভার ভিউ: রুম ভাড়া ৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। শহরের ভিতর সাঙ্গু নদীর পাড়ে।
  • হোটেল নাইট হ্যাভেন: রুম ভাড়া ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা। শহর থেকে ৪ কিঃমিঃ দূরে নীলাচলের কাছে।
  • হোটেল প্লাজা: রুম ভাড়া ১৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা।
  • পর্যটন মোটেল: রুম ভাড়া ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা। শহর থেকে ৪ কিঃমিঃ দূরে মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এর কাছে।

কোথায় খাবেন

নীলগিরিতে একটি রেস্টুরেন্ট আছে। এখানে খেতে পারেন। এর জন্য আগে থেকে বুকিং দেয়া লাগে। অথবা বান্দরবান শহরে ফিরে এসে খেতে পারেন। বান্দরবান শহরে পরিচিত কিছু খাবারের জায়গায় হলো: কলাপাতা রেস্টুরেন্ট, মেঘদূত ক্যাফে, ফুড প্লেস রেস্টুরেন্ট, রুপসী বাংলা রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।

5 1 ভোট
রেটিং

লেখক

রাশেদুল আলম

আমি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ট্রাভেল ফটোগ্রাফার। তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করলেও ঘুরে বেড়াতে ভীষণ ভালোবাসি। নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান কে এই ওয়েব সাইটে নিয়মিত শেয়ার করার চেষ্টা করি।

5 মন্তব্য
Inline Feedbacks
সব মন্তব্য দেখুন
''
5
0
আমরা আপনার অভিমত আশা করি, দয়াকরে মন্তব্য করুনx
()
x