ইনানী সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও নয়নাভিরাম হচ্ছে ইনানী সমুদ্র সৈকত বা ইনানী বীচ (Inani Beach)। ইনানী বীচ থেকে শুরু করে টেকনাফ পর্যন্ত রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক প্রবাল পাথর। এইসব পাথর একদিকে সমুদ্রের ভাঙ্গন থেকে সৈকতকে রক্ষা করে চলেছে। আবার দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য।

ইনানী বীচ কোথায় অবস্থিত?
ইনানী বীচ কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে ও হিমছড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানকার প্রধান আকর্ষণ জীবন্ত প্রবল। অনেকটাই পাথরের মতো দেখতে এই প্রবল গুলো খুবই সুন্দর। কক্সবাজারের মতো এখানে বড় বড় ঢেউ নেই। ছোট ছোট ঢেউ এসে আছড়ে পরে পাথরের উপর। পানির উপর ভাসমান এইসব পাথরের উপর দাঁড়িয়ে পা ভেজাতে দারুন মজা।

ইনানী বীচ কিভাবে যাবেন?
ইনানী বীচ দেখতে হলে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে কক্সবাজার শহরে। ঢাকা থেকে বাস, প্লেন, ট্রেন ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়ে কক্সবাজার আসা যায়। সেখান থেকে মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে চলে যাবেন ইনানী বীচ। কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে ইনানী বীচ যাবার জন্য খোলা জীপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, অটো ইত্যাদি পাওয়া যায়। পছন্দ মতো দরদাম করে ভাড়া করে নিবেন। তবে খোলা জীপ বা চাঁন্দের গাড়িতে ঘুরেই বেশি মজা। ইনানী পর্যন্ত খোলা জীপ ভাড়া নিবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। ১০ ঠিক ১২ জন অনায়াসে যেতে পারবেন।

ইনানী কখন যাবেন?
যেকোনো সময়েই ইনানী বীচ যাওয়া যায়। তবে সব থেকে ভালো হয় বিকালে গেলে। ওই সময় ভীড় একটু কম থাকে। আর ইনানী বীচ থেকে সূর্যাস্ত দেখতে দারুন লাগে।

কোথায় থাকবেন
এখন ইনানী বীচের আশেপাশে কিছু হোটল ও রিসোর্ট আছে। তার মধ্যে রয়েল টিউলিপ রিসোর্ট, ইনানী রয়াল রিসোর্ট, লা বেল্যা রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য। তবে ইনানী কক্সবাজার থেকে অনেক কাছেই হওয়ায় সেখানে না থেকে কক্সবাজার এসে কোন হোটেলে থাকাই ভালো হবে।

পুনাখা শহর, ভুটান

দোচুলা থেকে পুনাখা শহরের দূরত্ব মাত্র ৪১ কিলোমিটার। কিন্তু আঁকাবাঁকা পথের কারণে এই অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেই অনেক সময় লেগে যায়। পুনাখা (জংখা: ভুটানি ভাষায়) ভূটানের একটি শহর এবং পুনাখা জেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। পুনাখা ১৯৫৫ সল্ পর্যন্ত ভুটানের রাজধানী ছিল। রাজধানী থিম্পু থেকে পুনাখার দুরুত্ব প্রায় ৭২ কিলোমিটার এবং গাড়ি দিয়ে আসতে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘন্টার মতো। এটি সমুদ্রতল থেকে ১৩১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে ধান চাষ করা হয় প্রধান ফসল হিসেবে। পুনাখায় থিম্পু থেকে তলানামূলক ঠান্ডা কম। তাই একসময় শীত কালে নাকি লোকজন পুনাখায় চলে আসত, শীত চলে গেলে চলে যেত। পুনাখায় দেখার মতো বেশ কিছু জিনিস রয়েছে, যেমন: পুনাখা জং, সাসপেনশন ব্রিজ, পাহাড়ী নদী, পাথর, প্রায় ১ হাজার ফুট উচ্চতায় খামসুওয়ালে মন্দির, স্থানীয় বাজার ইত্যাদি।

মো চু নদী এবং ফো চু নদী
পুনাখায় দুটি নদী প্রবাহিত হচ্ছে। একটির নাম মো চু আর অন্যটির নাম ফো চু। ভুটানি ভাষায় চু মনে নদী। ভুটানিরা বলে মো চু হচ্ছে পুরুষ যার পানি ঘোলা এবং উষ্ণ । আর ফো চু হচ্ছে মেয়ে যার পানি পরিষ্কার এবং শীতল। পুনাখা জং এর কাছে এসে এরা একসাথে মিলিত হয়েছে। দূর থেকে দুই নদীর সঙ্গমস্থল আর পুনাখা জং এর প্যানারোমা দৃশ্য অসাধারণ। নদীতে প্রচুর পাথর জমে আছে। আসার সময় চাইলে পাথর নিয়ে আসতে পারেন স্মৃতি হিসাবে। ফো চু নদীতে রাফটিং করা যায়। ৬০০০-৭০০০ রুপী নেয় ওরা। রাফটিং এর জন্য যা যা লাগে সব কিছুই তারা দেয়। সময় থাকলে রাফটিং করতে পারেন। অনেক মজার একটা জিনিস। ও হা মো চু আর ফো চু নদী কিন্তু শেষে এসে আমাদের বাংলাদেশে মিশেছে।

পুনাখা জং
পুনাখা জং বা পুনাখা ডিজং পুনাখা শহরের একটি প্রাচীন প্রাসাদ। এর আরেক নাম পরম সুখময় প্রাসাদ। প্রাসাদটি ১৬৩৭-১৬৩৮ সালে যাবদ্রারং রিনপোছে নির্মাণ করেন। এর স্থপতি ছিলেন নাগাওয়াং নামগিয়াল। এটি জং স্থাপত্যশিল্পের দ্বিতীয় পুরাণতম এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাসাদ। ইউনেস্কো এটাকে ভুটানের ঐতিহ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখানে ১৯০৭ সালে ভুটানের প্রথম রাজা হিসেবে উগয়েন ওয়াংচুক এর অভিষেক হয়েছিল। এটি ভূটানের দ্বিতীয় প্রাচীন, দ্বিতীয় বৃহত্তম ও সবচেয়ে সুন্দর প্রাসাদ। ১৯৫৫ সালে রাজধানী থিম্পুতে স্হানান্তরিত হবার আগ পর্যন্ত এটাই ছিলো ভূটানের রাজধানী তথা প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র। এখানেই তারা তিব্বতীয়দের যুদ্ধে পরাজিত করে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার এটি আগুনে ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে যাতায়াতের জন্য মো নদী উপরে রয়েছে একটি কাঠের সেতু। এখন অবশ্য এখানে রাজ্ পরিবারের সন্তানদের নাম রাখার অনুষ্ঠান হয়।

এতো বড় প্রশাসনিক কেন্দ্র হলেও এটি কিন্তু জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। টিকেট কেটে যে কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। পুনাখা জং এ ঢুকতে ৩০০ রুপী লাগে। আর এটি দুপুর ১:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত দুপুরের খাবারের জন্য বন্ধ থাকে। ভিতরটা অনেক সুন্দর। আপনারা কিন্তু অবশ্যই পুনাখা জং দেখে আসবেন।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। ভুটান ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন।। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি (Murapara Jamidar-Bari) বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও শতবর্ষী জমিদার বাড়ি। প্রাচীন জমিদার বাড়িগুলোর মধ্যে যে কয়েকটি বাড়ি এখনো কালের সাক্ষী হয়ে টিকে আছে তার মধ্যে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি অন্যতম।

কোথায় অবস্থিত?
মুড়াপাড়া রাজবাড়ি (Murapara Rajbari) নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া গ্রামে অবস্থিত। এটি ঢাকা শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত।

ইতিহাস
বাবু রামরতন ব্যানার্জী ১৮৮৯ সালে এই বাড়িটি তৈরি করেন। এরপর তার কয়েকজন বংশধর বিভিন্ন সময় এইট প্রাসাদটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে। জমিদার রামরতন ব্যানার্জী ১৮৮৯ সালে ৬২ বিঘা জমির উপর এই বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তিনি নাটোর স্টেটের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তার সততার কারণে তাকে এই এলাকার জমিদার করা হয়। কথিত আছে, রামরতন ব্যানার্জী শুধু এই বাড়ির ভিত্তি ও কাঠামো তৈরি করেছিলেন। তার পুত্র বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৯৯ সালে প্রাসাদের সামনের অংশে একটি ভবন নির্মাণ এবং ২টি পুকুর খনন করেন। ১৯০৯ সালে তার দুই পুত্র জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী ও আশুতোষ চন্দ্র ব্যানার্জী প্রাসাদের দোতালার কাজ সম্পন্ন করেন।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে যাবার পর জগদীশ চন্দ্র তার পরিবার নিয়ে কলকাতায় চলে যান। তার পর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাড়িটি দখল নেয় এবং এখানে হাসপাতাল ও কিশোরী সংশোধন কেন্দ্র স্থাপন করে। ১৯৬৬ সালে এখানে স্কুল ও কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটির দায়িত্ব নেয় এবং বাড়িটিকে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে এটি মুড়াপাড়া কলেজ নামে পরিচিত।

কি আছে এই রাজবাড়িতে?
দুই তালা এই জমিদার বাড়িটিতে আছে ৯৫টি কক্ষ, ২টি পুকুর, বেশকিছু নাচঘর, আস্তাবল, মন্দির, ভাণ্ডার ও কাচারি ঘর। মন্দিরের ওপরের চূড়াটি প্রায় ৩০ ফুট উঁচু। মূল প্রাসাদে প্রবেশের পথে রয়েছে বেশ বড় একটি ফটক। বাড়ির পাশে একটি বিশাল বড় আম বাগানও রয়েছে। আম গাছগুলো বেশ পুরাতন এবং সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো। প্রধান সড়কের পাশে আছে দুইটি পুরনো মঠ। সামনের পুকুরটি বেশ বড় এবং পিছনেরটি একটু ছোট। চাইলে পানিতে নেমে গোসল করতে পারেন। অনেকেই করে। পানি বেশ পরিষ্কার। কথিত আছে রাজবাড়ি থেকে নাকি গোপন একটি সুড়ঙ্গ বের হয়ে দূরে চলে গেছে। তবে সুড়ুঙ্গের পথ আপাদত বন্ধ আছে।

প্রাচীন স্থাপনার সাথে এখন যোগ হয়েছে আরো কিছু নতুন স্থাপনা। এখন এখানে রয়েছে একটি শহীদ মিনার, ইনডোর স্টেডিয়াম, স্কুল ইত্যাদি। সামনের মাঠ বেশ বড়। চাইলে খেলাধুলা করতে পারেন।

কিভাবে যাবেন?
রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, গুলিস্থান অথবা যাত্রাবাড়ি থেকে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ধরে মেঘলা, গ্লোরী, আসিয়ান পরিবহন অথবা নরসিংদী বা ভৈরবগামী যে কোন বাসে চেপে রূপসী বা ভুলতা বাসষ্টান্ড নামতে হবে। তারপর রিক্সা বা সিএনজি করে জমিদার বাড়ি। ভাড়া নিবে ২০-৫০ টাকা। অথবা কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে ৩০০ ফিট রাস্তা ধরে কাঞ্চন ব্রিজ। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোতে রূপগঞ্জ ফেরি ঘাট। ফেরিতে শীতলক্ষা নদী পার হয়ে রিক্সা বা অটোতে জমিদার বাড়ি। ভাড়া নিবে ১৫-২০ টাকার মতো।

কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর

ভারতের জম্মু এন্ড কাশ্মীরে রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হচ্ছে শ্রীনগর (Srinagar)। শীতকালে প্রবল শীতের কারণে রাজধানী ছয় মাসের জন্য জম্মুতে স্থানান্তর করা হয়। শ্রীনগর ঝিলম নদীর তীরে অবস্থিত এক পর্যটন শহর। এখানকার লেক, হাউসবোট, শিকারা, পাহাড়, সবুজ মাঠ, বার্চ ও উইলো গাছে পূর্ণ অরণ্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানকার বিভিন্ন কুটির শিল্প, ড্ৰাই ফুডস, মসলা খুবই বিখ্যাত। এজন্যই শ্রীনগর কে বলা হয় প্রাচ্যের ভেনিস।

শ্রীনগরের দর্শনীয় স্থানসমূহ
শ্রীনগরে দেখার মতো বেশ কিছু প্রাকৃতিক, প্রাচীন এবং ঐতিহাসি স্থান রয়েছে। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ডাল লেক, নাগিন লেক, নিশাত বাগ, টিউটিল গার্ডেন, শ্রী প্রতাপ সিং মিউজিয়াম, জামা মসজিদ, হজরৎ বল মসজিদ, দচিগাম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ক্রিকেট ব্যাট ফ্যাক্টরি ইত্যাদি।

ডাল লেক শ্রীনগর
কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে অবস্থিত মিঠা পানির এক অপূর্ব সুন্দর লেক হচ্ছে ডাল লেক(Dal Lake)। এর দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার, প্রস্থ সাড়ে তিন কিলোমিটার। লেকের সর্বোচ্চ গভীরতা ছয় কিলোমিটার। এই লেকে দুটি দ্বীপ আছে, সোনা লান্ক আর রূপা লান্ক। শীতকালে লেক এলাকার তাপমাত্রা মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চলে যায়। লেকের পানি তখন জমে বরফ হয়ে যায়। এখানে বেশ কিছু হিন্দি মুভির শুটিং হয়েছে। লেককে ঘিরেই কাশ্মীরের হাজারো মানুষ তাদের জীবিকা অর্জন করে। কেউ হাউসবোটের মালিক, কেউ ডাল লেকের বিশেষ নৌকা শিকারাতে পর্যটকদের নিয়ে পরিভ্রমন করে, আবার কেউবা ডাল লেকের বাজারে সবজি বিক্রয় করে।

হাউসবোট
ডাল লেকের প্রধান আকর্ষণ হলো হাউসবোট, পানির উপরে ভাসমান বাড়ি। ডাল লেকে প্রায় ৭০০ মতো হাউসবোট আছে। এগুলার ভিতরে আধুনিক হোটেলের মত নানান সুবিধা রয়েছে। আছে শোবার ঘর, বসার ঘর, বাথরুম, বাথটাব, বারান্দা, ওয়াইফাই ইত্যাদি। সবকিছুই সুসজ্জিত। মেঝেতে সুন্দর কার্পেট বিছানো, দরজা-জানালায় পর্দা টানানো। বারান্দায় বসে অনায়াসে বাইরের দৃশ্য অবলোকন করা যায়। হাউসবোটের দেয়াল কাঠের তৈরী, যা দারুন ভাবে করুকার্জ করা। মোট কথা এই হাউসবোটে পাওয়া যাবে সবধরনের সুবিধা যা একজন পর্যটকের একান্ত প্রয়োজন।

এই হাউসবোট গুলোর একেকটার একেক ধরণের ভাড়া। ১০০০ থেকে ৭০০০ থাকা পর্যন্ত হতে পারে। আপনারা দরদাম করে ভাড়া ঠিক করে নিবেন। সব থেকে ভালো হয় ড্রাইভারকে বলবেন আপনাদের বাজেটের মধ্যে হাউসবোট ঠিক করে দিতে। ওয়াইফাই, বাথটাব সব কিছুই রয়েছে এখানে। পানির উপরে ভাসমান এই ধরণের সুবিধা দেখে দারুন লাগবে। বারান্দা থেকে ডাল লেক আর শ্রীনগর শহর দারুন সুন্দর লাগে।

শিকারা
শ্রীনগরে ডাল লেকের পানিতে ভেসে বেড়ানোর জন্য আছে বিশেষ ধরনের নৌকা যার নাম শিকারা। হাজার হাজার কালারফুল শিকারা প্রতিনিয়ত লেকে চলাচল করে বিভিন্ন প্রয়োজনে। আপনারা বোটের ম্যানেজার কে বললে, উনি শিকারা ম্যানেজ করে দিবে। ঘন্টা অনুসারে তাদের ভাড়া। প্রতি ঘন্টা ৩০০ রুপি করে একেক শিকারা নিবে। ডাল লেকে হাউসবোটে থাকা, শিকারায় ভেসে বেড়ানো কাশ্মীর ভ্রমণের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক ব্যাপার।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। কাশ্মীর ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

পুনাখা সাসপেনশন ব্রিজ

পুনাখা সাসপেনশন ব্রিজ (Punakha Suspension Bridge) হচ্ছে ভূটানের সব থেকে বড় সাসপেনশন ব্রিজ। এটি ভুটানের পূর্বের রাজধানী পুনাখা শহরে অবস্থিত। ব্রিজটি দেখতে খুবই সুন্দর এবং এর নির্মাণশৈলীও চমৎকার। ভুটান যেয়ে এই ব্রিজ না দেখলে আপনার ভ্রমণে অপূর্ণতা থেকে যাবে।

পুনাখা সাসপেনশন ব্রিজ
পুনাখা সাসপেনশন ব্রিজ ভূটানের পুনাখা শহরের ফো চু নদীর উপর নির্মিত। এটি ভুটানের দীর্ঘতম সাসপেনশন ব্রিজ। এটি ৩৫০ মিটার লম্বা। পুনাখা জং থেকে ২০ মিনিট হাঁটলেই এই ব্রিজ। এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২২৩ মিটার বা ৪০১২ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত। ব্রিজটি খুব শক্ত করে ভাল ভাবেই বানানো হয়েছে। ফলে হাঁটার সময় দুলুনি মোটেই টের পাওয়া যায় না। এই ব্রিজটি মূলত পুনাখা শহরবাসীর সহজে ও শর্টকার্টে পুনাখা জং এ আসার সুবিধার্তে বানানো হয়েছে। এর উপরের এবং নিচের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী খুবই চমৎকার। এমন সুন্দর আর বড় সাসপেনশন ব্রিজ খুব কমই দেখা যায়।

ব্রিজের উপর থেকে নিচের সব কিছু অনেক ছোট মনে হয়। ব্রিজ থেকে পুনাখার আসে পাশের দৃশ্য দেখতে অনেক চমৎকার। ফো চু নদীর পানি অন্যরকম কালারফুল। এখানে অনেককেই নদীতে রাফটিং করে। হেটে হেটে ব্রিজের অপর প্রান্তে চলে যাবেন। অপর পাশে কিছু পরিবার থাকে। তাদের সাথে কথা বলতে পারেন। এই পাশে একটি ডিপার্টমেন্টাল শপ রয়েছে। চাইলে কিছু কিনতে পারেন

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। ভুটান ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন।। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

চেলে লা পাস, ভুটান

চেলে লা পাস (Chele La Pass) ভুটানের সব থেকে উচু পাস বা গিরিপথ যার উচ্চাতা প্রায় ১৩৫০০ ফিট। মারাত্বক ঠান্ডা আর বরফের জন্য চেলে লা খুবই বিখ্যাত। পারো শহর থেকে হা ভ্যালি যাবার পথে পরে এই পাস।

চেলে লা পাস
ভূটানিজ জোংখা ভাষায় ‘লা’ মানে পাস অর্থাৎ গিরিপথ। ভূটানে এক ভ্যালি থেকে আরেক ভ্যালিকে ভাগ করেছে এই পাস বা গিরিপথগুলো। চেলে লা পাস ভাগ করেছে পারো ভ্যালি ও হা ভ্যালি কে। এক ভ্যালি থেকে আরেক ভ্যালি তে যেতে হলে এই রকম কিছু পাস কেই পার হয়ে যেতে হয়। ভূটানে অনেকগুলো পাস বা গিরিপথ রয়েছে। চেলে লা তার মধ্যে অন্যতম। পারো শহর থেকে প্রায় দুই ঘন্টা আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পারি দিয়ে হা ভ্যালির দিকে গেলে মিলবে এই পাস। পারো থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ৩৭ কিলোমিটার। এই গিরিপথ সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।

দোচুলা পাস মতো এখানে গাছপালা নাই। দূরে ভুটান-চায়না সীমান্তে পাহাড়ের উপর মেঘ দেখা যায়, দেখে মনে হয় বিশাল কোনো ছাদ। এক পাশে হা ভ্যালির কিছু এলাকা দেখা যায়। চেলে লার উপর থেকে সব কিছু অনেক ছোট ছোট মনে হয়। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে চোখে পড়বে লাটিমের মতো এক ধরনের স্তুপ। এর নাম ‘সা সা’ (tsa tsa)। বৌদ্ধ ধর্মের লোকেরা এগুলা বসায় পুণ্যের আসায়। আরো দেখা যাবে অজস্র প্রেয়ার ফ্ল্যাগ। মূল রাস্তা থেকে একটু উপরে আছে একটি মোবাইল টাওয়ার। দোচুলা পাস দিয়েই হা ভ্যালি যেতে হয়।

ভুটান ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন।। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

পেহেলগাম, কাশ্মীর

পেহেলগাম বা প্যাহেলগাম (Pahalgam) ভারতের জন্মু এন্ড কাশ্মীর রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার এক পর্যটন শহর। এটি রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ১০০ কিঃমিঃ দূরে লিডার নদীর তীরে অবস্থিত। এর গড় উচ্চতা প্রায় ৭,২০০ ফুট। এটি খুবই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট এংব হিল স্টেশন। নদী-উপত্যকাশোভিত, নয়নাবিরাম সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভুমি হচ্ছে এই পেহেলগাম।

পেহেলগামের ইতিহাস
কাশ্মীরি ভাষায় নাগ মানে ঝর্ণা এবং অনন্ত মানে অসংখ্য। একসাথে অনন্তনাগ মানে অসংখ্য ঝর্ণা। স্থানীয়রা একে ইসলামাবাদ নামে ডাকে। সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৭০০ সালে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। পরে কাশ্মীরের মহারাজা গোলাব সিং ১৮৫০ সালের দিকে আবার এর নাম রাখেন অনন্তনাগ। কাশ্মীরে সব গ্যাঞ্জাম মূলত এই অনন্তনাগ থেকেই শুরু হয়। স্থানীয় ভাষায় পেহেলগাম শব্দের অর্থ ভেড়াওয়ালাদের গ্রাম। এক সময় ভেড়া ও বকরি চরানো ছিল এখানকার মূল বাসিন্দাদের আদি পেশা। পাহাড়ি এই দরিদ্র মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘গুজার’ও বলা হয়। তারা বিভিন্ন মালিকের কাছ থেকে ভেড়া ও বকরি চরানোর জন্য নেয়। গ্রীষ্মকালজুড়ে সেগুলোকে পাহাড়ে-উপত্যকায় চরিয়ে বেড়ায়। শীতের শুরুতে আবার মালিকের কাছে ফেরত দিয়ে দেয়।

তবে পেহেলগাম এখন আর গুজারদের এলাকা নয়। এটি এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সময় কাটানোর দারুণ এক গন্তব্য। অগণিত প্রকৃতিপ্রেমিক এই নৈস্বর্গিক সুন্দরের কাছে গিয়ে দিনের পর দিন অতিবাহিত করে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি তীব্র তুষারপাতের কারনে পর্যটকের সংখ্যা অনেক কমে যায়। অনেক হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালেই পেহেলগাম বেশি সুন্দর থাকে এবং বেশি পর্যটক আসে।

পেহেলগাম এর দর্শনীয় স্থানসমূহ
পেহেলগাম এ দেখার মত বেশ কিছ সুন্দর সুন্দর স্থান রয়েছে। তার মধ্যে উলেখযোগ্য হলো: মিনি সুইজারল্যান্ড খ্যাত বাইসারান, লিডার নদী, পেহেলগাম ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি, আরু ভ্যালি, তুলিয়ান ভ্যালী, পেহেলগাম ভিউপয়েন্ট, কাশ্মীর ভ্যালী ভিউপয়েন্ট, চন্দনওয়ারী, কানিমার্গ, ওয়াটারফল, ধাবিয়ান, মামলেশ্বর মন্দির, কোলাহাই হিমবাহ ইত্যাদি। সবগুলা স্পট দেখতে হলে ২-৩ দিন সময় লেগে যাবে।

লিডার নদী
লিডার কাশ্মীরের এক পাহাড়ি নদী। এটি কোলাহাই হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে জেহলাম নদীতে গিয়ে মিশেছে। এর দৈর্ঘ প্রায় ৭৩ কিঃমিঃ। এই লিডার ভ্যালি তেই পেহেলগাম। লিডার নদীর গর্জন খুবই তীব্র। এখানে আসলে চেষ্টা করবেন লিডার নদীর পারেই কোনো কর্টেজে থাকতে। কর্টেজ থেকে সামনের ভিউ অসাধারণ। কর্টেজের সামনে ছোট বাগান থাকে, যেখানে কিছু চেয়ার দেয়া থাকে বসে চা নাস্তা খাবার জন্য। বাগানের জাস্ট নিচেই লিডার নদী যার পানি স্বচ্ছ নীল। নদীতে নামার জন্য সিঁড়ি দেয়া থাকে।

মিনি সুইজারল্যান্ড বা বাইসারান
পেহেলগামের সব থেকে সুন্দর জায়গা বাইসারান, যাকে সবাই বলে মিনি সুইজারল্যান্ড। এখানে টিকেট কেটে ভিতরে যেতে হয়। ভিতরে ঢুকেই মাথা পুরা নষ্ট হয়ে যাবে। এতদিন ক্যালেন্ডার এ যেমন ছবি দেখেছেন অবিকল তেমন এটি। ঘন পাইনের বনের ভিতর অনেক বড় ফাঁকা জায়গা। পুরাটাই সবুজ, যেন কার্পেট বিছানো। জায়গাটা পুরা সমতল না, মাঝে মাঝে হালকা কিছু কার্ভ আছে। দূরে পাহাড়ের মাথায় সাদা সাদা বফর জমে আছে। সুইজারল্যান্ডে সাধারণত এমন দৃশ্য দেখা যায়। এই জন্যই হয়তো একে বলে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড।

এখানে জিপ লাইনিং করার ব্যবস্থা আছে। দুই পাশে দুই গাছের সাথে একটি সরু তার বাধা। মানুষকে ওই তারের সাথে রশি দিয়ে আটকিয়ে ছেড়ে দেয়। আর তারা তাদের দেহের ভারে সামনে এগিয়ে চলে। আপনারা দামাদামি করে নিবেন। প্রতিজন ২০০ রুপি নিবে। তেমন উঁচুতে না হলেও দারুন মজা।

এখানে জর্বিং খেলা যায়। বিশাল এক বলের ভিতর দুইজনকে বেঁধে ঢালু জমিতে ছেড়ে দেয়। আর ওটা গড়িয়ে গড়িয়ে চলতে থাকে। সাহস থাকলে টিকেট কেটে উঠে পড়ুন। ১৫০ রুপি করে প্রতি টিকেট নিবে। প্রথেম একটু ভয় পেলেও পরে দারুন মজা। তবে এখানে উঠার জন্য ওজন ৮০ কেজির ভিতরে থাকা লাগে।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। কাশ্মীর ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

দোচুলা পাস, ভুটান

দোচালা পাস বা দোচুলা পাস (Dochula Pass) ভুটানের সব থেকে সুন্দর পাস। এটি রাজধানী থিম্পু থেকে পুনাখা শহরে যাবার পথে পরে। পাহাড়ী এলাকায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবার সময় দুই স্থানের মাঝখানের সব থেকে উঁচু জায়গাকে পাস বলে। দোচুলা পাস থিম্পু থেকে পুনাখা যাবার পথের সব থেকে উঁচু জায়গা যার উচ্চতা প্রায় ১০০০০+ ফিট।

দোচুলা পাস
দোচুলা পাস রাজধানী থিম্পু থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরুত্বে অবস্থিত। এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০২০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত। এটি ভুটানের সব থেকে পরিচিত এবং সুন্দর পাস। ভুটানের বর্তমান রাজধানী থিম্পু থেকে পূর্বের রাজধানী পুনাখা যেতে হলে এই পাস অতিক্রম করেই যেতে হয়। এটি প্রায় সময়ই সাদা মেঘে ঢাকা থাকে। এই চুড়ায় রয়েছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, মন্দির, দূরে দেখার জন্য বড় একটি দূরবীক্ষিন যন্ত্র, ক্যাফেটেরিয়া, আর সুন্দর বাগান। বেশ কয়েক বছর আগে ভারতীয় বিদ্রোহীরা (আসামের উলফা) ভূটানের সীমানা ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিল। ভূটানের তৎকালীন রাজা জিগমে সিংহে ওয়াংচুক এই বিদ্রোহীদের দমন করেন। এইখানেই ২০০৩ সালে ভারতীয় বিদ্রোহীদের সাথে ভুটানি সৈন্যদের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বেশ কিছু ভূটানীজ সৈন্য মারা যায়। রানীমাতা আসি দরজি ওয়াংমু ওয়াংচুক এই মন্যুমেন্ট তৈরী করান সেই সব ভূটানীজ সৈনিকদের স্মরণে। ২০০৪ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। স্তম্ভে এক সাথে একশত আটটি স্টুপার রয়েছে। এর তিনটি স্তর আছে। প্রথম স্তরে আছে ৪৫ টি স্টুপার, দ্বিতীয় স্তরে ৩৬ টি স্টুপার, শেষ স্তরে ২৭ টি স্টুপার। আর মাঝ খানে রয়েছে বড় একটি স্টুপার।

দোচুলা যাবার রাস্তাটিও বেশ চমৎকার। মাঝে মাঝে মেঘ এসে রাস্তা ঢেকে দেয়। রাস্তার দুইপাশে বেশ লম্বা লম্বা গাছ। প্রায় সবগুলো গাছের ডাল নিচের দিকে হেলানো। ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে এখানে অনেক ভারি তুষারপাত হয়। সেই তুষারপাতের চাপে ডাল গুলোর এই অবস্থা। গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথেই বেশ ঠান্ডা অনুভব করবেন। বাতাস ও থাকে বেশ। পায়ে হেটে হেটে উপরে উঠে যাবেন। উঠার সাথে সাথেই শাসকস্ট হতে পারে। অতিরিক্ত উচ্চতা আর কম অক্সিজেনের জন্যই এমনটা হয়। এমন হলে একটু রেস্ট নিয়ে নরমাল হবার চেষ্টা করবেন। বেশি বেশি পানি খাবেন। এর একপাশ অনেক খারা এবং ঢালু। যাদের উচ্চতায় সমস্যা আছে তারা একটু সাবধানে যাবেন। এখানে একটি দূরবীক্ষণ যন্ত্র রয়েছে। ওটা নাকি রাজার বিশেষ মেহমানের জন্য।

মেঘ, বৃষ্টি আর কুয়াশা না থাকলে এখান থেকে হিমালয় পর্বতমালার মোট দশটি পর্বতচুড়া দেখা যায়। এটি ভুটানের অন্যতম একটি দর্শনীয় ও পবিত্র স্থান। পাহাড়ের চূড়ায় এ জায়গাটি একেবারেই ছবির মতো সাজানো৷ ভুটান ভ্রমণে গেলে সবাই অবশ্যই এই জায়গাটি ঘুরে দেখবেন। জায়গাটিতে নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বরফ পড়ে। এখানে একটি সুন্দর ক্যাফেটেরিয়া আছে। ইচ্ছে হলে কফি-স্ন্যাকস খেয়ে নিজেকে চাঙা করে নিতে পারেন। কারো যদি পুনাখায় যেয়ে রাফটিং করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এখান থেকেই যোগাযোগ করতে পারেন। এই ক্যাফেটেরিয়াতেই যোগাযোগের ফোন নম্বর দেয়া আছে। যারা মোটর বাইক ভাড়া নিতে চান তারাও এই খান থেকে নিতে পারেন

সতর্কতা
অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে মাউন্টেন সিকনেস হতে পারে। এতে শরীরের অক্সিজেন লেভেল কমে যায়। তাই শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘুড়ানো বা বমি হতে পারে। তাই বেশি বেশি করে পানি খাবেন। কিছু ঔষধ আছে যা দেহের অক্সিজেনর পরিমান বাড়ায়। সেগুলা খেতে পারেন। খুব বেশি কিনারে যাবেন না, পা পিছলে পরে যেতে পারেন। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। ভুটান ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন।। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

জ্যাকব টাওয়ার

বাংলাদেশের ভোলা জেলার সব থেকে বড় উপজেলা হচ্ছে চরফ্যাশন উপজেলা। এর আয়তন প্রায় ১১০৬.৩ বর্গ কিলোমিটার। এটি এক সময় বাকেরগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জে. এইচ ফ্যাশনের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় চরফ্যাশন। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ১৮৮৫-১৮৮৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে দশটি শিক্ষিত পরিবার এবং দশটি উখরাইট পরিবার এনে এখানে প্রথম অভিবাসন গড়ে তোলেন। প্রথম গড়ে ওঠা দুই পল্লী ‘ভদ্রপাড়া’ ও ‘উখরাইট পাড়া’ নামে এখনো রয়েছে। এই উপজেলা পর্যটনের জন্য খুবই পরিচিত। এর আসে পাশে রয়েছে অসংখ্য দ্বীপ যেমন: চর কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চরনিজাম, চরপাতিলা ইত্যাদি। এখানকার ইলিশ মাছ খুবই টেস্টি এবং বিখ্যাত। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এখানে নির্মিত হচ্ছে বহু আধুনিক স্থপনা। জ্যাকব টাওয়ার তার মধ্যে অন্যতম।

জ্যাকব টাওয়ার
জ্যাকব টাওয়ার (Jacob Tower) বা চরফ্যাশন টাওয়ার বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ফ্যাশন স্কয়ার এ অবস্থিত। ভোলা শহর থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। অনেকটা আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত বলে একে বাংলার আইফেল টাওয়ার বলা হয়। এই টাওয়ার এর উচ্চতা ২২৫ ফুট যা প্রায় ২১ তলা ভবনের সমান। এটি বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সব থেকে উঁচু টাওয়ার। টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। মাটির প্রায় ৭৫ ফুট নিচ থেকে পাইলিং করে সম্পূর্ণ ইস্পাত কাঠামোর উপর নির্মিত এই টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্পন সহনীয়। ভূমির উপরিভাগ থেকে টাওয়ারের উপরে থাকা গম্ভুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস। প্রতিটি তলায় ৫০ জন ও পুরো টাওয়ারে ৫০০ জন দর্শক একসাথে অবস্থান করতে পারবে। টাওয়ারে ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি রয়েছে অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট, যেখানে ১৩ জন একসাথে উঠতে পারে। পর্যটকদের আকৰ্ষণ করার জন্য প্রায় সব ব্যবস্থাই এখানে রয়েছে। এর চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পূর্ণ বাইনোকুলার, যার সাহায্যে বঙ্গোপসাগরের একটি অংশসহ চারপাশের প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখা যাবে। এছাড়া ও এখানে রয়েছে বিশ্রামাগার, হালকা খাবারের ব্যবস্থা। টাওয়ারের শীর্ষে দাঁড়িয়ে দেখা মিলবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর কুকরি-মুকরির নয়নাভিরাম সবুজের সারি।

টাওয়ারে প্রবেশে করার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে টিকেট কাটা লাগে। উপরে উঠে আপনার খুবই ভালো লাগবে। মনে হবে আপনি যেন হিমালয় এর কোন চূড়ায় উঠে গেছেন। নিচের মানুষ গুলো কে পিঁপড়ার মতো ছোট ছোট লাগবে।

কিভাবে যাবেন?
জ্যাকব টাওয়ার দেখার জন্য আপনাকে আসতে হবে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায়। চরফ্যাশন আপনি বিভিন্ন ভাবে যেতে পারেন। তবে সব থেকে সহজ উপায় হলো লঞ্চ। প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট থেকে ভোলা শহর এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন জায়গার উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চ থেকে নেমে বাস বা অটোতে করে চলে আসবেন চরফ্যাশন। তবে সব থেকে সহজ পথ হলো সরাসরি চরফ্যাশন এর লঞ্চ ব্যবহার করা। সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে চরফ্যাশন এর উদ্দেশে বেশ কিছু লঞ্চ ছেড়ে যায়। কর্ণফুলী-১২, কর্ণফুলী-১৩, ফারহান, ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। তার মধ্যে কর্ণফুলী-১২, কর্ণফুলী-১৩ খুবই সুন্দর এবং বিলাস বহুল। এগুলা ভোর ভোর পৌঁছে যায় বেতুল লঞ্চ ঘাট। সেখান থেকে অটো রিক্সায় চলে আসবেন চরফ্যাশন বাজার। আর বাজারেই জ্যাকব টাওয়ার।

সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

পৃথিবীর স্বর্গ সোনমার্গ, কাশ্মীর

ভারতের জন্মু এন্ড কাশ্মীর রাজ্যের গন্ডারবাল জেলার এক হিল স্টেশন বা শহর হচ্ছে সোনমার্গ (Sonmarg)। এটি শ্রীনগর থেকে প্রায় ৮২ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত। এখান দিয়েই প্রাচীন সিল্ক রোড চলে গেছে। অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য সোনমার্গ কে বলা হয় পৃথিবীর স্বর্গ।

সোনামার্গ কাশ্মীরের সুন্দর জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফানা, মিশন কাশ্মীর, বাজরাঙ্গী ভাইজান সহ আরো জনপ্রিয় ছবির শুটিং হয়েছে এখানে। জোজিলা টানেলের একটি মুখ এখান থেকে শুরু হয়েছে। এখানকার উল্লেখযোগ্য ট্যুরিস্ট স্পট গুলো হচ্ছে থাজিওয়াস গ্লেসিয়ার বা থাজিওয়াস হিমবাহ, জোজিলা পাস, বালতাল ভ্যালি, অমরনাথ গুহা, গঙ্গাবাল লেক, গাদসার লেক, ভিসান্তার লেক, সাসতার লেক, উলার লেক ইত্যাদি।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। কাশ্মীর ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!