দোচুলা পাস – ভুটানের সব থেকে সুন্দর পাস | ভুটান ভ্রমণ -পর্ব ৩

দোচালা পাস বা দোচুলা পাস (Dochula Pass) ভুটানের সব থেকে সুন্দর পাস। এটি রাজধানী থিম্পু থেকে পুনাখা শহরে যাবার পথে পরে। পাহাড়ী এলাকায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবার সময় দুই স্থানের মাঝখানের সব থেকে উঁচু জায়গাকে পাস বলে। দোচুলা পাস থিম্পু থেকে পুনাখা যাবার পথের সব থেকে উঁচু জায়গা যার উচ্চতা প্রায় ১০০০০+ ফিট। আপনাদের আজ আমি আমার দোচুলা পাস ঘুরার গল্প বলবো।

dochula-pass
দোচুলা পাস

নভেম্বর ২৪, ২০১৭। সকাল সকাল নাস্তা সেরে আমরা পুনাখা শহর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আমাদের যাত্রা শুরু করি। আমরা আগের রাতেই এর জন্য বড় একটি জিপ গাড়ি ভাড়া করে রাখি। পুনাখা যাবার জন্য আলাদা করে পারমিশন নিতে হয়, যা আমরা আগের দিনই থিম্পু থেকে নিয়ে রেখেছি। যেটা নিয়ে গত পর্বে কিছু তথ্য দিয়ে ছিলাম। কেউ পরে না থাকলে পরে নিতে পারেন। থিম্পুতে বড় গাড়ি একটু নিচের দিকে স্টেডিয়ামের পাশে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে ভাড়া করা যায়। না চিনলে পুলিশকে জিজ্ঞেস করবেন। উনারা দেখায় দিবে। আমরা সাঙরু নামে এক ড্রাইভারকে পেয়ে যাই। আমরা ৩ দিনের জন্য ১১০০০ রুপী দিয়ে তার গাড়ি ভাড়া করি। পুনাখা শহর যাবার জন্য জন্য ৩৫০০, পারো যাবার জন্য ৩৫০০, পারো থেকে ইন্ডিয়ার হাসিমারা পর্যন্ত আসার জন্য ৪০০০, এই মোট ১১০০০ রুপী। হাসিমারা এসে ৫০০ রুপী তাকে বকশিস দিয়েছিলাম। সাঙরু খুব ভালো মানুষ, ভালো গাড়ি চালায়, আর ভালো গাইড ও বটে। আমাদের কাছে ভাড়াও একটু কম নিয়েছিল। ভুটানে পরবর্তী সব দিন গুলো সে আমাদের সাথে ছিল।

bhutan trip
আপেল বাগানের পাশেই আপেল শপ: নভেম্বর ২৪, সকাল ৯:৫০

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলছে। যতদূর চোখ যায় শুধু বিশাল বিশাল পাহাড় আর পাহাড়। সবগুলা পাহাড় কাছাকাছি আর উঁচু উঁচু এক ধরণের পাছপালায় ভর্তি। চারিদিকের সব কিছু সবুজ আর সবুজ। মাঝে মাঝে রয়েছে আপেল, বেদনা ইত্যাদি বিভিন্ন ফলের বাগান। আশপাশ জনমানব শুন্য। অনেক দূর পর পর পুলিশের গাড়ি আর কিছু মহিলাদের ফলের দোকান সাজিয়ে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আমরা গাড়ি থামিয়ে কিছু আপেল কিনে নিলাম। আপেল গুলা একদম ফ্রেশ। মনে হল কেবলই গাছ থেকে পেরে এনেছে। খেতে দারুন লাগলো। দোকানের পাশেই মেহেদী ভাই একটা খালি পানির বোতল ফেলে দিল, আর সাথে সাথেই এক মেয়ে বললো পুলিশ দেখলে ৩০০০ রুপি জরিমানা করবে। সাথে সাথে ওটা আবার আমরা গাড়িতে তুলে ফেলি। আপনার কিন্তু ভুলেও এই কাজ টি করবেন না।

dochula pass
দোচুলা পাস এর ভিউ: নভেম্বর ২৪, সকাল ১০:৩০

দোচুলা পাস
দোচুলা পাস রাজধানী থিম্পু থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরুত্বে অবস্থিত। এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০২০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত। এটি ভুটানের সব থেকে পরিচিত এবং সুন্দর পাস। ভুটানের বর্তমান রাজধানী থিম্পু থেকে পূর্বের রাজধানী পুনাখা যেতে হলে এই পাস অতিক্রম করেই যেতে হয়। এটি প্রায় সময়ই সাদা মেঘে ঢাকা থাকে। এই চুড়ায় রয়েছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, মন্দির, দূরে দেখার জন্য বড় একটি দূরবীক্ষিন যন্ত্র, ক্যাফেটেরিয়া, আর সুন্দর বাগান। বেশ কয়েক বছর আগে ভারতীয় বিদ্রোহীরা (আসামের উলফা) ভূটানের সীমানা ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চেয়েছিল। ভূটানের তৎকালীন রাজা জিগমে সিংহে ওয়াংচুক এই বিদ্রোহীদের দমন করেন। এইখানেই ২০০৩ সালে ভারতীয় বিদ্রোহীদের সাথে ভুটানি সৈন্যদের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বেশ কিছু ভূটানীজ সৈন্য মারা যায়। রানীমাতা আসি দরজি ওয়াংমু ওয়াংচুক এই মন্যুমেন্ট তৈরী করান সেই সব ভূটানীজ সৈনিকদের স্মরণে। ২০০৪ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। স্তম্ভে এক সাথে একশত আটটি স্টুপার রয়েছে। এর তিনটি স্তর আছে। প্রথম স্তরে আছে ৪৫ টি স্টুপার, দ্বিতীয় স্তরে ৩৬ টি স্টুপার, শেষ স্তরে ২৭ টি স্টুপার। আর মাঝ খানে রয়েছে বড় একটি স্টুপার।

duchola pass
দোচুলা পাসে আমরা: নভেম্বর ২৪, সকাল ১০:৩৫

দোচুলা যাবার রাস্তাটিও বেশ চমৎকার। মাঝে মাঝে মেঘ এসে রাস্তা ঢেকে দেয়। রাস্তার দুইপাশে বেশ লম্বা লম্বা গাছ। প্রায় সবগুলো গাছের ডাল নিচের দিকে হেলানো। ড্রাইভার জানালো ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে এখানে অনেক ভারি তুষারপাত হয়। সেই তুষারপাতের চাপে ডাল গুলোর এই অবস্থা। কিছুক্ষন পরেই আমরা চলে আসলাম দোচুলা পাস। পাহাড়ের চূড়ায় সুন্দর এক নিদর্শন। গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথেই বেশ ঠান্ডা অনুভব করলাম। বাতাস ও রয়েছে ভাল। আমরা হেটে এর উপরে উঠে গেলাম। উঠার সাথে সাথেই সবার শাসকস্ট হতে লাগল। অতিরিক্ত উচ্চতা আর কম অক্সিজেনের জন্যই এমনটা হয়। আমরা একটু রেস্ট নিয়ে নরমাল হবার চেষ্টা করি। এর একপাশ অনেক খারা এবং ঢালু। যাদের উচ্চতায় সমস্যা আছে তারা একটু সাবধানে যাবেন। আমরা ঘুরে ঘুরে দোচুলার অপূর্ব দৃশ্য দেখি আর প্রচুর ছবি তুললাম। দুর্ভাগ্য দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কিছু দেখতে পারলাম না। ওটা নাকি রাজার বিশেষ মেহমানের জন্য। সেখানে আমাদের অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত এক পরিবারের সাথে কথা হল। তারাও আমাদের মতো ভুটান ভ্রমণে এসেছে।

মেঘ, বৃষ্টি আর কুয়াশা না থাকলে এখান থেকে হিমালয় পর্বতমালার মোট দশটি পর্বতচুড়া দেখা যায়। এটি ভুটানের অন্যতম একটি দর্শনীয় ও পবিত্র স্থান। পাহাড়ের চূড়ায় এ জায়গাটি একেবারেই ছবির মতো সাজানো৷ ভুটান ভ্রমণে গেলে সবাই অবশ্যই এই জায়গাটি ঘুরে দেখবেন। জায়গাটিতে নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বরফ পড়ে। এখানে একটি সুন্দর ক্যাফেটেরিয়া আছে। ইচ্ছে হলে কফি-স্ন্যাকস খেয়ে নিজেকে চাঙা করে নিতে পারেন। কারো যদি পুনাখায় যেয়ে রাফটিং করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এখান থেকেই যোগাযোগ করতে পারেন। এই ক্যাফেটেরিয়াতেই যোগাযোগের ফোন নম্বর দেয়া আছে। যারা মোটর বাইক ভাড়া নিতে চান তারাও এই খান থেকে নিতে পারেন

dochula-pass
দোচুলা পাসে আমি: নভেম্বর ২৪, সকাল ১০:৩৭

সতর্কতা
অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে মাউন্টেন সিকনেস হতে পারে। এতে শরীরের অক্সিজেন লেভেল কমে যায়। তাই শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘুড়ানো বা বমি হতে পারে। তাই বেশি বেশি করে পানি খাবেন। কিছু ঔষধ আছে যা দেহের অক্সিজেনর পরিমান বাড়ায়। সেগুলা খেতে পারেন। খুব বেশি কিনারে যাবেন না, পা পিছলে পরে যেতে পারেন। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। ভুটান ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন।। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!>

থিম্পু শহর | ভুটানের রাজধানী | ভুটান ভ্রমণ -পর্ব ২

থিম্পু (Thimphu) ভুটানের রাজধানী এবং দেশের সব থেকে বড় শহর। এটি ভুটানের পশ্চিম অংশে, হিমালয় পর্বতমালার একটি উঁচু উপত্যকায় অবস্থিত। অতীতে এটি দেশের শীতকালীন রাজধানী ছিল। ১৯৬২ সাল থেকে একে দেশের রাজধানী এবং স্থায়ী প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত করা হয়। পাহাড় ঘেরা থিম্পু খুবই সুন্দর। থিম্পু ঘুরে এসে আজ আমি আপনাদের এর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করব।

আমাদের হোটেল থেকে থিম্পু শহর

নভেম্বর ২৩, ২০১৭ থিম্পু। বাহিরের তাপমাত্রা ০ ডিগ্রী। থিম্পুতে আজ আমাদের দ্বিতীয় দিন। গতকাল রাতে লম্বা এক সফর শেষ করে আমরা ভুটানের রাজধানী থিম্পু তে এসে পৌঁছাইছি। আমরা কিভাবে বাংলাদেশ থেকে ভুটানে আসলাম যারা জানতে আগ্রহী তারা আমার আগের পর্ব টি দেখে আসতে পারেন। গতকাল অনেক ধকল গেছে, রাতে অনেক ভালো ঘুম হয়েছে। তথাপি সূর্য ওঠার আগেই আমার ঘুম ভেঙে যায়। হোটেল নিউ গ্রান্ড এর বেডে শুয়ে আছি। আমার রুমটি বেশ বড়, দুই পাশের পুরাটাই জানালা। পুরা রুম কাঠ দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। আমার রুমমেট মেহেদী ভাই এখনো ঘুমে। রুম হিটার চলছে, তাও উঠার সাহস পাচ্ছিনা। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখি কিছু কবুতর উড়ে এসে জানালায় বসছে আবার উড়ে যাচ্ছে , তাদের বাকুম বাকুম ডাক শুনতে পাচ্ছি। একপর্যায়ে উঠে পড়ি। গতকাল অনেক রাতে পৌঁছানোর জন্য হোটেলের আসে পাশে কি আছে দেখি নাই। কৌতহল বসত পর্দা সরাইয়া বাহিরে তাকাই। বাহিরের দৃশ্য দেখে পুরাই মাথা নষ্ট !! আমার জানালা থেকে কয়েকশ মিটার দুরেই বিশাল পাহাড়। গ্লাস খুলে বাহিরে মাথা বের করে ১৮০ ডিগ্রী পর্যন্ত যতদুর দেখা যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। এত বড় বড় পাহাড় কাছ থেকে আগে কখনো দেখিনাই। পাহাড়ের মাজখানে ছিমছাম গুছানো সুন্দর এক শহর। এইজন্যই লোকে ভুটান কে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড বলে। কয়েকশ কবুতর হোটেলের সামনেই ফাঁকা জায়গায় বসছে আবার চলে যাচ্ছে। উঁচু পাহাড়ের কারণে সূর্যের আলো এখনো পুরাপুরি আসে নাই। ঠান্ডা বেশি থাকায় আবার কম্বলের নিচে চলে আসি।

sun rising in the thimpu city
আমাদের হোটেল থেকে থিম্পু শহরে সূর্যদয়

একটু পরেই মেহেদী ভাই উঠে পরে। উনি বাহিরে তাকাইয়া চিৎকার দিয়ে বলে ও মাই গড!! কত বড় পাহাড়!! আর কত সুন্দর শহর!! তাকে দেখে আমিও আবার উঠে পড়ি। তখন একটু একটু করে সূর্যের আলো আসছে। উঁচু পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে সূর্যোদয় দেখতে অনেক সুন্দর। কিছুক্ষন ছবি তুলে আমরা আবার কম্বলের নিচে চলে আসি। একটু পর পাশের রুম থেকে রিয়াজ ভাই চলে আসে, আর বলে ভাই কি ঠাডারে!! কম্বলের নিচে শুয়ে শুয়ে কল করে অন্যদের ঘুম থেকে জাগাই আর ফ্রেস হয়ে বের হতে বলি। আমরাও ফ্রেস হয়ে রেডি হয়ে নেই। টয়লেটে গ্রিজার থাকায় গোসল করতে ভালোই লাগলো। এরই মধ্যে সবাই আমাদের রুমে চলে আসে। সারাদিন আর সময় পাবনা তাই সবাই যারা যার পরিবারের সাথে কথা শেষ করে হোটেলের দ্বিতীয় তলায় চলে আসি নাস্তা করার জন্য। সকালে আমরা পরোটা আর ডিম খাই। এগুলাই আমাদের পরিচিত খাবার। সবাই ৩-৪ তা করে ডিম খেয়ে নেই। আপনারাও তাই করতে পারেন। তাহলে সারাদিন আর তেমন ক্ষুদা লাগবেনা, আর দেহের তাপমাত্রাও একটু বাড়বে।

থিম্পুতে ঘুরার মতো অনেক জায়গা আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু, তাজ তাশি বা তাজ হোটেল, ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম, কিংস মেমোরিয়াল চড়টেন, ক্লক টাওয়ার স্কয়ার, সীমতখা ডিজং, ন্যাশনাল তাকিন সংরক্ষিত চিড়িয়াখানা, পার্লামেন্ট হাউস, রাজপ্রাসাদ, লোকাল মার্কেট, ন্যাশনাল স্কুল অব আর্টস, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, বিবিএস টাওয়ার ছাড়া আরো অনেক কিছুই। আমরা এর সবগুলাতেই যাবার চেষ্টা করব।

ক্লক টাওয়ার স্কয়ার
ক্লক টাওয়ার স্কয়ার (Clock Tower Square) থিম্পুর একটি খুবই পরিচিত স্থান। একে থিম্পু টাইম স্কয়ার ও বলা হয়। এটা থিম্পুর নরজিম ল্যাম এ অবস্থিত। এর পাশেই রয়েছে ফুটবল স্টেডিয়াম। এখানে একটি উঁচু টাওয়ার রয়েছে যার মাথার চার দিকে আছে চার টি বড় বড় ঘড়ি। টাওয়ার এর সামনে বেশ ফাঁকা জায়গা রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এই স্থানটি থিম্পুর সেন্ট্রাল পয়েন্ট এবং গুরুত্ব পূর্ণ স্থান হিসাবে ধরা হয়। এর আশেপাশে রয়েছে প্রচুর দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট। থিম্পুতে আমাদের হোটেল ক্লক টাওয়ার এর সাথেই ছিল। হোটেলের গেট থেকে বের হলেই ক্লক টাওয়ার। প্রচুর কবুতর এখানে ঘুরে বেড়ায়।

থিম্পু শহরে আমরা: নভেম্বরে ২৩, সকাল ১০:২৭

কিভাবে নিবেন পুনাখা যাবার পারমিশন?
সকাল ৯ তার মধ্যেই আমরা নাস্তা শেষ করে হোটেলের নিচে চলে আসি। ততক্ষনে সূর্য তেজ একটু বেড়া গেছে, তাপমাত্রাও একটু বেড়েছে। আমরা যেহেতু কাল পুনাখা যাবো তাই একটা ট্যাক্সি নিয়ে চলে আসি থিম্পুর ইমিগ্র্যাশন অফিসে। এটি নরজিন ল্যাম এ অবস্থিত। সবার পাসপোর্ট জমা দেই আর ছোট একটা ফর্ম পূরণ করি। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই তারা আমাদের পুনাখার পারমিশন দিয়ে দেয়, আর কোনো প্রকার ফি ছাড়াই। তেমন কিছুনা একটা কাগজে সবার নাম, পাসপোর্ট নাম্বার সব লিখা থাকে। পুনাখা যাবার সময় বিভিন্ন চেক পোস্ট এ এটা দেখতে হবে।

থিম্পুতে কেনাকাটা কোথায় করবেন?
থিম্পু শহরের মাঝখান দিয়ে যে প্রধান সড়ক টি চলে গেছে তার আসে পাশে বেশ কিছু মার্কেট, দোকান রয়েছে যেগুলা থেকে আপনে চাইলে কিছু কিনতে পারেন। তবে ভুটানের সবকিছুই আসে অন্য দেশ থেকে তাই সেখানে তেমন কিছু না কেনাই ভাল। কেননা দাম অনেক বেশি। তবে থিম্পু তে ইমিগ্র্যাশন অফিসের কাছে নরজিন ল্যাম এ আমাদের ফুটপাথের মতো, বিশাল লম্বা একটা লোকাল মার্কেট রয়েছে। দোকানগুলো সব ছোট ছোট আমাদের টং এর দোকানের মতো, আপনার মনে হতে পারে ঢাকার বস্তি। এইখান থেকে আপনে তাদের স্থানীয় কিছু প্রোডাক্ট কিনতে পারেন। আমরাও কিছু লোকাল প্রোডাক্ট কিনি। তবে পারোতে টাইগার নেস্টের কাছেও এমন একটা মার্কেট আছে। হাতের তৈরী জিনিসপত্র ঐখান থেকে কিনলে ভালো হয়। ওই গুলা আরো সস্তা।

shopping in thimphu
মার্কেট, নরজিন ল্যাম, থিম্পু: নভেম্বর ২৩, সকাল ১০:৩৫

তাজ তাশি বা তাজ হোটেল
এর পরে আমরা হেঁটেই চলে যাই থিম্পুর সব থেকে সুন্দর ভবন তাজ তাশি বা তাজ হোটেল (Taj Tashi Hotel) দেখতে। তাজ তাশি থিমম্পুর সব থেকে সুন্দর স্থাপনা। এটি ভারতীয় হোটেল জায়ান্ট তাজ হোটেল এবং ভুটানের তাশি গ্রূপ এর একটি জয়েন্ট প্রজেক্ট। এটা ভুটানের প্রথম ফাইভ স্টার হোটেল। তাজ হোটেল ২০০৪ সালে প্রথম চালু হয়। হোটেলটিতে একটি বিশাল সম্মেলন কক্ষ ও রয়েছে। ভবনটি আসলেই অনেক সুন্দর এবং বিশাল। সেখানে আমার কিছু ছবি তুলি।

এর পর আমরা পায়ে হেঁটে আরো কিছু এলাকা দেখি এবং ১২০০ রুপী করে দুই টা ট্যাক্সি ভাড়া করে নেই আমাদের কে থিম্পুর বাকি সব স্থাপনা গুলা দেখানোর জন্য। আপনারা দরদাম করে, কোথায় কোথায় যাবেন তা বলে নিবেন। তবে সব থেকে ভাল হয় থিম্পুতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানের জন্যই শুধু ট্যাক্সি ভাড়া করা। ঘুড়াঘুড়ি শেষ করে আবার ওই স্থান থেকে ট্যাক্সি নিবেন। তাহলে খরচ একটু কম হবে। থিম্পুতে ট্যাক্সি আমাদের ঢাকার রিক্সার মতো , সব জায়গায়, সব সময়ই পাওয়া যায়। ট্যাক্সি করে থিম্পু শহর ঘুরে আমাদের অনেক ভাল লাগে। থিম্পু আসলেই অনেক সুন্দর একটা শহর। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

thmphu city
পাহাড়ের উপরে আমরা, পিছনে থিম্পু শহর: নভেম্বর ২৩, দুপুর ১:০০

ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চোটেন
এর পর আমরা চলে যাই ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চোটেন (National Memorial Chorten) দেখতে। এটি মূলত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। ভূটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দরজি ওয়াঙচুকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৭৪ সালে এই স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। এর ভেতরের বিভিন্ন পেইণ্টিং এবং স্ট্যাচু বৌদ্ধ ফিলোসফির প্রতিবিম্ব রয়েছে। এটি থিম্পু শহরের দেওবুম ল্যাম এ অবস্থিত। এটি বর্তমানে ভুটানের সব থেকে পরিচিত ধর্মীয় স্থান। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান এখানে রাষ্ট্রীয় ভাবে উদযাপন করা হয়। পূর্বে এখানে প্রবেশ ফ্রি থাকলেও এখন ৩০০ রুপী দিয়ে টিকেট কাটা লাগে। আমরা এখানে কিছু সময় পার করি এবং ছবি তুলি।

ন্যাশনাল মেমোরিয়াল: নভেম্বর ২৩, দুপুর ১২:৪৮

বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু
এর পর আমরা চলে যাই বোদ্ধ পয়েন্টে। সেখানে রয়েছে বোদ্ধের এক বিশাল মূর্তি। এর নাম বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু (Buddha Dordenma Statue)। বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে বড় বুদ্ধ মূর্তি যা ভুটানের থিম্পু শহরের এক পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল পাহাড়ের উপর বিশাল এক মূর্তির। এটি সোনালী রঙের। সূর্যের আলো পড়ে চক চক করছিল। কাছে যেতেই আমরা অবাক এতো বিশাল মূর্তি বানালো কিভাবে!! এর চারপাশে আছে আরো অনেক গুলো ছোট ছোট মূর্তি। সব গুলোই সোনালী রঙের।

বোদ্ধের মূর্তির নিচে আছে পার্থনাগার। ঐটার ভেতরে জুতা খুলে ঢুকতে হয় এবং ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ। বাহির যতটা না সুন্দর ভেতরটা আরো বেশি সুন্দর। ছোট ছোট অনেক গুলো বোদ্ধ মূর্তি রয়েছে ভেতরে যা শোকেচে সাজানো। পুরো ইন্টেরিওর সোনালী রঙের অন্য রকম সুন্দর। সেখানে একটা কাহিনী প্রচলিত আছে। তাদের কোন এক রাজা যিনি মারা গেছেন, নাকি আসে এখানে আর এখানকার প্রধান সাধকের সাথে কথা বলেন। সবাই অবশ্য তারে দেখতে পায়না। বড়ই আফসোস আমরাও পাই নাই। কি আর করা দুঃখ ভরা মনে চলে আসি সেখান থেকে।

ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম
এর পরে আমরা চলে যাই থিম্পু ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম (Folk Heritage Museum) দেখতে। মিউজিয়াম টি ভুটানের ঐতিহ্য আর প্রাচীন গ্রামীণ জীবনের প্ৰতিচ্ছবি। মিউজিয়ামে গেলে আপনে সহজেই ভুটানের ইতিহাসের সাথে পরিচিত হতে পারবেন। এটি ২০০১ সালে ভুটানের রানী মাতা প্রতিষ্ঠা করেন। ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়লো সুন্দর একটা বাগান যা নানান রকমের গাছপালায় ভরপুর, বসার জন্য টেবিল, চেরার। ভিতরের পরিবেশ খুবই সুন্দর। এখানে রয়েছে আগের দিনের উইন্ড মেইল, পানি সংগ্রহশালা, ভোজ্য তেল তৈরির মেশিন, শস্য রাখার পাত্র, ইত্যাদি নানা ইতিহ্যবাহী জিনিস। ভিতরে একটি রেস্টুরেন্ট আছে। আপনারা চাইলে দুপুরের খাবার বাগানে বসে খেতে পারেন। দারুন হবে ব্যাপারটা। কিন্তু আগের দিনের খাবারের অভিজ্ঞতার কারণে আমাদের আর সাহস হলোনা। এখানে আরো রয়েছে প্রায় ১৫০ বছরের পুরানো একটি বাড়ি। মিউজিয়ামে ঢুকা ফ্রী হলেও পুরোনো এই বাড়িতে ঢুকতে ৫০ রুপীর টিকেট কাটা লাগে। আমরা টিকেট কেটে ভিতরে গেলাম। তিনতলা একটি মাটির ঘর। ঢুকেই দেখি রান্না ঘর আর কিছু মহিলা চাল থেকে হুইস্কি বানাচ্ছে। আপনে চাইলে কিনতে পারেন। আমরা সিঁড়ি বেয়ে ঘরটির বিভিন্ন ফ্লোর পরিদর্শন করলাম। একেক ফ্লোরে একেক ধরনরে জিনিস সাজানো রয়েছে। বেড রুম, খাবার রুম, তীর ধনুক, যুদ্ধ সরঞ্জাম, ইত্যাদি নানা অতিহ্যবাহী জিনিস রয়েছে সেখানে। সিঁড়িদিয়ে উঠার সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আর ভিতরে কোনো জিনিস হাত দিয়ে ধরবেন না। এগুলা অনেক পুরানো তাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এর পাশেই রয়েছে ভুটানের জাতীয় গ্রন্থাগার, বিভিন্ন হেরিজেট শপিং মল। আপনারে চাইলে সেখানে যেতে পারেন।

Thimpu Folk Heritage Museum
ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম: নভেম্বর ২৩, দুপুর ২:২২

ভুটান রয়েল প্রসাদ
এর পর আমরা চলে যাই ভুটানের রাজার প্রসাদ (Bhutan Royal Palace) দেখতে। ভুটানিরা একে Tashichhoe Dzong বা Thimpu Dzong ও বলে। এটি রাজার অফিসিলাল প্রধান রাজ প্রাসাদ। অবশ্য প্রত্যেক ডিস্ট্রিক্ট বা শহরেই রাজার একটা করে প্রাসাদ রয়েছে। সেগুলা অবশ্য এত বড় না ছোট ছোট। কেবল পুনাখা শহরের টা একটু বড়। যাই হোক রাজ মেহমান না হওয়ায় আমরা আর ভিতরে যেতে পারিনাই। তাই বাহির থেকেই ঘুরে চলে আসি।

থিম্পু নদী
এর পর চলে যাই অপরূপ সুন্দর থিম্পু নদী (Thimphu River)দেখতে। এটি একটি পাহাড়ি নদী। এটি আমাদের নদী গুলার মতো চওড়া নয়। এটি ভুটান, ইন্ডিয়া হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যাকে আমরা ব্রহ্মপুত্র নদ বলে চিনি। এটি মারাত্মক খরস্রোতা। এটি উপরের পাহাড় থেকে প্রচুর পাথর বয়ে নিয়ে আসে। আমরা কিছুক্ষন এর তীর ধরে হেটে চলে আসি।

আর্চারি গ্রাউন্ড
এর পর আমরা চলে যাই থিম্পু আর্চারি গ্রাউন্ড (Thimphu Archery Ground) এ। এটি থিম্পু নদীর উপর যে ব্রিজ আছে তার পাশেই অবস্থিত। আর্চারি বা তীরধনুক ভুটানের জাতীয় খেলা এবং ঐতিহ্য। এরা এখনো এটাকে ধরে রেখেছে। একসময় তীরধনুক দিয়েই যুদ্ধ হত। ভুটানে প্রায় প্রত্যেক শহরেই এমন একটি আর্চারি গ্রাউন্ড রয়েছে। ১৫০-২০০ মিটার দুরুত্বে তীরন্দাজদের নিশানা লাগানো দেখে অবাক হতে হয়। আপনার ভাগ্য ভাল হলে দেখা মিলতে পারে তাদের।

থিম্পু আর্চারি গ্রাউন্ড: নভেম্বরে ২৩, দুপুর ৩:৩০

আজ সারাদিন অনেক হাটাহাটি করেছি। শরীরের উপর দিয়ে প্রচুর ধকল গেছে। কারোর পা ই আর চলছেনা, তাই সন্ধ্যার একটু আগ দিয়ে হোটেলে ফিরে আসি। কিছুক্ষন রেস্ট করে, হালকা কিছু নাস্তা করে আবার বের হই রাতের থিম্পু শহর দেখার জন্য। কিন্তু রাট ৮ তা বেজে গেছে , সব কিছুই ফাঁকা ফাঁকা। সবাই চলছে যার যার বাসার দিকে। বাহিরে মারাত্মক ঠান্ডা আর বাতাস। কিছু রেস্টুরেন্ট আর বার খোলা আছে। এদিক সেদিক ঘরাঘুরি করে ১০-১১ তার দিকে আমরাও হোটেলে ফিরে আসি।।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। ভুটান ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

মৈনট ঘাট

আমরা অনেকেই সাধারণত দেশের পরিচিত কয়েকটা জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে চাইনা। তবে পজিটিভ দিক হল ইদানীং আমাদের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর আগ্রহ আগের থেকে বেশ বেড়েছে। তাই প্রতিদিনই ঘুরে বেড়ানোর জন্য নতুন জায়গার সন্ধান আমরা করছি এবং পাচ্ছি। মৈনট ঘাট ঠিক তেমনি নতুন একটি আদর্শ দর্শনীয় স্থান। যেখানে আসলে আপনি মুগ্ধ হবেন, তাকিয়ে থাকবেন নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে। বিশাল জলরাশি, নদীতে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা, নদীর তীরে হেঁটে বেড়ানো, সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি এখন আছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে । মূলত এ কারণেই অনেকে মৈনট ঘাটকে বলে থাকে ছোট কক্সবাজার।

Moinot Ghat
পদ্মা নদী,মৈনট ঘাট:

মৈনট ঘাট কোথায় অবস্থিত?
মৈনট ঘাট/মইনট ঘাট (Moinot Ghat) ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। আসলে মৈনট ঘাট পদ্মা পাড়ের একটি খেয়াঘাট। পদ্মার এক পাড়ে দোহার আর অপর পারে ফরিদপুর জেলা। মৈনট ঘাট পাড় হয়ে মানুষ ফরিদপুরের গোপালপুর যায়। খেয়া পারাপারের জন্য জায়গাটি আগে থেকেই পরিচিত ছিল। তবে এখন এটা জনপ্রিয় একটি বেড়ানোর জায়গা। এত দিন অনেকটা আড়ালে থাকলেও ঢাকার কাছাকাছি বেড়ানোর ‘হটস্পট’ এখন এই মৈনট ঘাট। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া মৈনট ঘাটের এখন নতুন নাম হল মিনি কক্সবাজার। ঘাটের পাশের বেলাভূমি কে মনে হয় সমুদ্রের বীচ, আর বিশাল পদ্মা নদীতে কে মনে হয় সমুদ্র।

মৈনট ঘাট কখন যাবেন?
মৈনট ঘাট আপনে সব সময়ই যেতে পারেন। তবে সব থেকে ভাল শীত কালে গেলে। তখন নদী অনেক শান্ত থাকে, বীচ টাও অনেক বড় মনে হয়। মৈনট ঘাটের আসল সৌন্দর্য এসময়ই দেখা যায়। নদীর মাঝে একটা চর আছে ওটা কেবল শীতকালেই দেখা যায় ভালো করে। চাইলে বর্ষা কালেও যেতে পারেন। তখন নদী পুরা ভরপুর এবং অনেক উত্তাল থাকে। নদীতে স্রোত থাকে প্রচুর। তখন নদী আর আশে পাশের বিল এক হয়ে যায়। কোনটা নদী আর কোনটা বিল বুঝা যায় না। বীচটাও আর তেমন দেখা যায় না। তাই বর্ষাকালে গেলে আপনে অনেকটা হতাশ হতে পারেন।

মৈনট ঘাট যাওয়ার উপায়
মৈনট ঘাট ঢাকার খুব কাছেই, তাই দিনে যেয়ে ঘুরাঘুরি করে আবার বিকালে ফেরত আসা যায়। মৈনট ঘাট বিভিন্ন ভাবে যাওয়া যায়। তবে সব থেকে সহজ উপায় হচ্ছে বাস। ঢাকার গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার এর কাছ থেকে যমুনা পরিবহন নামে একটা বাস ছাড়ে, যা সরাসরি মৈনট ঘাট আসে। ভাড়া নিবে ৯০ টাকার মতো (কম বেশি হতে পারে)। গুলিস্থান থেকে নবাবগঞ্জ বা দোহারের বাসে করেও আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভেঙে ভেঙে আসতে হবে। আগেই বাসের হেল্পার কে বলে রাখবেন আপনে মৈনট ঘাট যাবেন। তাহলে ওরা কাছাকাছি আপনাকে নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে অটো রিক্সা করে চলে যেতে পারবেন মৈনট ঘাট। এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে টেম্পুতে আটিবাজার, সেখান থেকে আবার সিএনজি করে কোনাখোলা। সেখান থেকে নবাবগঞ্জ বা দোহারের বাসে উঠতে হবে। তবে সব থেকে ভাল হয় ৮-১০ জনের গ্রূপে যাওয়া। তখন একটা মাইক্রো বাস ভাড়া করে নিবেন। তেমন খরচ পড়বেনা।

মৈনট ঘাটে কোথায় থাকবেন?
এখন পর্যন্ত মৈনট ঘাটের আশপাশে ট্যুরিস্টদের থাকার জন্য কোনো হোটেল, রিসোর্ট, বোর্ডিং তৈরি হয়নি। স্থানীয় কোনো বাসিন্দাদের বাড়ি ম্যানেজ করতে পারলে ভাল, না হলে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া ভাল।

মৈনট ঘাটে কোথায় খাবেন?
মৈনট ঘাটে তেমন কোনো ভালো মানের রেস্টুরেন্ট নাই। তবে কিছু ভাতের হোটেল আছে যেখানে দুপুরের খাবার খাওয়া যায়। এখানে ভাতের সাথে পদ্মার ইলিশ খেতে ভীষণ মজা। তবে সাইজ দেখে দরদাম করে নিলে ভাল হয়। একটু বড় সাইজের ইলিশ খেতে হলে তাদের বলতে হবে। তাহলে তারা ম্যানেজ করে দিবে। এছাড়া বোয়াল, চিংড়ি ইত্যাদি মাছ ও পাওয়া যায়। কিছু মোদী দোকান আছে যেখান থেকে চিপস, কোকাকোলা, চকলেট, ব্রেড, কলা ইত্যাদি কিনতে পারবেন। সময় থাকলে কার্তিকপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি অবশ্যই খাবেন । এখানকার মিষ্টি বিদেশেও যায়। বেশ কিছু মিষ্টির দোকান আছে যেমন: নিরঞ্জন মিষ্টান্নভাণ্ডার, মুসলিম সুইটস, রণজিৎ মিষ্টান্নভাণ্ডার ইত্যাদি।

মৈনট ঘাটে কি কি করবেন?
মৈনট ঘাট অনেক সুন্দর জায়গা। এখানে নদীর বেলাভূমিতে ঘুড়াঘুড়ি করতে অনেক মজা। পরে দরদাম করে ১ ঘন্টার জন্য একটা ট্রলার ভাড়া করে নিতে পারেন পদ্মায় ঘুরাবার জন্য। সাথে হালকা কিছু নাস্তা ব্রেড, কলা, পানি, চকলেট ইত্যাদি সাথে নিয়ে নিতে পারেন। উত্তাল পদ্মায় পা ঝুলিয়ে এইসব খাবার খেতে দারুন লাগে। ভাল একটা জায়গা দেখে পদ্মার পারে নেমে যাবেন, পানিতে লাফালাফি, খেলাধুলা করার জন্য। তবে পদ্মায় অনেক স্রোত। সাঁতার জানলেও আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। তাই সাবধান থাকবেন। তীরের কাছাকাছি থাকবেন। দল বেঁধে থাকবেন। সাঁতার না জানলে পানিতে না নামাই ভাল। এমন তীব্র স্রোত এখানে না আসলে বুঝতে পারবেন না।

Moinot Ghat
পদ্মা নদীতে লাফালাফি, মৈনট ঘাট
Moinot Ghat
পদ্মা নদীতে আমরা, মৈনট ঘাট

সতর্কতাঃ
পদ্মা অনেক খরস্রোতা নদী। সব সময় প্রচুর স্রোত থাকে। তাই সাবধান থাকবেন। সাঁতার না জানলে পানিতে না নামাই ভাল। দুপুরে মারাত্মক গরম থাকে। তাই মাথায় ক্যাপ ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। নৌকা ভাড়া নিলে দরদাম করে নিবেন। ট্যুরিস্ট স্পট হওয়ায় খাবার দাম একটু বেশি। খাবার অর্ডার করার আগে দাম জেনে নিবেন। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে আসে পাশের পরিবেশ দুষিত করবেন না।

মৈনট ঘাটের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

ইলিশের রাজধানী চাঁদপুর

মেঘনা, ডাকাতিয়া আর ধনাগোদা নদীর জলধারায় বিধৌত দেশের অন্যতম বাণিজ্য নৌবন্দর চাঁদপুর। এই জনপদ বন্যা আর নদীর ভাঙ্গনে বার বার বিপর্যস্ত হয়েছে। কিন্তু হারমানেনি, আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদপুরকে বলা হয় ইলিশের রাজধানী। ইলিশ মাছের স্বাদ নিতে প্রতিনিয়ত অনেক মানুষের আগমন ঘটে এখানে। শধু ইলিশের জন্যই নয়, গ্রাম বাংলার আবহমান নদীর রূপের টানেও এখানে প্রচুর লোকের আগমন ঘটে। তিন নদীর মোহনা অনেক থাকলেও চাঁদপুরে মেঘনা, পদ্মা, ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল অসাধারণ।

চাঁদপুরের ইতিহাস
চাঁদপুর আগে কুমিল্লা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হয়। বার ভূঁইয়াদের সময়ে চাঁদপুর অঞ্চল বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলে ছিল। এখানে তিনি একটি শাসনকেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। ঐতিহাসিক জে এম সেনগুপ্তের মতে, জমিদার চাঁদরায়ের নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে চাঁদপুর। অন্যদের মতে, চাঁদপুর শহরের (কোড়ালিয়া) পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কারো কারো মতে, পঞ্চদশ শতকে শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাসক দিল্লী থেকে এখানে এসে একটি নদী বন্দর স্থাপন করেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই এই জায়গার নাম হয়েছে চাঁদপুর।

কখন চাঁদপুর যাবেন?
শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা যে কোন সময়ই বেড়াতে পারেন ইলিশের রাজধানী চাঁদপুর। তবে সব থেকে ভালো হয় ইলিশের মৌসুমে গেলে।

কিভাবে চাঁদপুর যাবেন?
ঢাকা থেকে আপনি খুব সহজেই চাঁদপুর যেতে পারেন। বাস এবং লঞ্চ উভয় পথেই চাঁদপুর যাওয়া যায়। রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বেশ কিছু বাস চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এর মধ্যে পদ্মা এক্সপ্রেস, বিলাশ এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য। তবে চাঁদপুর স্থল পথে যাওয়াটা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। চাঁদপুর যাওয়ার সব থেকে সহজ এবং ভাল উপায় হচ্ছে নদীপথ। প্রতিদিন সদরঘাট থেকে সকাল ৭:৩০ মিনিট হতে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় প্রতি ঘণ্টায় লঞ্চ ছেড়ে যায়। আপনার প্রয়োজন অনুসারে যে কোনো একটায় উঠে পড়ুন। ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে সময় নিবে ৪ ঘন্টার মতো। এই রুটের অধিকাংশ লঞ্চই নিরাপদ ও আরামদায়ক। আপনি চাইলে সকালে চাঁদপুর গিয়ে ঘুরে আবার বিকালে ফেরত আসতে পারেন। সাধারণত চাঁদপুরের লঞ্চ ভাড়া শ্রেনী ভেদে ১০০ থেকে ২০০০ টাকা হয়ে থাকে। যাবার সময় লঞ্চের ফেরার সময় সূচি জেনে নিবেন।

চাঁদপুরের দর্শনীয় স্থান
চাঁদপুরে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। সব গুলো দেখতে গেলে ২-৩ দিন সময় লেগে যাবে। সম্ভব হলে পরিচিত কারো বাসায় থেকে ঘুরে দেখতে পারেন। তবে শুধু মাত্র চাঁদপুর শহর ঘুরতে চাইলে নিচের স্থান গুলো দেখতে পারেন।
ইলিশের বাজার
চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন
অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ
বড়স্টেশন মোলহেড নদীর মোহনা
ওয়ান মিনিট আইক্রিম

ইলিশ কোথায় কিনবেন?
চাঁদপুর গেলে অনেকেই বাসার জন্য ইলিশ কিনে আনতে চায়। আপনিও কিনতে চাইলে সোজা চলে যান বড় স্টেশন। এখানেই ভালো মানের ইলিশ পাবেন। তবে এখানে চাঁদপুর ছাড়াও ভোলা, বরিশাল, এবং সামুদ্রিক ইলিশও পাওয়া যায়। চাঁদপুরের ইলিশ চেনার উপায় হলো, এখানকার ইলিশ একেবারেই রুপালি রঙের। অন্য জায়গার ইলিশে রুপালি রঙের সাথে হালকা লালচে আভা থাকে। সাধারণত নদী বা মিষ্টি পানির ইলিশ চকচকে রুপালি রঙের হয়। বাজারের কাছেই ককশিট, ব্যাগ এবং বরফ পাওয়া যায়। কিনে তাদেরকে বললে তারাই সুন্দর করে প্যাকেট করে দিবে। তবে ফেরার পথে সদরঘেটে কুলিরা বেশ ঝামেলা করে। তাই ওদের হাতে ব্যাগ না দিয়ে তাদের অল্প কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দেয়ার চেষ্টা করবেন।

গ্রামের সরু রাস্তায় সাইক্লিং
যারা সাইক্লিং করতে ভালবাসেন তাদের কাছে শহরের প্রশস্ত সুন্দর রাস্তার চেয়ে গ্রামীণ সরু আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে সাইক্লিং বেশি পছন্দনীয়। গ্রামের সবুজ প্রকৃতির মাঝে সাইকেল চালানো সবসময় উত্তেজনাপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর। আপনার হাতে সময় থাকলে চাঁদপুরের যেকোনো গ্রামের ভিতর দিয়ে সাইক্লিং করতে পাবেন। দারুন মজা পাবেন।

সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন।। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

সড়ক পথে ভুটান ভ্রমণ | কম খরচে ভুটান ভ্রমণ | ভুটান ভ্রমণ -পর্ব ১

ভুটান (Bhutan) দক্ষিণ এশিয়ার এক ক্ষুদ্র দেশ। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই সুন্দর এবং আকর্ষণীয়। সুবিশাল হিমালয়ের কল্যাণে উঁচু উঁচু পাহাড়, ঘন জঙ্গল, সবুজ ভ্যালি ভুটানকে করেছে অপরূপ। ফ্রেন্ডস ট্যুর, ফ্যামিলি ট্যুর, মধুচন্দ্রিমা, কাপল ট্যুর, সবকিছুর জন্যই ভুটান হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। কারণ যেকোনো ধরনের, যেকোনো বয়সের মানুষ এর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হতে বাধ্য। আজ আমি ছবির মতো সুন্দর, সুখী মানুষদের দেশটি ঘুরে এসে এর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করব।

ভুটান কিভাবে যাবেন?
বিভিন্ন ব্লগ পরে এবং ইউটিবে ভিডিও দেখে আমিও ভুটানের প্রেমে পরে যাই এবং সিদ্ধান্ত নেই এবার ভুটান যাব। যেকোনো ট্যুরেই একা থেকে দলবদ্ধ ভাবে গেলে অনেক বেশি মজা হয়, আর খরচ ও কমে যায়। দল বা টিমের সাইজ ৪ বা ৬ গুণিতক হলে ভাল। তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে তেমন একটা চিন্তা করা লাগেনা এবং হোটেল বুকিং, গাড়ি ভাড়া করতে সুবিধা হয়। আমিও টিম খুঁজতে থাকি এবং আমার অফিসের ৭ জন কে পেয়ে যাই। যেই কথা সেই কাজ, আমার অফিসের সাত কলিগ মিলে ভুটান ভ্রমণের প্লানিং শুরু করে দেই। ভুটান বাংলাদেশিদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রদান করে। মানে আপনে ভুটান গেলেই ওরা আপনাকে ভিসা দিবে। তাই আগে থেকে ভিসার জামেলা নাই। ভুটানে আকাশ পথে মানে প্লেনে এবং সড়ক পথে দুই ভাবেই যাওয়া যায়। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা সড়ক পথে যাব। কারণ ভুটান মানেই সড়ক পথে ভ্রমণ। উঁচু উঁচু পাহাড়ের কোল গেষে, আঁকাবাঁকা পথ ধরে, কখনো সবুজের, কখনো মেঘের, কখনো বরফের ভিতর দিয়ে, বিশাল বিশাল ঝর্ণা থেকে সৃষ্ট পাহাড়ি নদীর স্বচ্ছ কালারফু পানির পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোই ভুটান ভ্রমণ। বাংলাদেশের সাথে ভুটানের সরাসরি কোনো বর্ডার নাই, তাই ভারত হয়েই আমাদের ভুটান যেতে হবে। ঢাকা থেকে বুড়িমারী/চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়া ভারতে প্রবেশ করে ওইখান থেকে বাস বা ট্যাক্সি করে ভুটান বর্ডার জয়গাঁ/ফুন্টশোলিং দিয়ে ভুটানে প্রবেশ করা যায়। (চ্যাংড়াবান্ধা, জয়গাঁ – ভারতে)

ভুটান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
আগস্ট থেকে অক্টোবর এই তিন মাস ভুটানে বেড়ানোর সব থেকে ভাল সময়। কারণ এই সময় আবহাওয়া খুব ভালো থাকে। এই সময়ে ভুটানে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। শীতকালে ভুটানে মারাত্বক ঠান্ডা পরে এবং বরফ জমে অনেক রাস্তা ঘাট বন্ধ হয়ে যায়। তাই শীতকাল ভুটানে বেড়ানোর ভাল সময় নয়। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে এ সময়টাও ভুটানে বেড়ানো কঠিন। আমরা যেহেতু বরফ দেখতে চাই তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা নভেম্বরে যাব। তখন শীত একটু কম থাকে। আমরা ২০১৭ সালের ২১ শে নভেম্বর ঢাকা থেকে সড়ক পথে ভুটানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি এবং ২০১৭ সালের ২৮ শে নভেম্বর ঢাকায় ফিরে আসি।

ভুটান ভ্রমণে কেমন সময় লাগে?
ভুটানে মোট ২০ টা ডিস্ট্রিক্ট রয়েছে। সব গুলাতেই রয়েছে বেশ কিছু ছোট বড় শহর আর দর্শনীয় স্থান, যার সবগুলাই অসম্ভব সুন্দর। সব ভ্রমণ করতে মোটামোটি এক মাস লেগে যাবে। যাদের প্রচুর টাকা পয়সা রয়েছে এবং হাতে আছে যথেষ্ট সময় তারাই কেবল এমন অভিযানে নামতে পারে। আমাদের ড্রাইভার জানালো সে ভারতীয় এক দম্পতিকে একবার এমন অভিযানে নিয়ে গিয়েছিল। তবে থিম্পু, পারো, ফুন্টসলিং, পুনাখা, বুমথং এবং হা ভ্যালি এই শহর গুলি ঘুরলেই মোটামোটি ভুটান ভ্রমণ হয়ে যাবে। আর এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭-৮ দিন। আমরা থিম্পু, পারো, পুনাখা এবং ফুন্টসলিং শহর এবং এর আশে পাশের দর্শনীয় স্থান গুলো ভ্রমণ করি। সময় লাগে এক সপ্তাহ। এইজন্য অবশ্যই আমি আমার অফিস রেইডলাইম সলিউশনস কে ধন্যবাদ দিব আমাদের এই লম্বা ছুটি এবং অন্য সব আনুসঙ্গিক সহযোগিতা করার জন্য।

ভুটান ভ্রমণের খরচ
একজন মানুষ মাত্র ১৫০০০ টাকায় ভুটান ঘুরে আসতে পারে। তবে অনেকের খরচ একটু কম বেশি হতে পারে। কারণ বিভিন্ন দামের হোটেল, খাবার রয়েছে। আপনে কোথায় থাকবেন কি খাবেন তা নিতানন্তই আপনার ব্যপার। আমরা ফিরার পথে একরাত ভারতের শিলিগুঁড়ি তে ছিলাম। শপিং ছাড়া আমাদের একেক জনের ১৫০০০ টাকার মতো খরচ হয়। শ্যামলির শিলিগুড়ি-ঢাকা আসা-যাওয়া টিকেট ৩০০০ টাকা, ঢাকা-বুড়িমারী ৮০০-১০০০ টাকা (অন্য বাসে), ইন্ডিয়ান ভিসা প্রসেসিং ফি ৬০০ টাকা, ডলার এন্ড্রোসমেন্ট ফি ১৩০-৫০০ টাকা (ব্যাংক ভেদে), ট্র্যাভেল ট্যাক্স (বাংলাদেশ সরকার) ৫০০ টাকা, বর্ডারে বকশিস ১০০/২০০ করে ৩০০/৪০০ টাকা (আসা-যাওয়া)। ট্র্যাভেল ট্যাক্স সোনালী ব্যাংক থেকে কেটে নিতে পারেন যাবার আগে। অথবা বর্ডার থেকেও করতে পারেন। ওরা ৫০-১০০ টাকা চার্জ নিবে। বাকি টাকা ভুটানে গাড়ি ভাড়া, হোটেল খরচ এবং খাবার খেতে খরচ হয়।

ভুটান ভ্রমণের জন্য কি কি দরকার
ভুটান ভ্রমনের জন্য আপনার নিচের জিনিস গুলো দরকার হবে:
বাংলাদেশী পাসপোর্ট
বাসের টিকেট (ঢাকা-বুড়িমারী অথবা ঢাকা-শিলিগুঁড়ি)
পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় ডলার এন্ড্রোসমেন্ট (আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড থাকলে তার এন্ড্রোসমেন্ট)
আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ( যদি থাকে সব থেকে ভালো হয় )
ইন্ডিয়ান ট্রানসিট ভিসা
নুন্নতম ১৫ হাজার টাকা ( শপিং ছাড়া )
চাকরিজীবী হলে অফিস থেকে NOC (বর্ডারে দেখতে হবে)
পাসপোর্টের প্রধান পেইজের ৩-৪ সেট ফটোকপি
ট্রানসিট ভিসার ১ সেট ফটোকপি
৩-৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
প্রয়োজনীয় জামাকাপড় (শীত কালে গেলে মোটা জ্যাকেট, কান টুপি, হাত মুজা ইত্যাদি)
প্রয়োজনীয় ঔষধ পত্র (প্যারাসিটামল, গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধ, ঠান্ডা কাশির সিরাপ ইত্যাদি)
লেখার জন্য কলম (জরুরি না, তবে বিভিন্ন ফর্ম পূরণ করতে গেলে লাগবে)
ভুটানে কোথায় কোথায় ঘুরবেন তার ম্যাপ, স্মার্ট ফোন থাকলে গুগল ম্যাপে অফলাইন ম্যাপ লোড করে নিবেন
পরিশ্রম করার মতো সুস্থ শরীর
হিন্দি বা ইংরেজী তে কথা বলার অভিজ্ঞতা (ভুটানিরা হিন্দি ভাল জানে)
ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা, স্মার্ট ফোন

কিভাবে পাবেন ইন্ডিয়ান ভিসা?
সড়ক পথে ভুটান ভ্রমণের জন্য প্রথমেই আমাদের প্রয়োজন ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার, যা কিনা ঢাকার গুলশান (এখন অন্যান্য শাখাতেও পাওয়া যায়, যেমন চট্টগ্রাম) শাখা থেকে নেয়া যায়। বাসের টিকেট কাটতে হবে। বাসের টিকেট ট্রানজিট ভিসার কাগজ পত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। শ্যামলী পরিবহন ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যায়। আমরা শ্যামলী পরিবহনের টিকেট কাটি। আপনি চাইলে অন্য বাসের টিকিট ও কাটতে পারেন। কিভাবে ইন্ডিয়ান ট্রানসিট ভিসার আবেদন করতে হয় তা আমাদের অন্য একটা আর্টিকেল এ সুন্দর করে বিস্তারিত লেখা আছে। আমরা সাতজন ভিসার জন্য আবেদন করি। প্রদানের নির্ধারিত দিনেও ইন্ডিয়ান হাইকমিশন আমাদের পাসপোর্ট ফেরত না দেয়ায় সবাই ভিশন টেনশনে পরে যাই। ভিসা পাব কি পাবনা, এইদিকে আমাদের যাবার তারিখ ও চলে আসছে। যাই হোক সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যাবার আগের দিন আমরা ছয় জন ভিসা পেয়ে যাই। দূর্ভাগ্যবসত এক জন ভিসা পায় নাই। ওনার পাসপোর্ট এ ঝামেলা ছিল। মনে রাখবেন ট্রানসিট ভিসা ভ্রমণ করার ২-১ দিন আগে দেয়। তাই ঘাবড়ানোর কিছু নাই।

আমার টিমের বাকি সদস্যরা: মাহমুদ, রিয়াজ, খাদেম, শাহিদ, মেহেদি

ভুটান ভ্রমণের প্ল্যানিং
ভুটানে আপনে কোথায় কোথায় ঘুরবেন, কখন কোথায় থাকবেন তার একটা খসড়া ঢাকা থেকেই করে নিবেন। আমরা প্ল্যান করি নভেম্বরের ২১ তারিখ রাতে ঢাকা থেকে রওনা করে ২২ তারিখ সকালে ভারতে প্রবেশ করব। সেখান থেকে বাসে জয়গাঁ হয়ে ভুটানের ফুন্টশোলিং এ প্রবেশ করব। ফুন্টশোলিং থেকে থিম্পু এবং পারোর পারমিশন নিয়ে থিম্পুতে চলে যাব। ২২ তারিখ রাত থিম্পুতে থেকে ২৩ তারিখ দিনে থিম্পু শহর ভ্রমণ করব এবং পুনাখা যাবার পারমিশন নিব। ২৪ তারিখ সকালে আমার পুনাখা যাব। যাবার পথে দোচুলা পাস দেখব। পুনাখা শহর ঘুরে পুনরায় থিম্পুতে চলে আসব। থিম্পু থেকে ২৫ তারিখ সকালে হোটেলে চেকআউট করে পারোর পথে যাত্রা করব। প্রথমে চেলালা পাস যাব, তার পরে টাইগার নেস্টে উঠব। রাতে পারো থেকে ২৬ তারিখ সকালে দেশের পথে রওনা দিয়ে রাতে ভারতের শিলিগুঁড়ি তে থাকব। সেখান থেকে ২৭ তারিখ বিকালে দেশে ফেরার জন্য শ্যামলী পরিবহনের বাসে উঠব। ২৮ তারিখ সকালে আমরা ঢাকায় পোঁছাব। সংক্ষেপে আমাদের ট্যুর প্ল্যান:

প্রথম দিন:
ঢাকা থেকে থিম্পর উদ্দেশে যাত্রা

দ্বিতীয় দিন:
থিম্পু শহর ভ্রমণ এবং পুনাখা যাবার পারমিশন সংগ্রহ করা

তৃতীয় দিন:
দোচুলা পাস দেখা, পুনাখা শহর ভ্রমণ এবং পুনাখা সাসপেনশন ব্রিজ দেখা

চতুর্থ দিন :
চেলে লা পাস দেখা, পারো শহরে ঘুরাঘুরি এবং টাইগার নেস্ট দেখা

পঞ্চম দিন:
পারো থেকে ভারতের শিলিগুঁড়ি শহরের উদ্দেশে যাত্রা

ষষ্ঠ দিন:
শিলিগুঁড়ি শহর ভ্রমণ এবং কেনাকাটা

সপ্তম দিন:
শিলিগুঁড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা

এবার মূল ভ্রমণে আসি
২০১৭ সালে ২১ শে নভেম্বরে রাত ৯ টায় আমরা ঢাকার কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনের বাসে উঠি। সারা পথই আমরা গল্পগুজব করতেছিলাম আর অতিরিক্ত উত্তেজনায় কারোরই ঘুম আসছিলনা। তবে আপনারা পারলে একটু ঘুমিয়ে নিবেন। কারণ পরদিন অনেক ধকল যাবে। সকাল সাতটায় আমরা বুড়িমারী বর্ডারে চলে আসি। কিন্তু বর্ডারের কাজকর্ম শুরু হয় সকাল ৯ টা থেকে। তাই এই সময় একটু ফ্রেস হয়ে নাস্তা করার জন্য চলে যাই বুড়ির হোটেলে। এইখানে ভাত, রুটি দুইটাই পাওয়া যায়। আমরা গরম ভাত, আলু ভর্তা, দেশি মুরগির মাংস খাই। একটু ঝাল তবে টেস্টি। আপনারাও তাই করতে পারেন। কারণ আগামী কয়েকদিন তৃপ্তি করে আর কিছু খেতে পারবেন না। যা খাবেন সব গন্ধযুক্ত খাবার। খেলে অনেকেরই বমি চলে আসতে পারে। বাকি সময় আমরা ছবি তুলে, বাস কাউন্টারে বসেই কাটাই। আপনারা চাইলে মোবাইল, পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করে নিতে পারেন।

বুড়ির হোটেল, বুড়িমারী নভেম্বর ২২, সকাল ৮:৪৫

৯ টায় চলে যাই ইমিগ্রেশন অফিস। ভ্যান ওলারা তাদের ভ্যানে উঠতে বলবে, দরকার নাই আপনে হেঁটেই চলে যাবেন। বর্ডারে দুই পাশেই প্রচুর দালাল রয়েছে, তারা আপনাকে ভয় দেখাবে, কাজ করে দিতে চাইবে। দরকার নাই আপনে নিজেই নিজের কাজ করার চেষ্টা করবেন। সব খুবই সহজ। আমরা অবশ্য শ্যামলী বাসের সুপারভাইজারকে ১০০ টাকা করে দেই। সেই সব কাজ দ্রুত করে দেয়। আপনে শ্যামলী বাসে গেলে একই কাজ করতে পারেন। কাস্টমস এর লোকজন সাথে টাকা আছেকিনা জিজ্ঞাসা করলে বলবেন নাই। আপনে আপনার টাকা পয়সা সব এমন জাগায় লুকায় ফেলেন যাতে তারা খুঁজেও না পায়। সব কাজ শেষ করে হেটে হেটে প্রবেশ করি ভারতের মাটিতে। তখন দেশের জন্য একটু মায়া লাগতেছিলো। আপনে হয়তো প্লেনে নিজ থেকে অন্য দেশে গেছেন কিন্তু কেবল স্থল পথে অন্য দেশে গেলেই দেশের জন্য অন্নরক একটা এ ফিলিংস হবে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর: নভেম্বর ২২, সকাল ৯:৪৩

বাংলাদেশ – ভারত বর্ডার: নভেম্বর ২২, সকাল ১০:১৩

চেংড়াবান্দা ইমিগ্রেশন অফিসের কাজ শেষ হতে তেমন সময় লাগেনা। এরা বেশ দ্রুতই কাজ করে এবং বন্ধুসুলভ। ইমিগ্রেশেনের কাজ শেষ করে চলে যাই টাকা কে রুপিতে কনভার্ট করতে। এখানে অনেক মানি এক্সচেঞ্জ এর দোকান রয়েছে। দরদাম করে যে ভাল রেট দিবে তার কাছেই টাকা কনভার্ট করবেন। আমরা শ্যামলী পরিবহনের যে মানি এক্সচেঞ্জের দোকান রয়েছে ওই খান থেকেই টাকা কনভার্ট করি। এরা ভালো রেট দেয়। এক্সচেঞ্জের এর রশিদ নিয়ে নিবেন, পরে দরকার হতে পারে। চেংড়াবান্দা থেকে বাস এবং ট্যাক্সি দুই ভাবেই জয়গাঁও যাওয়া যায়। বাসে গেলে ১০০ রুপি, আর ট্যাক্সি তে সাইজ ভেদে ১০০০ থেকে ২০০০ রুপি নিবে। ট্যাক্সি নিলে দরদাম করে নিবেন। আমাদের টিকিট যেহেতু শিলিগুড়ি পর্যন্ত তাই পাশেই অপেক্ষমান শ্যামলী পরিবহনের বাসে উঠে পড়ি।

ভারত: নভেম্বর ২২, সকাল ১০:১৩

বাস ছাড়ার সাথে সাথেই আমরা ড্রাইভার কে বলে রাখি আমরা ময়নাগুড়ি বাইপাস নামবো। ২০-২৫ মিনিটেই চলে আসি ময়নাগুড়ি। সেখানে নেমে এই প্রথম নিজেকে অসুরক্ষিত মনে হতে লাগলো। ভিন দেশ, ভিন্ন এলাকা, অন্নরকম মানুষ। যাই হোক সাহস করে একজন কে জিজ্ঞাসা করি, হাসিমারা যাবার বাস কোথায় থামে? উনি দেখায় দিলো, রাস্তার অন্য পাশে। একটা কথা বলে রাখি এখানকার লোকজন বাংলা, হিন্দি দুইটাতেই কথা বলে। তবে বাংলা একটু বেশিই বলে। ২০-২৫ মিনিট পরেই বাস চলে আসে। আমরা সবাই বাসে উঠে বসি। বাসে একটা জিনিস লক্ষ করলাম, বাসের কন্ডাক্টর পেন্ট শার্ট পরিহিত পড়ি পাটি, যেমনটা আমাদের দেশে দেখা যায় না। ভারতের রাস্তাগুলা অনেক চওড়া এবং ভালো। প্রায় দুই ঘন্টা পর আমরা চলে আসি হাসিমারা। ও আচ্ছা ময়নাগুড়ি থেকে হাসিমারা বাস ভাড়া ৫০ রুপি। সেখান থেকে টেম্পু তে করে চলে আসি জয়গাঁও, সময় নিলো ১০ -১৫ মিনিটের মতো। হাসিমারা – জয়গাঁও রাস্তাটা অনেক সুন্দর, দুই পাশে বিশাল বিশাল চা বাগান। এতো বিশাল এলাকা নিয়ে চা বাগান আগে দেখিনাই। টেম্পুর ড্রাইভার আমাদের কে জয়গাঁও ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসের গেটেই নামিয়ে দেয়। হেটে ভিতরে প্রবেশ করি, এক্সিট সীল নিয়ে পায়ে হেটে চলে আসি ভুটান গেইট।

ভুটানে প্রবেশ
জয়গাঁও ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে ভুটান গেইট দিয়ে পায়ে হেটে ভুটানের ফুন্টশোলিং শহরে প্রবেশ করি। গেইট কোনো চেকিং নাই, কোনো ফি নাই, মানুষ যে যার মতো প্রবেশ করছে আবার বের হচ্ছে। মনেই হচ্ছেনা এটা দুই দেশের বর্ডার। শহরে প্রবেশ করতেই আমাদের মন আশ্চর্য রকম ভালো হয়ে যায়। ঝকঝকে শহর, রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা নেই, গাড়ির হর্ন নেই। কত সুন্দর! ভুটান ইমিগ্রেশন অফিস ফুন্টশোলিং এ অবস্থিত, জাস্ট ভুটান গেইটের পাশে। এখান থেকে আমরা অন অ্যারাইভাল ভিসা নেই। এখানে ভিসা ফর্ম পুরণ করতে হবে, সাথে এক কপি ছবি, পাসপোর্টের কপি দেয়া লাগে। ভালো কথা সাথে বাংলাদেশ থেকে লেখার জন্য কলম নিয়ে আসলে ভালো হয়। এখান থাকে শুধু থিম্পু আর পারো শহর ভিসিট করার অনুমতি পাওয়া যায়। পুনাখা, হ্যাঁ ভ্যালী, বুমথাং ও অনন্য জায়গার অনুমতি পরে থিম্পু থেকে নিতে হবে। মনে রাখবেন ফুন্টশোলিং ইমিগ্রেশন অফিস শুধু মাত্র বাংলাদেশি আর বিদেশি (Europe/American etc) দের জন্য সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে, কোনো সরকারি বন্ধ নেই। বাংলাদেশিদের ভুটানিরা খুব সম্মান করে। ভুটান খুব পরিপাটি দেশ, তাই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না, সিগারেট খাবেন না, তাহলে জরিমানা করবে। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হবেন না। ক্রসিং এ দাঁড়ালে গাড়ি আপনা আপনি থেমে যাবে।

ভুটান গেটে আমি: নভেম্বর ২২, বিকাল ৩:৩৩

ফুন্টশোলিং থেকে ভিসা নিয়ে থিম্পু যাবার জন্য আমরা ছয় সিটের একটি জিপ গাড়ি ভাড়া করি। ভাড়া নিল ৩৩০০ রুপি। দরদাম করে গাড়ি ভাড়া করবেন এবং ড্রাইভার ভালো ইংরেজী বা হিন্দি বুঝেকিনা জিজ্ঞেস করে নিবেন। ফুন্টশোলিং থেকে থিম্পুর দুরুত্ব প্রায় ১৭০ কিলোমিটার। ফুন্টশোলিং থেকে থিম্পু বাসেও যাওয়া যায়। শেষ বাসের সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট, ভাড়া ২৪০ রুপি, সময় লাগবে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা। তবে আমার মতে ট্যাক্সি তে যাওয়াই ভাল, তাহলে কোনো জায়গা ভাল লাগলে নেমে ছবি তুলা যাবে। আপনে পরবর্তীতে যে কয়দিন ভুটানে থাকবেন তার গাড়িটি ব্যবহার করতে পারেন। ফুন্টশোলিং থেকে থিম্পু যাবার পথে পরবে গেদু, চুখা, বুনাখা, চাপচা শহর। এগুলা অনেক ছোট কিন্তু সুন্দর।

ফুন্টশোলিং এ একটু ঘুরাঘুরি করে, হালকা কিছু নাস্তা করে প্রায় সন্ধ্যার আগ দিয়ে আমরা থিম্পুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। ভুটানে তেমন কোনো সমতল ভূমি নাই, তাই সব রাস্তা আঁকাবাঁকা। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ দিয়ে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চলে। আমরা আশে পাশের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে থাকি আর আফসোস করতে থাকি আগে কেন আসলাম না। প্রায় ২-৩ ঘন্টা পর আমরা চুখা ড্যাম এর কাছে হোটেল ড্যাম ভিউ তে ডিনার করার জন্য নামি। এই প্রথম আমরা মারাত্মক ঠান্ডার কবলে পড়ি, সবাই কাঁপতে ছিলাম। দৌড়ে কোনোরকমে আমরা হোটেল প্রবেশ করি। গাড়ির ভিতরে এসি চলতে থাকায় বাহিরে যে এতো ঠান্ডা বুজতে পারিনাই।

ড্যাম ভিউ তে ভুটানি, ইন্ডিয়ান খাবার সহ চকলেট, চিপস, ড্রিঙ্কস সব কিছুই পাওয়া যায়। তবে ভুটানিরা খাবারে একধরণে মসলা ব্যবহার করে, আর মোটামোটি সব বাসা, অফিস, রেস্টুরেন্ট এ ধুপ ব্যবহার করে যা থেকে এক ধরণে ঘ্রান আসে। এগুলা একবার নাক দিয়ে ঢুকলে মাথায় সেট হয়ে যায়। তখন আর কোনো কিছু ভালো লাগেনা, কোনো খাবার ভালো লাগেনা। তাই চেষ্টা করবেন নাক বন্ধ রাখতে, আর পরিচিত খাবার খেতে, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান খাবার। ভুলেও ভুটানি খাবার ট্রাই করবেন না। তবে সব থেকে ভালো হয় চকলেট, ব্রেড, চিপস খেলে। ভুটানে এগুলা অনেক সস্তা। আর হ্যা ভুটানে বাংলাদেশী প্রাণ, বিড এগুলার সব পণ্যই পাওয়া যায়। আমরা ফ্রাইড রাইছ আর চাওমিন অর্ডার করি। কিছুক্ষন পরেই তারা ফ্রাইড রাইছ নিয়ে আসে। লম্বা চালের, প্রায় ৩০% সিদ্ধ, মটরশুটি আর সাথে কিছু সবুজ সবজির ফ্রাইড রাইছ। প্রথম চামিচ মুখে নিয়েই মাথা পুরাই নষ্ট। মুহূর্তের মাঝেই বিয়ার গ্রিলস এর জায়গায় নিজেকে খুঁজে পাই। মনে হচ্ছে দুর্ঘম কোনো স্থানে বিয়ার ভাই এর সাথে বসে অখাদ্য কিছু খাওয়ার চেষ্টা করছি। এমন ফ্রাইড রাইছ আমি তো দূরের কথা আমার চৌদ্দ গুষ্ঠির কেউ খাইছে কিনা সন্দেহ। যাই হোক খেতে তো হবে, তাই চোখ কান বন্ধ করে কিছুক্ষন গিলার চেষ্টা করি। চাওমিনের অবস্থাও একই রকম ছিল। আমরা আসলে এই ধরণে খাবারে অভ্যস্ত না। পরে কিছু চকলেট, চিপস, কোক নিয়ে আবার গাড়িতে উঠি।

ফ্রাইড রাইছ, হোটেল ড্যাম ভিউ: নভেম্বর ২২, রাত ৭:৪৪

চুখা থেকে ডিনার সেরে আমরা আবার থিম্পুর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। অতিরিক্ত উচ্চাতার জন্য অক্সিজেন কম থাকায় আমাদের অনেকেরই সমস্যা হইতেছিল। একজন তো বমি করা শুরু করলো। কম অক্সিজেনে এধরণের সমস্যা হতে পারে। অনেকের মাথা ঘুরায়, বমি বমি লাগে। এই সময় বেশি বেশি করে পানি খেতে, গাড়ির গ্লাস খুলে-বন্ধ করে বডিকে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করবেন। আমরা ঢাকা থেকেই হোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম। রাত ১১:৩০ দিকে ড্রাইভার আমাদের হোটেল নিউ গ্রান্ড এর সাঁমনে নামায় দেয়। থিম্পু তে গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথে সবাই শীতে থর থর করে কাঁপতেছিলাম, যদিও সবাই শীতের কাপড় পরে ছিলাম। হোটেলের গেইট বন্ধ থাকায় ২-৩ মিনিট আমাদের বাহিরে দাঁড়ায় থাকতে হয়। এই সময়ে সবার অবস্থা করুন হয়ে যায়। দ্রুত হোটেলে প্রবেশ করে রুমে ঢুকে রুম হিটার চালু করে সবাই কম্বলের নিচে ঢুকে পড়ি। তাপমাত্রা মেপে দেখি -২ ডিগ্রি!! জীবনে এই প্রথম মাইনাস তাপমাত্রায় সম্মুখীন হলাম। কিছুক্ষন পরে সব কিছু একটু নরমাল হলে হাত পা ধুয়ে ফ্রেস হলাম। হোটেল থেকে ওয়াইফাই এর পাসওয়ার্ড নিয়ে ঢাকায় পরিবারের সাথে কথা বললাম। আপনারা হোটেল নেবার আগে ওয়াইফাই, গিজার্ড, রুম হিটার আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিবেন। না হলে ঠান্ডায় জমে যাবেন। হোটেল নিউ গ্রান্ড এর পরিবেশ খুব ভাল। এখানে ওয়াইফাই, গিজার্ড, রুম হিটার সব কিছুই রয়েছে। রুম, টয়লেট খুবই পরিষ্কার পরিছন্ন। হোটেল থেকে বাহিরের ভিউ অনেক সুন্দর। হোটেল মালিক সোনাম খুবই ভালো এবং সুন্দরী। হোটেলের খাবার একটু ব্যয়বহুল তবে টেস্টি। আপনারা চাইলে এখানে উঠতে পারেন। পাশে AB নাম আরেকটা হোটেল রয়েছে। AB হোটেলের মালিক ইন্ডিয়ান, তাই সেখানকার খাবার দাবার সব আমাদের জন্য উপযোগী এবং টেস্টি। নিউ গ্রান্ড আর  AB হোটেল থিম্পুর মধ্যে এই দুই হোটেলের খাবার দাবার ভালো। আপনার নিউ গ্রান্ড এ থাকতে পারেন আর AB হোটেলের খাবার খেতে পারেন। আমরাও পরে তাই করেছি। রাতে তাপমাত্রা আরো ২-৪ ডিগ্রি কমে যায়। সবাই খুব ক্লান্ত, তাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি।

ভুটানে কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবার খাবেন?
ঝামেলা এড়াতে আপনে আগে থাকেই একটা হোটেলে রুম বুক করে রাখতে পারেন। ঢাকা থেকে গুগল সার্চ করে ফোন নাম্বার বের করে ফোন করে সব বুক করা যায়। মনে রাখা ভালো, ভুটানে দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট সব কিছুই রাত ৭:৩০ থেকে ৮:৩০ এর মধ্যে বন্ধ হয় যায় (দু-একটি দোকান শুধু খোলা থাকে)। তাই হোটেল বা রুম ঠিক না করলে আর ডিনার না করে নিলে খবর আছে। ভুটানে দামি, কম দামি সব ধরনেরই হোটেল আছে। হোটেলে অবশ্যই দামাদামি করে উঠবেন। যেমন ৭০০-৮০০ রুপি থেকে ১৫ হাজার ++ রুপি পর্যন্ত। আপনি সর্বমিম্ন ৮০০ রুপি আর সর্বোচ্চ ১৫৪০ রুপি দামের হোটেলে থাকতে পারেন। সবগুলো হোটেলই থাকার জন্য নিরাপদ। তবে ভুটানে ইন্টারনেট একটু স্লো। আপনারা চাইলে একটা ভুটানি সিম কার্ড কিনে নিতে পারেন। আর নিতান্তই দরকার পড়লে ড্রাইভার এর ফোন অথবা হোটেল থেকে দেশে কথা বলতে পারেন। ভুটানে প্রচুর ফ্রেস ফল পাওয়ায় যায়। চেষ্টা করবেন সেগুলা বেশি বেশি খেতে। আমরা প্রতিদিন সকালের নাস্তার সাথে ৩-৪ টা করে ডিম খেয়ে নিতাম। এতে প্রচুর এনার্জি পাওয়া যায়, আর সারা দিন তেমন ক্ষুধা লাগতোনা।

খুচরা কিছু টিপস
ভুটানিরা খুবই অলস জাতি এবং ঘুম কাতুরে। এরা তেমন চাষবাস করেনা অবশ্য সমতল জমিও নাই। খাবার, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ঔষধ, জামাকাপড়, ইত্যাদি সব দরকারি জিনিসপত্রই আসে ভারত থেকে। প্রতিদিন সকালে প্রায় ৪০০ গাড়ি ফুন্টশোলিং থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে ভুটানের বিভিন্ন শহরে আসে। এরা দৈনিক প্রায় ১২-১৪ ঘন্টা ঘুমায়। তাই সকাল সকাল বের হতে চাইলে আগে থেকেই বলে রাখবেন। ট্যাক্সি, হোটেল দামাদামি করে নিবেন। এরা খুবই শান্তশিষ্ট, তাই অহেতুক এদের খেপাবেন না। কোনো কিছু দরকার হলে পুলিশ কে বলবে। এরা খুবই হেল্পফুল। ভুটানি পুলিশের সাথে কথা বললে আপনার বাংলাদেশী পুলিশ সম্পর্কে ধারণা পাল্টে যাবে। তারা তাদের দেশ কে সব সময় পরিষ্কার পরিছন্ন রাখে। তাই পরিবেশ নোংরা করবেন না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বা সিগারেট খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হবেন না। তাদের রাজাকে নিয়ে বাজে কিছু বলবেন না। সব সময় খরচ কমানোর চিন্তা করবেন। জামাকাপড় না কিনাই ভালো। ভুটানে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের কয়েকগুন। তাই সব দোকানপাট, রেস্তোরায় মেয়েই বেশি দেখা যায়। তাদের সম্মান করবেন, নিজেকে সংযত রাখবেন। আপনে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন তা তাদের সাথে শেয়ার করবেন। বাংলাদেশীদের এরা খুব সম্মান করে এবং ভালো জানে। চেষ্টা করবেন তা ধরে রাখতে। ভুলেও কলকাতার কথা বলবেন না। তাহলে খেপে যাবে।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। ভুটান ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

ফ্যাশন স্কয়ার

বাংলাদেশের ভোলা জেলার সব থেকে বড় উপজেলা হচ্ছে চরফ্যাশন উপজেলা। এর আয়তন প্রায় ১১০৬.৩ বর্গ কিলোমিটার। এটি এক সময় বাকেরগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জে. এইচ ফ্যাশনের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় চরফ্যাশন। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ১৮৮৫-১৮৮৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে দশটি শিক্ষিত পরিবার এবং দশটি উখরাইট পরিবার এনে এখানে প্রথম অভিবাসন গড়ে তোলেন। প্রথম গড়ে ওঠা দুই পল্লী ‘ভদ্রপাড়া’ ও ‘উখরাইট পাড়া’ নামে এখনো রয়েছে। এই উপজেলা পর্যটনের জন্য খুবই পরিচিত। এর আসে পাশে রয়েছে অসংখ্য দ্বীপ যেমন: চর কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চরনিজাম, চরপাতিলা ইত্যাদি। এখানকার ইলিশ মাছ খুবই টেস্টি এবং বিখ্যাত। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এখানে নির্মিত হচ্ছে বহু আধুনিক স্থপনা। ফ্যাশন স্কয়ার তার মধ্যে অন্যতম।

ফ্যাশন স্কয়ার
ফ্যাশন স্কয়ার (Fashion Square) বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সব থেকে সুন্দর জায়গা। এটি চরফ্যাশন পৌর ভবনের পাশেই অবস্থিত। এই জায়গায় একসময় ছিল মজাপুকুর, আবর্জনা ফেলার স্থান, বস্তি। পাশেই চরফ্যাশন বাজার, বাজারের সব ময়লা আবর্জনা এখানে এনে ফেলা হত। সবাই এসে মল ত্যাগ করত। বর্তমানে এখানকার অবস্থা আর আগের মত নাই। সব আবর্জনা পরিষ্কার করে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে সুউচ্চ টাওয়ার, শিশুপার্ক, সারিবদ্ধ বিপণিবিতান, রেস্টুরেন্ট, শহীদ মিনার, চরফ্যাশন পৌর ভবন। এর মাঝখানে রয়েছে চারদিকে পাড় বাঁধানো সুন্দর এক পুকুর, প্রশস্ত খোলা চত্বর। পুকুরের পানি খুবই পরিষ্কার। বিকালে পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দেয়ার জন্য স্থানটি খুবই আদর্শ। রাতের দৃশ্য আরো চমৎকার। নান ধরণের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে পুরা এলাকা। মুহূর্তের জন্য হলেও মনে হবে আপনে রয়েছে বিদেশের কোনো শহরে।

Fashion Square bhola
টাওয়ারের উপর থেকে ফ্যাশন স্কয়ার, চরফ্যাশন

জ্যাকব টাওয়ার
জ্যাকব টাওয়ার (Jacob Tower) বা চরফ্যাশন টাওয়ার বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ফ্যাশন স্কয়ার এ অবস্থিত। ভোলা শহর থেকে এর দুরুত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। অনেকটা আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত বলে একে বাংলার আইফেল টাওয়ার বলা হয়। এই টাওয়ার এর উচ্চতা ২২৫ ফুট যা প্রায় ২১ তলা ভবনের সমান। এটি বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সব থেকে উঁচু টাওয়ার। টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। মাটির প্রায় ৭৫ ফুট নিচ থেকে পাইলিং করে সম্পূর্ণ ইস্পাত কাঠামোর উপর নির্মিত এই টাওয়ার ৮ মাত্রার ভূমিকম্পন সহনীয়। ভূমির উপরিভাগ থেকে টাওয়ারের উপরে থাকা গম্ভুজ আকৃতির ওয়াচ পয়েন্ট পর্যন্ত চারদিকে রয়েছে ৫ মিলিমিটার ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস। প্রতিটি তলায় ৫০ জন ও পুরো টাওয়ারে ৫০০ জন দর্শক একসাথে অবস্থান করতে পারবে। টাওয়ারে ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি রয়েছে অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট, যেখানে ১৩ জন একসাথে উঠতে পারে। পর্যটকদের আকৰ্ষণ করার জন্য প্রায় সব ব্যবস্থাই এখানে রয়েছে। এর চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পূর্ণ বাইনোকুলার, যার সাহায্যে বঙ্গোপসাগরের একটি অংশসহ চারপাশের প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখা যাবে। এছাড়া ও এখানে রয়েছে বিশ্রামাগার, হালকা খাবারের ব্যবস্থা। টাওয়ারের শীর্ষে দাঁড়িয়ে দেখা মিলবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর কুকরি-মুকরির নয়নাভিরাম সবুজের সারি।

টাওয়ারে প্রবেশে করার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে টিকেট কাটা লাগে। উপরে উঠে আপনার খুবই ভালো লাগবে। মনে হবে আপনি যেন হিমালয় এর কোন চূড়ায় উঠে গেছেন। নিচের মানুষ গুলো কে পিঁপড়ার মতো ছোট ছোট লাগবে।

চরফ্যাশন শিশুপার্ক
চরফ্যাশন শিশুপার্ক (Charfashion Shishu Park) ফ্যাশন স্কয়ার এর পাশেই অবস্থিত। শিশুপার্ক টির নাম শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক। পার্কটিতে রয়েছে : রেলগাড়ি, বোট, ৯ডি মুভি থিয়েটার, হুইল সহ আরো নানান ধরণের রাইডস । পার্কটিতে আসলে বাচ্চারা অনেক খুশি হবে।

টিকিট এর মূল্য
এন্ট্রি ফী ৩০ টাকা (৫ বছরের কম কোনো টিকেট লাগবেনা )
বিভিন্ন রাইড ৩০, ৫০ টাকা

কিভাবে যাবেন?
ফ্যাশন স্কয়ার দেখার জন্য আপনাকে আসতে হবে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায়। চরফ্যাশন আপনি বিভিন্ন ভাবে যেতে পারেন। তবে সব থেকে সহজ উপায় হলো লঞ্চ। প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট থেকে ভোলা শহর এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন জায়গার উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চ থেকে নেমে বাস বা অটোতে করে চলে আসবেন চরফ্যাশন। তবে সব থেকে সহজ পথ হলো সরাসরি চরফ্যাশন এর লঞ্চ ব্যবহার করা। সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে চরফ্যাশন এর উদ্দেশে বেশ কিছু লঞ্চ ছেড়ে যায়। কর্ণফুলী-১২, কর্ণফুলী-১৩, ফারহান, ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। তার মধ্যে কর্ণফুলী-১২, কর্ণফুলী-১৩ খুবই সুন্দর এবং বিলাস বহুল। এগুলা ভোর ভোর পৌঁছে যায় বেতুল লঞ্চ ঘাট। সেখান থেকে অটো রিক্সায় চলে আসবেন চরফ্যাশন বাজার। আর বাজারেই ফ্যাশন স্কয়ার।

সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!