পেহেলগাম বা প্যাহেলগাম (Pahalgam) ভারতের জন্মু এন্ড কাশ্মীর রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার এক পর্যটন শহর। এটি রাজধানী শ্রীনগর থেকে প্রায় ১০০ কিঃমিঃ দূরে লিডার নদীর তীরে অবস্থিত। এর গড় উচ্চতা প্রায় ৭,২০০ ফুট। এটি খুবই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট এংব হিল স্টেশন। নদী-উপত্যকাশোভিত, নয়নাবিরাম সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভুমি হচ্ছে এই পেহেলগাম।

পেহেলগামের ইতিহাস
কাশ্মীরি ভাষায় নাগ মানে ঝর্ণা এবং অনন্ত মানে অসংখ্য। একসাথে অনন্তনাগ মানে অসংখ্য ঝর্ণা। স্থানীয়রা একে ইসলামাবাদ নামে ডাকে। সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৭০০ সালে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। পরে কাশ্মীরের মহারাজা গোলাব সিং ১৮৫০ সালের দিকে আবার এর নাম রাখেন অনন্তনাগ। কাশ্মীরে সব গ্যাঞ্জাম মূলত এই অনন্তনাগ থেকেই শুরু হয়। স্থানীয় ভাষায় পেহেলগাম শব্দের অর্থ ভেড়াওয়ালাদের গ্রাম। এক সময় ভেড়া ও বকরি চরানো ছিল এখানকার মূল বাসিন্দাদের আদি পেশা। পাহাড়ি এই দরিদ্র মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘গুজার’ও বলা হয়। তারা বিভিন্ন মালিকের কাছ থেকে ভেড়া ও বকরি চরানোর জন্য নেয়। গ্রীষ্মকালজুড়ে সেগুলোকে পাহাড়ে-উপত্যকায় চরিয়ে বেড়ায়। শীতের শুরুতে আবার মালিকের কাছে ফেরত দিয়ে দেয়।

তবে পেহেলগাম এখন আর গুজারদের এলাকা নয়। এটি এখন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সময় কাটানোর দারুণ এক গন্তব্য। অগণিত প্রকৃতিপ্রেমিক এই নৈস্বর্গিক সুন্দরের কাছে গিয়ে দিনের পর দিন অতিবাহিত করে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি তীব্র তুষারপাতের কারনে পর্যটকের সংখ্যা অনেক কমে যায়। অনেক হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালেই পেহেলগাম বেশি সুন্দর থাকে এবং বেশি পর্যটক আসে।

পেহেলগাম এর দর্শনীয় স্থানসমূহ
পেহেলগাম এ দেখার মত বেশ কিছ সুন্দর সুন্দর স্থান রয়েছে। তার মধ্যে উলেখযোগ্য হলো: মিনি সুইজারল্যান্ড খ্যাত বাইসারান, লিডার নদী, পেহেলগাম ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি, আরু ভ্যালি, তুলিয়ান ভ্যালী, পেহেলগাম ভিউপয়েন্ট, কাশ্মীর ভ্যালী ভিউপয়েন্ট, চন্দনওয়ারী, কানিমার্গ, ওয়াটারফল, ধাবিয়ান, মামলেশ্বর মন্দির, কোলাহাই হিমবাহ ইত্যাদি। সবগুলা স্পট দেখতে হলে ২-৩ দিন সময় লেগে যাবে।

লিডার নদী
লিডার কাশ্মীরের এক পাহাড়ি নদী। এটি কোলাহাই হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে জেহলাম নদীতে গিয়ে মিশেছে। এর দৈর্ঘ প্রায় ৭৩ কিঃমিঃ। এই লিডার ভ্যালি তেই পেহেলগাম। লিডার নদীর গর্জন খুবই তীব্র। এখানে আসলে চেষ্টা করবেন লিডার নদীর পারেই কোনো কর্টেজে থাকতে। কর্টেজ থেকে সামনের ভিউ অসাধারণ। কর্টেজের সামনে ছোট বাগান থাকে, যেখানে কিছু চেয়ার দেয়া থাকে বসে চা নাস্তা খাবার জন্য। বাগানের জাস্ট নিচেই লিডার নদী যার পানি স্বচ্ছ নীল। নদীতে নামার জন্য সিঁড়ি দেয়া থাকে।

মিনি সুইজারল্যান্ড বা বাইসারান
পেহেলগামের সব থেকে সুন্দর জায়গা বাইসারান, যাকে সবাই বলে মিনি সুইজারল্যান্ড। এখানে টিকেট কেটে ভিতরে যেতে হয়। ভিতরে ঢুকেই মাথা পুরা নষ্ট হয়ে যাবে। এতদিন ক্যালেন্ডার এ যেমন ছবি দেখেছেন অবিকল তেমন এটি। ঘন পাইনের বনের ভিতর অনেক বড় ফাঁকা জায়গা। পুরাটাই সবুজ, যেন কার্পেট বিছানো। জায়গাটা পুরা সমতল না, মাঝে মাঝে হালকা কিছু কার্ভ আছে। দূরে পাহাড়ের মাথায় সাদা সাদা বফর জমে আছে। সুইজারল্যান্ডে সাধারণত এমন দৃশ্য দেখা যায়। এই জন্যই হয়তো একে বলে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড।

এখানে জিপ লাইনিং করার ব্যবস্থা আছে। দুই পাশে দুই গাছের সাথে একটি সরু তার বাধা। মানুষকে ওই তারের সাথে রশি দিয়ে আটকিয়ে ছেড়ে দেয়। আর তারা তাদের দেহের ভারে সামনে এগিয়ে চলে। আপনারা দামাদামি করে নিবেন। প্রতিজন ২০০ রুপি নিবে। তেমন উঁচুতে না হলেও দারুন মজা।

এখানে জর্বিং খেলা যায়। বিশাল এক বলের ভিতর দুইজনকে বেঁধে ঢালু জমিতে ছেড়ে দেয়। আর ওটা গড়িয়ে গড়িয়ে চলতে থাকে। সাহস থাকলে টিকেট কেটে উঠে পড়ুন। ১৫০ রুপি করে প্রতি টিকেট নিবে। প্রথেম একটু ভয় পেলেও পরে দারুন মজা। তবে এখানে উঠার জন্য ওজন ৮০ কেজির ভিতরে থাকা লাগে।

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো জানালে ভালো হয়। কাশ্মীর ভ্রমণের সবগুলো ভিডিও দেখার জন্য আমাদের ইউটিব চ্যানেল ভিসিট করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন। প্রতিদিনকার কর্মকান্ড জানতে আমাদের ফেইসবুক পেজ ভিসিট করুন এবং লাইক করুন। আপডেট পেতে টুইটার, গুগল প্লাস এ ও আমাদের ফলো করতে পারেন। সবাই কে ধন্যবাদ। হ্যাপি ট্রাভেলিং!!

Published by রাশেদুল আলম

আমি পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। টেকনোলজি নিয়ে কাজ এবং লেখালেখি করলেও ঘুরে বেড়াতে আমার ভীষণ ভাল লাগে। তাই যখনই সময় পাই বেড়িয়ে পরি। সবুজ প্রকৃতি আমায় সব সময়ই কাছে টানে। আমি অনেককেই দেখেছি কোনো প্রকার প্রস্তুতি ছাড়াই ঘুরতে বেড়িয়ে পরে। আর নানা ধরণের ঝামেলায় পরে। অথচ ইন্টারনেট ঘেটে একটু ধারণা নিয়ে আসলেই তাদের ট্যুর টা অনেক ভাল হতে পারতো। তাই নিজের অভিজ্ঞতা গুলোকে এখানে শেয়ার করার চেষ্টা করি, যাতে অন্যরা উপকৃত হতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *