চট্টগ্রাম

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

সেন্ট মার্টিন

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ (Saint Martin Island) অপূর্ব সুন্দর এক প্রবাল দ্বীপ। নীল আকাশের সাথে সমুদ্রের নীল জলের মিতালী, সারি সারি নারিকেল গাছ, ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলা গাঙচিল এই দ্বীপকে করেছে অনন্য। এর অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ কে বার বার কাছে টেনে আনে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এর আয়তন প্রায় ১৭ বর্গ কিলোমিটার। এখানে প্রচুর নারিকেল গাছ পাওয়া যায় বলে স্থানীয় ভাবে একে “নারিকেল জিঞ্জিরা” বলা হয়। এটি দারুচিনির দ্বীপ হিসেবেও পরিচিত। কথিত আছে বহু বছর আগে আরবের দারুচিনি ভর্তি এক জাহাজ এখানে ডুবে যায়। আর দ্বীপের সবখানে দারুচিনি ছড়িয়ে পরে। তার পর থেকে এর নাম হয় যায় দারুচিনির দ্বীপ।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কোথায় অবস্থিত

সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত। টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে ও মায়ানমার এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় এর অবস্থান। দ্বীপটি সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ এর আওতাধীন। এই ইউনিয়নের গ্রাম গুলো হলো:- উওরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, পূর্ব পাড়া, পশ্চিমপাড়া, নজরুল পাড়া, মাঝেরপাড়া, ডেইলপাড়া, কোনারপাড়া, গলাচিপাপাড়া।

নামকরণ

১৯০০ খ্রিস্টাব্দে দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সেন্ট মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয় সেন্টমার্টিন।

সেন্ট মার্টিন কিভাবে যাবেন

সেন্ট মার্টিন যেতে হলে প্রথমে আসতে হবে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ। রাজধানী ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি টেকনাফে যাওয়া যায়। ঢাকার কলাবাগান, ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির এসি/নন এসি বাস সরাসরি টেকনাফ যায়। এদের মধ্যে শ্যামলী, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ঈগল, এস আলম, মডার্ন লাইন, গ্রীন লাইন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বাসে সময় নিবে ১০/১২ঘন্টা। বাস ভাড়া ৯০০ থেকে ২৫০০ টাকা।

অথবা ঢাকা থেকে বাস/প্লেনে প্রথমে কক্সবাজার এসে তারপর কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়া যায়। কক্সবাজার থেকে লোকাল বাস, প্রাইভেট কার, জিপ ভাড়া করে টেকনাফ যাওয়া যায়। সময় নিবে ২ ঘন্টা।

প্রতিদিন বেশ কিছু জাহাজ টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে রুটে আসা-যাওয়া করে। তাদের মধ্যে কুতুবদিয়া, কেয়ারী সিন্দাবাদ, ঈগল, সুন্দরবন ও গ্রীনলাইন ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য। জাহাজগুলো সকাল ৯.০০ থেকে ৯.৩০ মিনিটে টেকনাফ থেকে ছেড়ে যায়। বিকাল ৩.০০ থেকে ৩.৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়ে যায়। তাই সময়ের আগে জেটি ঘাটে উপস্থিত না হতে পারলে জাহাজ মিস হবার সম্ভাবনা আছে।

জাহাজের শ্রেনীভেদে আপ-ডাউন ভাড়া ৫৫০/৮০০ টাকার মত। এছাড়া ট্রলার এবং স্পিডবোট দিয়েও যাওয়া যায় সেন্ট মার্টিন। ট্রলার ভাড়া ৮০০ টাকার মতো। অথবা জন প্রতি ১০০ টাকা করেও যেতে পারেন। তবে ট্রলারে যাওয়া লাইফ রিস্ক। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

কখন যাবেন

জাহাজ গুলো সধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ এই পাঁচ মাস পর্যন্ত চলাচল করে। এই সময় ছাড়া অন্য সময়ে গেলে ট্রলার কিংবা স্পিডবোট দিয়ে যেতে হবে। তবে শীত মৌসূম ছাড়া বাকি সময় সাগর উত্তাল থাকে। তাই ওই সময়ে ভ্রমণ নিরাপদ নয়।

কোথায় থাকবেন

সেন্ট মার্টিনে রাতে থাকার জন্য বেশ কিছু উন্নত মানের হোটেল ও কটেজ রয়েছে। এছাড়াও অনেক বাড়িতে পর্যটকদের জন্য থাকার সুব্যবস্থা আছে। রুম এর ভাড়া সিজন এর সময় কোন নির্দিষ্ট নেই। ট্যুরিস্ট কম বেশি হলে ভাড়া সেভাবে বাড়ে কমে।

ছুটির দিন গুলোতে সাধারণত বাড়ে। সিজনে ১৫০০/২০০০ টাকার কমে রুম পাওয়া কষ্টকর। আর অফ সিজনে ৭০০/১২০০ টাকায় রুম পাওয়া যায়। রিসোর্টের প্রতি রুমে ৪ জন করে আরামে থাকা যায়। চেক আউট সময় ১১ টা।

আবাসিক হোটেলগুলো মূলত বাজারের আশেপাশে অবস্থিত। আর রিসোর্টগুলো পূর্ব ও পশ্চিম বীচের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। সুযোগ সুবিধার দিক থেকে রিসোর্টগুলো হোটেলের চেয়ে অনেক ভালো। বেশিরভাগ রিসোর্টের রয়েছে নিজস্ব রেস্তোরাঁ, বার-বি-কিউ এর ব্যবস্থা। আর বীচের পারে হওয়াতে এগুলো থেকে বেশ ভালো ভাবে সমুদ্র উপভোগ করা যায়। এগুলোর অসুবিধা একটাই। বাজার বা মেইন জেটি থেকে কিছুটা দূরে।

সেন্ট মার্টিনে পরিচিতি কিছু হোটেল, রিসোর্ট

কিছু হোটেল এবং রিসোর্টের নাম, ফোন নাম্বার নিচে দেয়া হলো। সবগুলোর লোকেশন গুগল ম্যাপস এ দেয়া আছে। যাবার আগে কষ্ট করে একটু দেখে নিলে ভালো হয়।

  • কোরাল ভিউ রিসোর্ট (Coral View Resort): ভাড়া ৩০০০/৬৫০০ টাকা। ফোন ০১৯৮০০০৪৭৭৮, ০১৭১৩১৯০০১৩
  • ব্লু মেরিন রিসোর্ট (Blue Marine Resort): ভাড়া ২৫০০/৬০০ টাকা। ফোন ০১৭১৩-৩৯৯০০১, ০১৮১৭-০৬০০৬৫
  • প্রাসাদ প্যারাডাইস রিসোর্ট (Praasad Paradise Resort): ভাড়া ২৫০০/৬০০ টাকা। ফোন ০১৯৯৫-৫৩৯২৪৮, ০১৮৮৩-৬২৬০০৩
  • নীল দিগন্তে রিসোর্ট (Neel Digante Resort): ভাড়া ১৫০০/৫০০০ টাকা। ফোন ০১৭৩০-০৫১০০৪
5 1 ভোট
রেটিং

লেখক

রাশেদুল আলম

আমি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ট্রাভেল ফটোগ্রাফার। তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করলেও ঘুরে বেড়াতে ভীষণ ভালোবাসি। নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান কে এই ওয়েব সাইটে নিয়মিত শেয়ার করার চেষ্টা করি।

1 মন্তব্য
Inline Feedbacks
সব মন্তব্য দেখুন
''
1
0
আমরা আপনার অভিমত আশা করি, দয়াকরে মন্তব্য করুনx
()
x